ইরানে হিজাব খোলার অপরাধে এক নারীর জেল, চলছে বিক্ষোভ | বিশ্ব | DW | 08.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইরান

ইরানে হিজাব খোলার অপরাধে এক নারীর জেল, চলছে বিক্ষোভ

জনসমক্ষে হিজাব খুলে উড়িয়ে দেয়ার অপরাধে ইরানে এক নারীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত৷ রায়ের পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তেহরানে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেক নারী৷

৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস৷ কিন্তু ইরানে এবারে নারী দিবসে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে৷ হিজাব বন্ধের দাবিতে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত নারীর মুক্তির দাবিতে রাজধানী তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন তাঁরা৷ জনসমক্ষে হিজাব খুলে উড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে বুধবার ৩৪ বছরের এক নারীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত৷ তবে যে নারীকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি৷ ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নার্গিস হুসেইনি, যাঁকে এ বছরের শুরুতে তেহরানে আটক করা হয়েছিল৷ বিচার চলাকালীন তিনি তাঁর কৃতকর্মের জন্য কোনোরকম অনুশোচনা প্রকাশ করেননি বলে জানিয়েছেন এক আইনজীবী৷ বরং বিচারককে তিনি বোঝাতে চেষ্টা করেছেন যে জোর করে হিজাব পরানো ঠিক নয়৷

তেহরানের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্বাস জাফর দোলাতাবাদী বলেছেন, ‘‘দেশের আইনে যা বলা আছে, তা মেনেই এ রায় দেয়া হয়েছে৷'' ইরানের আইন অনুযায়ী, মহিলাদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক৷ আইনে স্পষ্ট বলা আছে, মেয়েদের চুল ঢাকতে হবে এবং শরীরের সমস্ত অংশ ঢেকে রাখতে হবে৷ প্রতিবাদ শুরু হয়েছে এর বিরুদ্ধেই৷

গত কয়েক মাস ধরে ইরানের মহিলারা তাই নতুন আন্দোলন শুরু করেছেন৷ প্রকাশ্যে হিজাব খুলে প্রতিবাদ করতে শুরু করেছেন তাঁরা৷ শুধু তাই নয়, তাঁদের সেই প্রতিবাদ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে আপলোডও করে দিচ্ছেন৷

ডিসেম্বর থেকে ইরানি নারীদের এই আন্দোলন চরম রূপ ধারণ করেছে৷ জনসমক্ষে নারীরা তাঁদের হিজাব খুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন৷ কেউ কেউ সেটা লাঠিতে উড়িয়ে ব্যানার বানিয়েছেন৷ আন্দোলনকারী অন্তত ৩০ জন নারীকে এ পর্যন্ত আটক করা হয়েছে৷

ইরান সরকারের সমীক্ষা অনুযায়ী, গত এক দশক আগে সে দেশের মহিলারা হিজাবের পক্ষে ছিলেন৷ কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদেরও মত বদলেছে৷ ইরানের বেশিরভাগ মহিলা আর হিজাবের আড়ালে থাকতে চান না৷ তাঁদের বক্তব্য, হিজাব পরা বা না-পরা একেবারেই ব্যক্তিগত পছন্দ৷ প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও কিছুদিন আগে বলেছিলেন, জনগণের মতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় তাঁর সরকার৷ কিন্তু তাঁর কথা এবং সরকারের আচরণের মধ্যে খুব একটা মিল পাওয়া যাচ্ছে না৷

আন্দোলনের সূত্রপাত গত বছর৷ ইরানের বিখ্যাত সাংবাদিক মিসাহ আলিনেজাদ প্রথম ‘হ্যাশট্যাগ হোয়াইটওয়েডনেসডেজ’ আন্দোলন চালু করেন৷ নিজের হিজাব খুলে লাঠির গোড়ায় বেঁধে সেটি উড়িয়েছিলেন তিনি৷ পুরো ঘটনার ভিডিও করে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি৷ কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ এখনো তিনি জেলে৷

এপিবি/এসিবি (ডিপিএ)

গতবছরের জুলাই মাসের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়