1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ইসরায়েলে আরব সাংসদ হানিন জোয়াবি

ইসরায়েলের সংসদ ক্নেসেটে ১২০ জন সাংসদের মধ্যে মাত্র এগার জন আরব সাংসদ রয়েছেন৷ তার মধ্যে মাত্র একজন মহিলা৷ তিনি হানিন জোয়াবি৷ তিনি বালাদ পার্টির রাজনীতিক৷ তবে খুব সহজভাবে জোয়াবিকে গ্রহণ করা হচ্ছে না৷

default

জোয়াবি হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদিকতা এবং দর্শন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন

গত দু বছর ধরে হানিন জোয়াবি ইসরায়েলের সংসদ সদস্য৷ বেশ উচ্চস্বরে হাসেন তিনি, সারাক্ষণ হাসিখুশি থাকেন৷ তবে গাজা এলাকার জন্য ত্রাণবাহী জাহাজজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার কারণে তিনি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন৷ সম্মুখীন হচ্ছেন প্রতিকূল পরিবেশের৷ প্রকাশ্যে ঘৃণিত হয়েছেন৷ ইসরায়েলের প্রতি তিনি অনুগত নন – এমন অভিযোগও উঠেছে৷ ইসরায়েলি সংসদে সরাসরি তাকে বলা হয়েছে ‘গাদ্দাফির কাছে ফিরে যা তুই, তুই একজন সন্ত্রাসী, অন্য যে কোন দেশে তুই জেলে যাবি'৷

শুধু গালিগালাজেই থেমে থাকেনি৷ একজন সাংসদ হিসেবে যে সব সুযোগ সুবিধা তার প্রাপ্য তার সবটাই কেড়ে নেয়া হয়েছে৷ একজন কূটনীতিক হিসেবে যেসব সুযোগ সুবিধা তিনি এতদিন পেয়েছেন তা আর তিনি পাচ্ছেন না৷ এখন তিনি আশঙ্কা করছেন সাংসদ হিসেবে যে মর্যাদা তিনি পেতেন তাতে হস্তক্ষেপ করা হবে এমনকি তার ইসরায়েলি নাগরিকত্বও বাতিল হতে পারে৷ জোয়াবি বললেন, ‘‘একজন মানুষ হিসেবে বা একজন নারী হিসেবে আমি নিজেকে নিয়ে চিন্তিত নই৷ কারণ আমি জানি, আমি যা করছি যা বলছি তা কখনোই আইনের পরিপন্থী নয়৷ অবৈধ কিছু আমি করিনি বা বলিনি৷ তবে একজন রাজনীতিক হিসেবে আমি চিন্তিত৷ কারণ ইসরায়েল সরকার সবসময়ই চেষ্টা করছে আমাদের সংগ্রামকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করতে৷ আমাদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করতে৷''

Benjamin Netanjahu bei seiner Vereidigung in der Knesset als Ministerpräsident

ইসরায়েলের সংসদ ক্নেসেটে ১২০ জন সাংসদের মধ্যে মাত্র এগার জন আরব সাংসদ রয়েছেন

আরব রাজনীতিকরা ইসরায়েলে সমনাধাকিরারের লক্ষ্যে সংগ্রাম করে যাচ্ছে৷ জোয়াবি হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদিকতা এবং দর্শন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন৷ ইসরায়েলে বসবাসরত আরবদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার তিনি৷ ইসরায়েলে প্রায় বারো লক্ষ আরবের বাস৷ প্রায় ২০ শতাংশ ইসরায়েলি আরব বংশোদ্ভূত৷ এবং তারা অভিবাসী নয়৷ তারা অরব-ইসরায়েলি৷

জোয়াবি আরো জানান, ‘‘আমি তাদের প্রতিনিধিত্ব করি যারা ইসরায়েলে এসে পৌঁছায়নি৷ বরং যারা সবসময়ই এখানে ছিল, যারা এখানে জন্মেছে, বড় হয়েছে৷ ইসরায়েল আমাদের কাছে এসেছে৷ ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বহিষ্কার করে৷ আর এখন ইসরায়েলকে আমরা বলছি,‘‘আমাদের দেশ তোমাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে আমরা প্রস্তুত৷'' আমি বলতে চাই, এটা ইউরোপের কোন ব্যাপার নয়৷ সিদ্ধান্তটা আমাদের যারা এখানকার আদি বাসিন্দা৷''

হানিন জোয়াবির জন্ম গালিলেয়ার নাজারেথে৷ ইতিহাস বিজড়িত শহর নাজারেথ৷ কারণ সেখানে খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীরা জড়ো হয়৷ সেখানে যীশু খ্রীস্ট বড় হয়েছেন – সেই বিশ্বাসে৷ তবে এখন তা ইসরায়েলের দখলে৷ হানিন জোয়াবি আক্ষেপের সঙ্গে জানান, ‘‘আমাদের এখানে কোন সরকারি হাসপাতাল নেই, কোন সরকারি দপ্তর নেই – কিছুই নেই৷'' সবকিছুই ইহুদি বসতির আশেপাশে৷ নাজারেথে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের হাতে কিছু নেই৷ ইসরায়েলে তারা বসবাস করছে ভিক্ষুকের মত৷ হানিন জোয়াবি জানালেন, ‘‘ইসরায়েল আমাদের জমি দখল করে নিচ্ছে৷ প্যালেস্টাইনের প্রায় ৮২ শতাংশ ইসরায়েলের দখলে৷ সেখানে ৬০০টি শহর এবং গ্রাম স্থাপন করেছে৷ এর কোনটাই ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়৷ শুধুমাত্র ইহুদিদের জন্য৷''

আর ঠিক এই বিষয়টি নিয়েই রাজনৈতিক সংগ্রাম করছেন হানিন জোয়াবি৷ ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ে তিনি তাঁর কাজ করে যাচ্ছেন৷ ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ে তিনি লড়ে যাচ্ছেন৷ তবে জার্মানিতে তাঁর এই সংগ্রাম কোন গুরুত্ব পাচ্ছেনা বলে খেদ তাঁর৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক