1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

যুক্তরাষ্ট্র

ইরান সম্পর্কে ট্রাম্পের মনোভাব নিয়ে ইউরোপের চিন্তা

ট্রাম্পের নেতৃত্বে ওয়াশিংটন দৃশ্যত ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে৷ ইরান নাকি চুক্তি ভঙ্গ করছে, বলেছেন ট্রাম্প: ইউরোপের দৃষ্টিতে এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ৷

জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হেলি ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির ব্যাপারে দৃশ্যত পরিকল্পিতভাবেই দ্ব্যর্থব্যঞ্জক মন্তব্য করেছেন: না, তিনি চুক্তিটির বৈধতা সন্দেহ করার পক্ষপাতী নন৷ কিন্তু – হেলি রক্ষণশীল অ্যামেরিকান এন্টারপ্রাইজ থিঙ্ক ট্যাঙ্কের শ্রোতাদের বলেন যে, একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া উচিত: ট্রাম্প যদি তা করতে চান – অর্থাৎ ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চান – তাহলে তার যথেষ্ট কারণ ইতিমধ্যেই বর্তমান৷

হেলির মতে ইরান চুক্তি একটি ‘‘খুঁতো আপোশ''; কিন্তু ট্রাম্প যে কেন সেই চুক্তি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, সে ব্যাপারে হেলি বিশদ করে কিছু বলেননি৷ হেলির মতে, চুক্তিটি নতুন করে বিবেচনা করার সময় এসেছে৷ ‘‘আমাদের কোনো সময়েই একটি চুক্তিতে আবদ্ধ থেকে আমরা সেটা পালন করব বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়,'' বলে হেলি ঘোষণা করেন৷

‘নিজে থেকে সংকট সৃষ্টি'

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা যে সর্বাধুনিক তথ্য দিয়েছে, হেলির বিবৃতি তার বিরোধী৷ আইএইএ গত সপ্তাহে ঘোষণা করে যে, ইরান পরমাণু চুক্তির শর্ত মেনে চলেছে ও অনুমোদিত পর্যায়ের বেশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণে লিপ্ত হয়নি৷

আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে মার্কিন সেনেটকে ইরানের শর্তপালন বিধিসম্মত হচ্ছে কিনা, তা প্রত্যয়ন করতে হবে – যার পরিপ্রেক্ষিতে হেলি তাঁর মন্তব্য করেন৷ অপরদিকে ইরান চুক্তির প্রতি প্রেসিডেন্টের সন্দিগ্ধ মনোভাব নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনীতিক মহলে বহুদিন ধরেই চিন্তা রয়েছে৷ ‘‘একটি চুক্তি মাত্র একবারই ছিঁড়ে ফেলা যায়,'' বলেছেন রিপাবলিকান সেনেটর বব কর্কার এবং সাবধান করে দিয়েছেন যে, তা ঘটলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই একটি সংকটের সৃষ্টি করবে৷ ‘ওয়াশিংটন পোস্ট' পত্রিকার একটি বিবরণ অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস মাটিস, দু'জনেই প্রেসিডেন্টকে ইরান চুক্তি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করার পরামর্শ দিয়েছেন৷

বুদ্ধিমানের কাজ হবে না'

পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসাটা ‘‘ভালো কাজ হবে না'', বলে ‘লস এঞ্জেলেস টাইমস' পত্রিকার ভাষ্যকার ডয়েল ম্যাকমেনাস-এর ধারণা৷ তবে ট্রাম্প যে চুক্তিটিকে ভবিষ্যতেও স্বীকৃতি দিয়ে যাবেন, এমন আশা ম্যাকমেনাস রাখেন না৷

‘‘এটা এমন একটা আন্তর্জাতিক সংকট, যার দিনক্ষণ আগে থেকেই বলে দেওয়া যায়,'' লিখেছেন ম্যাকমেনাস৷ চুক্তিটা যে খেয়ালখুশি মতো বাতিল করা যায় না, তাতে হতাশ হয়ে ট্রাম্প তাঁর লোকজনদের নির্দেশ দিয়েছেন, এমন সব অজুহাত বার করার, যার দোহাই দিয়ে ট্রাম্প চুক্তিটি সার্টিফাই বা প্রত্যয়ন করতে অস্বীকার করতে পারবেন – এই হল ম্যাকমেনাসের কাহিনি৷ তাঁর ভাষায় ‘‘এ হলো অ্যালিস-ইন-ওয়ান্ডারল্যান্ডের পররাষ্ট্রনীতি: আগে রায়, পরে সাক্ষ্যপ্রমাণ৷'' তবে ট্রাম্পেরও নিজের তরফে প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের সমর্থন যোগাড় করতে অসুবিধা হয়নি৷ ‘‘আমরা এই চুক্তি থেকে খুব একটা সুবিধা পেয়েছি বলে আমি মনে করি না,'' বলেছেন সেনেটর টম কটন; ‘‘কাজেই তা ভেঙে পড়লে আমার অন্তত বিশেষ চিন্তা নেই৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

অন্যরা একই পথের পথিক, তবে একটু ঘোরা পথে – ‘গণতন্ত্র প্রতিরক্ষা নিধি'-র মার্ক ডুবোভিট্স যেরকম বলেছেন৷ তারা চান, চুক্তি বজায় থাকুক, শুধু বলা হোক, ইরান তার শর্ত পালন করছে না – কেননা যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি চুক্তি থেকে বেরিয়ে এলে, ইরান নিজেকে তার বলি হিসেবে পেশ করার সুযোগ পাবে ও ইউরোপীয়রা বিরূপ হবে৷ কাজেই ডুবোভিট্স চান ইরানের ছোট ছোট চুক্তি ভঙ্গের খতিয়ান রেখে তেহরানের পক্ষে এই চুক্তিতে থাকা ক্রমেই আরো কঠিন করে তোলা৷

ভিন্ন স্বার্থ

ইউরোপ আর মধ্যপ্রাচ্যে কোনো গোলযোগে আগ্রহী নয়৷ পরমাণু চুক্তি বাতিলের ফলে অন্যান্য অস্ত্রসজ্জার পরিকল্পনা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে, পারমাণবিক অস্ত্রও যার মধ্যে পড়বে৷ চুক্তি বাতিলের ফলে সহিংসতা ও তার ফলশ্রুতিস্বরূপ উদ্বাস্তুদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে পারে৷ পরমাণু চুক্তি ছাড়া ইরানের রাজনৈতিক সংযম প্রদর্শনের কোনো কারণ থাকবে না, কাজেই ইরান আরো আগ্রাসী নীতি অবলম্বন করতে পারে৷

ইরান যদি তার পারমাণবিক সমরাস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় চালু করে, তাহলে অপরাপর আঞ্চলিক শক্তিও আণবিক অস্ত্র সংগ্রহের কথা ভাবতে পারে৷ সে ধরনের একটি নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা থামাতে বহু বছর সময় লেগে যাবে, যদি তা থামানো আদৌ সম্ভব হয়৷ কাজেই ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির ব্যাপারে মার্কিন ও ইউরোপীয় স্বার্থের ব্যাপক ফারাকটা বোধগম্য৷

ক্যার্স্টেন ক্নিপ/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়