1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ইরানের মেয়েরা – দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ?

আজ আসিয়েহ আমিনি আবার চোখে দেখতে পারছেন৷ অথচ কয়েক বছর আগে চোখের দৃষ্টি প্রায় হারাতে বসেছিলেন তিনি৷ শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন৷

চিকিত্সকদের ধারণা, মেয়েদের ওপর একের পর এক অকথ্য নির্যাতনের কাহিনি শোনার ফলেই তাঁর এমনটি হয়েছিল৷

আসিয়েহ আমিনি ইরানের একজন নারী অধিকারবাদী অ্যাকটিভিস্ট ও সাংবাদিক৷ বছরের পর বছর ইরানের কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মেয়েদের অবস্থা লক্ষ্য করেছেন তিনি, করেছেন খোঁজ খবর৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘প্রতিদিন কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো মেয়ের কাছাকাছি আসতে হয়েছে, যা আমার জন্য খুব কঠিন কাজ ছিল৷ এদের মধ্যে অনেকেই আমার মেয়ের বয়সি৷ সময়ের সাথে সাথে অবস্থাটা অসহনীয় হয়ে উঠছিল৷''

সাংবাদিক থেকে অ্যাক্টিভিস্ট

আসিয়েহ আমিনি সাংবাদিক হিসাবে একটি খবরের কাগজে কাজ করতেন ২০০৩ সাল পর্যন্ত৷ সে বছরের একটি ঘটনা তাঁর জীবনকে আমূল বদলে দেয়৷ কারাগারে আটক ১৬ বছরের একটি মেয়ের কথা শোনেন তিনি৷ যাকে অবৈধ যৌন সম্পর্কের দায়ে পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল৷ সাংবাদিক আমিনি ঘটনাটা তলিয়ে দেখে জানতে পারেন, ১০ বছর বয়স থেকে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছিল এবং মুখ বন্ধ রাখার জন্য অর্থ পাচ্ছিল৷ পরে মেয়েটি এটিকে কাজ হিসাবে নিয়েছিল৷ আর এ কারণে দেহ ব্যবসায়ের অপরাধে তাকে আটক করা হয়৷ বিচারকের রায়ে তার কপালে তখন মৃত্যুদণ্ড ঝুলছিল৷

Asie Amini Flash-Galerie

আসিয়েহ আমিনি

আসিয়েহ আমিনি মেয়েটির ভাগ্য নিয়ে তাঁর পত্রিকার জন্য একটি আর্টিকেল লেখেন৷ কিন্তু সেটা ছাপানোর সাহস ছিল না কাগজ কর্তৃপক্ষের৷ মেয়েটির জন্য আইনজীবীও ঠিক করেছিলেন মানবদরদী এই নারী৷ কিন্তু মৃত্যুদণ্ড ঠেকানো সম্ভব হয়নি৷ আসিয়েহ আমিনি বলেন, ‘‘ইরানের আইনটা এত ভয়ঙ্কর যে যৌন সম্পর্কের কারণে মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে৷'' আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পাথর মেরে আর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইরান সরকার৷ কিন্তু আসিয়েহ খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন যে, এই ধরনের শাস্তি এখনও গোপনে দেওয়া হচ্ছে৷

ক্যাম্পেন গড়ে তোলা

ধীরে ধীরে সাংবাদিক আমিনি মানবাধিকার কর্মী হয়ে ওঠেন৷ ফলে খবরের কাগজের চাকরিটা হারান৷ আত্মগোপন করতে হয় তাঁকে৷ অন্যান্য অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে মিলে পাথর মেরে হত্যার বিরুদ্ধে ক্যাম্পেন গড়ে তোলেন ৷

ইরানের আইনে নারী বৈষম্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷ এমনকি ধর্ষণের শিকার মেয়েদেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়৷ কিছু মেয়ে অত্যাচারী স্বামীর হাত থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য তাকে হত্যা করে জেলে আসেন৷ তাদের ভাগ্যেও অপেক্ষা করে মৃত্যুদণ্ড৷ ইরানে মেয়েদের পক্ষে বিবাহবিচ্ছেদ করা প্রায় অসম্ভব, তাই উপায়ন্তর না দেখে হত্যার পথটি বেছে নেন ভুক্তভোগী অনেক মেয়েই৷

এছাড়া আইন অনুযায়ী, নয় বছর বয়স হলেই মেয়েরা কোনো অপরাধের জন্য শাস্তিযোগ্য বলে বিবেচিত৷ ছেলেদের ক্ষেত্রে এই বয়সটা ১৫৷ স্বামী অনায়াসে স্ত্রীকে তালাক দিতে পারেন৷ ভরণপোষণ দিতে হয় না তাদের৷ বাচ্চাদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থেকেও বঞ্চিত হন স্বামী পরিত্যাক্তা স্ত্রী৷ পুরুষরা চার স্ত্রী রাখতে পারেন৷ অন্যদিকে সংসারের সচ্ছলতার জন্য চাকরি করতে চাইলে স্বামীর অনুমতি নিতে হয় স্ত্রীকে৷ এইভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষে পরিণত করা হয় মেয়েদের৷ মনে করেন ইরানের সচেতন নারীরা৷

প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদের আমল থেকে ইরানের মেয়েদের অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে৷ নির্বাসিত ইরানি সাংবাদিক মিত্রা শোডজাই বলেন, ‘‘কেউ যদি নারী অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য সক্রিয় হন, তাঁকে পড়তে হয় বিপদের মুখে৷ তাই অনেক অ্যাক্টিভিস্টই এখন কারাগারে৷ অনেককে আবার চোখে চোখে রাখা হচ্ছে৷''

নির্বাসনের দিনগুলি

২০০৯ সালে আসিয়েহ আমিনিরও এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল৷ তিনি জানান, ‘‘আমাদের জীবনযাত্রা ও কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়৷ বন্ধু-বান্ধবকে জেলে পাঠানো হয়৷ কাজ করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়৷ কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা, টেলিফোন করা, ই-মেল লেখা – এসবও প্রচণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়৷''

মাহমুদ আহমেদিনেজাদ পুননির্বাচিত হওয়ার চার মাস পর দেশ ছাড়তে বাধ্য হন আসিয়েহ আমিনি৷ এখন তিনি নির্বাসনে, নরওয়েতে বসবাস করছেন৷ ইন্টারনেট ও পত্র-পত্রিকায় লেখালিখি করছেন, বের করছেন বই পুস্তক৷ ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তথা মেয়েদের অবস্থার পরিবর্তন অদূর ভবিষ্যতে হবে কিনা, সে ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে তাঁর৷

কিন্তু একেবারে আশা ছাড়তে রাজি নন ক্লান্তিহীন এই নারী৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘বৈষম্যের অভিজ্ঞতা থেকেই গণতন্ত্র আমাদের কাছে চলে আসবে৷ আর তা আনতে হবে মানুষকেই৷ আমাদের জন্য কেউ চিন্তা করবে না, কাজ করবে না৷ আমাদের নিজেদেরই তা করতে হবে৷ মানুষকেই পরিবর্তনের জন্য নিতে হবে সিদ্ধান্ত৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়