1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে রোমাঞ্চিত জার্মান তরুণী

ইলেকট্রিশিয়ানের কাজে আজও পুরুষদের প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য দেখা যায়৷ জার্মানির এক তরুণী খুশি মনে সেই কাজ করে চলেছেন এবং পরমাণু বিদ্যুৎ ছেড়ে নতুন জ্বালানি নীতি রূপায়ণে অবদান রাখছেন৷

আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন, জেনিফার গটশ্লিশ-কে ইলেকট্রিক সাব স্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়৷ সেখানে বৈদ্যুতিক শক্তিকে ২৩০ ভোল্টে রূপান্তরিত করা হয়৷ জেনিফার ও তাঁর সহকর্মী ছাড়া বাড়িতে বিদ্যুৎ পাওয়া যেত না৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি ঠিক দপ্তরে বসে কাজ করার জন্য জন্মগ্রহণ করিনি৷ সেটা আমার জন্য বড় ক্লান্তিকর৷ সারাদিন বাইরেই কাটে৷ এমন কাজ ভালো লাগে৷ গায়ে নোংরা লাগলে বা গর্তের মধ্যে দাঁড়িয়ে খোঁড়াখুঁড়ি করতে হলেও কোনো সমস্যা নেই৷ খুব মজা লাগে৷

২৪ বছরের এই তরুণী জার্মানিতে জ্বালানির ক্ষেত্রে চলমান মৌলিক পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখছেন৷ কারণ তিনি বিদ্যুতের ডিসট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন৷ তবে রাজনীতি নিয়ে তিনি বেশি মাথা ঘামান না৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘উৎস যাই হোক না কেন, বিদ্যুৎ বিদ্যুতই৷''

জেনিফার কাজ করেন জার্মান জ্বালানি কোম্পানি আরডাব্লিউই-র জন্য৷ এসেন শহরেই কোম্পানির সদর দপ্তর৷ পরমাণু বিদ্যুৎ পুরোপুরি বর্জন করা তাদের জন্য একটা সমস্যা৷

অন্যদিকে সাধারণ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকেও আর মুনাফা হচ্ছে না৷ ফলে বড় আকারে কর্মী-ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে৷ জ্বালানি নীতি মেনে নিতে কোম্পানি বড় দেরি করেছে৷

পাশের শহর ডুইসবুর্গ৷ সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়েও জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ ছাত্রছাত্রীরা বায়ু ও সৌর জ্বালানির জন্য নতুন উপকরণ খুঁজছেন৷ জাপানের ফুকুশিমায় দুর্ঘটনার পরেই ‘এনার্জি সায়েন্স' নামের এক বিষয় চালু হয়৷ পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক রল্ফ ম্যোলার তাঁর সতীর্থদের সঙ্গে সেটি চালু করেন৷ বাইরের জগতে তাঁর ছাত্রছাত্রীদের বিপুল চাহিদা রয়েছে৷ ডুইসবুর্গ-এসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রল্ফ ম্যোলার বলেন, ‘‘আমাদের এমন সমস্যাও হয়, যে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষানবীশ হিসেবে কোনো কোম্পানিতে যায়, তারপর কোর্স শেষ হবার আগেই কোম্পানি তাদের ছিনিয়ে নেয়৷ তাই কোর্স শেষ হলে যে কারো চাকরির অভাব হবে না, সে বিষয়ে আমি প্রায় নিশ্চিত৷''

অনেক ছাত্র-ছাত্রীই সম্ভবত এই কোর্সের কারণেই ডুইসবুর্গে এসেছেন৷ তারা কেউ ভাবতে পারেন নি, যে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুরানো এই শিল্পশহরের এত আকর্ষণ রয়েছে৷ এনার্জি সায়েন্স বিভাগের ছাত্র ফাবিও ফাভা বলেন, ‘‘শুধু এখানকার মানুষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো, শহরের কাঠামোর কারণে শহরটি মোটেই খারাপ নয়, যেমনটা লোকে বলে থাকে৷ শহরটি অবশ্যই বসবাসের যোগ্য৷'' ফাবিও-র সহপাঠী টাবেয়া বকডান বলেন, ‘‘আমার এখানে খুব ভালো লাগে৷ কারণ যেমনটা বলা হয়, শহরটি আসলে মোটেই নোংরা নয়৷ খুবই সবুজ ও সুন্দর৷''

আরডাব্লিউই-তে ফেরা যাক৷ জেনিফারের বাবার ইলেকট্রিকের দোকান ছিল৷ তাই এমন পেশা বেছে নেওয়ার কারণ আছে বৈকি৷ তবে পদার্থবিদ্যা ও অঙ্কে ভালো গ্রেডও জরুরি ছিল৷ জেনিফার গটশ্লিশ বলেন, ‘‘সবাই আরডাব্লিউই-তে ঢোকার সুযোগ পায় না৷ অনেক বড় কোম্পানি আছে বটে, তবে এসেন শহরের মানুষ হলে আরডাব্লিউই-র কারণে গর্ব করা যেতে পারে বৈকি৷ এখানেই তো কোম্পানির পত্তন হয়েছিল৷

লাঞ্চ ব্রেকে আলুভাজা আর সসেজ খাওয়ার পালা৷ রুয়র এলাকায় এটাই দস্তুর৷ জেনিফার সারাটা জীবন এখানেই কাটাতে চান৷ তাঁর আশা, কখনো চাকরি খোয়াতে হবে না৷ এবার এসেন ও আশেপাশের ইলেকট্রিক সাব স্টেশনগুলি দেখতে যেতে হবে৷ জেনিফার তাঁর স্বপ্নের চাকরি খুঁজে পেয়েছেন৷ তাঁর প্রজন্মের সবার ভাগ্যে এমন সুযোগ পাওয়া সহজ নয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়