1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি বিরোধে জনসংখ্যার ভূমিকা

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ইসরায়েলকে একাধিকবার সাবধান করে দিয়েছেন যে, ইসরায়েল অধিকৃত এলাকাগুলি না ছাড়লে কালে ইসরায়েল একটি দ্বিজাতিবিশিষ্ট দেশ হয়ে উঠতে পারে৷

জন কেরি আপাতত যে শান্তি প্রচেষ্টায় লিপ্ত তা-তে একটি মোক্ষম যুক্তি হলো এই যে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় ইসরায়েলিরা ফিলিস্তিনিদের থেকে পিছিয়ে পড়ছে৷ গতমাসেই জন কেরি বলেন যে, শীঘ্র একটি শান্তি চুক্তির কাঠামো নির্দিষ্ট না হলে ‘‘একটি গণতান্ত্রিক ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে (ইসরায়েলের) ভবিষ্যৎ'' নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে উঠবে৷

যুক্তিটা ইসরায়েলিদের মনে নাড়া দিয়েছে৷ গত সোমবার ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী ইয়্যার লাপিদ এই যুক্তিকে কেরির সাফল্য কেন কাম্য, তার মূল কারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন৷ লাপিদ বলেন: ‘‘আমরা ফিলিস্তিনিদের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে যতো দেরী করব, ততই সেটা ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অস্তিত্বের পক্ষে একটি স্পষ্ট বিপদ হয়ে উঠবে৷''

ইসরায়েল যদি অধিকৃত এলাকাগুলি দখল করে রাখে, তাহলে ইসরায়েলের জন্য মাত্র দু'টি পথ খোলা থাকবে: হয় হৃতাধিকার ফিলিস্তিনিদের উপর সংখ্যালঘু ইসরায়েলিদের শাসন; নয়ত ফিলিস্তিনিদের ভোটাধিকার

John Kerry 2.2.2014

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি

দিয়ে দেখতে হবে, ঐতিহাসিক প্যালেস্টাইনে ইহুদিদের একটি নিজস্ব স্বদেশের স্বপ্নের কিভাবে সলিলসমাধি ঘটে৷

ভারসাম্য বদল

বিংশ শতাব্দীতে সেই প্যালেস্টাইন বা ফিলিস্তিনে আরব-ইহুদি জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলে যায় একদিকে ইহুদি অভিবাসন এবং অপরদিকে যুদ্ধের কারণে আরবরা উদ্বাস্তু হওয়ার কারণে৷ জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিস্তিনে যখন ব্রিটিশ শাসন শুরু হয়, তখন ঐতিহাসিক প্যালেস্টাইনে প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের বাস ছিল: তাদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ মুসলিম, ১১ শতাংশ ইহুদি এবং ১০ শতাংশ খ্রিষ্টান – এক্ষেত্রে আবার খ্রিষ্টান ও মুসলিমরা সকলেই মোটামুটি জাতিতে আরব ছিল৷

১৯৪৭ সাল জাতিসংঘের ভোটে প্যালেস্টাইনে ব্রিটিশ শাসনের অন্ত ঘটে এবং ফিলিস্তিনকে ‘‘স্বাধীন আরব ও ইহুদি রাষ্ট্রে'' বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ সে সময় এলাকার ১৮ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৬০ শতাংশ মুসলিম, ৩১ শতাংশ ইহুদি এবং আট শতাংশ খ্রিষ্টান ছিল৷ এর পরের যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনিরা পরবর্তীকালের ইসরায়েলের এলাকা থেকে পালায় কিংবা বিতাড়িত হয়, এছাড়া বহু ইহুদি নতুন ইসরায়েল দেশটিতে অভিবাসী হন৷ ফলে দেখা যায়, ১৯৫০ সালে ইসরায়েলের জনসংখ্যার ৮৭ শতাংশ ছিল ইহুদি৷

সে যুদ্ধে জর্ডান ও মিশর যথাক্রমে পশ্চিম জর্ডান ও গাজা স্ট্রিপ দখল করে৷ ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল ঐ এলাকা দু'টি অধিকার করার পর জনসংখ্যার অঙ্ক আবার বদলে যায়৷ বর্তমানে ইসরায়েল, পূর্ব জেরুসালেম, পশ্চিম জর্ডান ও গাজা স্ট্রিপ মিলিয়ে মোট এক কোটি বিশ লাখ মানুষের বাস৷ ২০১৩ সালে শুধু ইসরায়েলের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৮১ লাখ – এ হলো ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের তথ্য৷ ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান তার সঙ্গে জুড়লে যে ছবিটা পাওয়া যায়, তা হলো এই যে, হোলি ল্যান্ডে আজ ৬১ লাখ ইহুদি এবং প্রায় ৫৮ লাখ আরবের বাস৷

যার অর্থ, দেশবিভাগের চুক্তি ছাড়া ইহুদিরা একদিন তাদের স্বদেশেই সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে৷ জন কেরি ঠিক সেই ভীতিটাকেই কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন৷

এসি/ডিজি (এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়