1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রিতে শীর্ষে নরওয়ে

ইউরোপে সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদনকারী দেশ নরওয়ে৷ আবার ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রির তালিকাতেও সেদেশের অবস্থান শীর্ষে৷ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা এসব গাড়ি বিক্রিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে, মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷

বাজারে নতুন আসা ইলেকট্রিক গাড়ি নিশান লিফ কারের একজন গর্বিত মালিক এসপেন এন্ডারসেন৷ এবছর ইলেকট্রিক গাড়ি কেনা চার হাজার নরওয়েজিয়ানের একজন তিনি৷ ২০১৩ সালে সেদেশে বিক্রি হওয়া গাড়ির নয় শতাংশ ইলেকট্রিক কার৷

এন্ডারসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নরওয়েতে করের কারণে গাড়ির দাম বেশ চড়া৷ অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানে গাড়ি কিনতে প্রায় দ্বিগুন অর্থের প্রয়োজন হয়৷ তবে ইলেকট্রিক গাড়ির উপর বলতে গেলে কোনো করই নেই৷ ফলে পেট্রোল বা ডিজেল চালিত গাড়ির দামের সঙ্গে এগুলোর মূল্যে বিশেষ পার্থক্য নেই৷''

এসপেন এন্ডারসেন এবং বাকি ইলেকট্রিক গাড়ির চালকরা আরো কিছু সুযোগসুবিধা ভোগ করেন৷ সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুবিধা হচ্ছে, ইলেকট্রিক গাড়িগুলো রাস্তায় বাসের লেন ব্যবহার করতে পারে৷ ফলে নরওয়ের বড় শহরগুলোতে ব্যস্ত সময়ে ট্রাফিক জ্যাম অনেকটাই পরিহার করতে পারেন এসব গাড়ির চালকরা৷

দশ বছর ধরে সংগ্রামের ফসল

নরওয়েতে গত তিন বছর ধরে ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রির হার দ্রুত বাড়ছে৷ এই সাফল্যের পেছনে অবশ্য কাজ করছে ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং বিভিন্ন সংগঠনের দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টা৷ নরওয়ের ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট স্নোরে স্লেটভোল্ড এই বিষয়ে বলেন, ‘‘গাড়ি বিক্রিতে সুযোগ সুবিধা পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে৷ শুরুটা হয়েছিল আমদানি এবং প্রথমবার রেজিস্ট্রেশনের কর বাতিলের মধ্য দিয়ে৷ এখন আমরা বিনা খরচায় পার্কিং এবং টোলের রাস্তায় বিনা খরচে গাড়ি চালানোর মতো সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি৷ আর শহরের মধ্যে বাসের লেনে চালানোর সুযোগতো রয়েছেই৷ এসব সুবিধা পেতে দশ বছর সময় লেগেছে৷''

ইলেকট্রিক গাড়ির বিক্রি দ্রুত বাড়ার ইতিবাচক প্রভাব পরিবেশের উপরও পড়তে শুরু করেছে৷ নরওয়েতে গত বছর গাড়ি প্রতি কার্বন নির্গমনের হার ছিল ১২৫ গ্রাম৷ এখন সেটা কমে দাঁড়িয়েছে গাড়ি প্রতি ১১৮ গ্রামে৷

বিপুল তেল উৎপাদন

তবে নিন্দুকরা বলছেন, কার্বন নির্গমন কমানোর এই হার নরওয়ের বিবেচনায় সমুদ্রে এক ফোঁটা পানি ফেলার মতো ব্যাপার৷ কেননা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে নরওয়ের অবদান বিশাল৷ নরওয়ে পৃথিবীর অষ্টম বৃহৎ অশোধিত তেল রপ্তানিকারক৷ গ্যাস রপ্তানির ক্ষেত্রে গোটা বিশ্বের মধ্যে তাদের অবস্থান তৃতীয়৷

‘ফ্রেন্ডস অব দ্যা আর্থ'' সংগঠনের নরওয়ে অংশের চেয়ারপারসন লারস হাল্টব্রেক্কেন এই বিষয়ে বলেন, ‘‘নরওয়েতে জন প্রতি ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহারের হার অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি হলেও তা বিশ্ব বাঁচাতে যথেষ্ট নয়৷ বিপুল তেল এবং গ্যাস উৎপাদন করতে গিয়ে নরওয়ে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করছে৷''

হাল্টব্রেক্কেন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আবিষ্কৃত নরওয়ের তেল এবং গ্যাস খনিগুলো থেকে যে পরিমাণ কার্বন নির্গমন হচ্ছে তা ৪০ মিলিয়নের বেশি গাড়ি থেকে নির্গমিত কার্বন ডাই অক্সাইডের সমান৷

অন্যান্য সমালোচকরা বলছেন, ইলেকট্রিক গাড়ি যে জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত গাড়ির তুলনায় খুব কম কার্বন নির্গমন করছে তা ভাবার কারণ নেই৷ এসব গাড়ির উৎপাদন ও সেগুলোর ব্যাটারি বিনাশ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস এবং তেল সংগ্রহের বিষয়াদি হিসেব করলে ইলেকট্রিক গাড়ির কার্বন নির্গমনের মাত্রা অনেকের ধারণার চেয়ে বেশি হবে৷

তবে জীবাশ্ম জ্বালানির অন্যতম রপ্তানিকারক হলেও নরওয়ের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় পুরোটাই মেটাচ্ছে নবায়নযোগ্য হাইড্রো ইলেকট্রিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো৷

উল্লেখ্য, গোটা বিশ্বের বিবেচনায় ইলেকট্রিক গাড়ির বিক্রি এখনো আশানুরুপ পর্যায়ে পৌঁছায়নি৷ আর এসব গাড়ি চার্জ করতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের উৎস এখনো মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি৷ তাই প্রকৃত অর্থে পরিবেশ রক্ষায় ইলেকট্রিক গাড়ি কতটা অবদান রাখতে পারছে সেটা এখনো বিতর্কিত এক বিষয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন