1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইরানের প্রেসিডেন্ট আহমদিনেজাদের আট বছর

দু’টি কর্মকালের পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমদিনেজাদ আর প্রার্থী হচ্ছেন না৷ তাঁর উত্তরসূরিকে চালাতে হবে অর্থনৈতিক দুরবস্থা পীড়িত, আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন একটি দেশ৷

২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর আহমদিনেজাদ অনেক বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷ খনিজ তেল লব্ধ অর্থ নাকি দেশের ‘‘প্রতিটি পরিবারের খাবার টেবিলে'' দেখতে পাওয়া যাবে৷ এছাড়া তিনি বছরে বিশ লাখ করে নতুন চাকুরি সৃষ্টি করবেন, কর্মহীনদের সংখ্যা শূন্যে এবং মুদ্রাস্ফীতি দশ শতাংশের নীচে নামাবেন৷

আট বছর পরে আহমদিনেজাদ প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বিদায় নিচ্ছেন, কিন্তু ইরানের বাস্তব চিত্র তাঁর প্রতিশ্রুতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা৷ সরকারি হিসাব অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৩০ শতাংশের কাছাকাছি; বেকারত্ব প্রায় ১২ শতাংশ; অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখন বিয়োগে নেমেছে৷ পরিসংখ্যান বাস্তবিক এর চেয়ে খারাপ হতে পারে না৷

বলতে কি, কর্মভার গ্রহণ করার সময় আহমদিনেজাদের বস্তুত কোনো অর্থনৈতিক পরিকল্পনাই ছিল না - বলছেন বিশেষজ্ঞরা৷ আর যেটুকু ছিল, তা'ও নিজের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর প্রচেষ্টায়, যেমন গ্রামাঞ্চলের মানুষদের জন্য ভরতুকি কিংবা তরুণ দম্পতিদের জন্য বিবাহের ‘‘যৌতুক''৷ কিন্তু অর্থনীতির মূল সমস্যাগুলির কোনো সুরাহা করতে পারেননি তিনি৷

রিয়ালের পতন

দেশের মুদ্রা রিয়াল'এর বিনিময়মূল্যের কোনো হানি ঘটবে না, তা স্থায়ী থাকবে, এ'প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন আহমদিনেজাদ৷ কিন্তু যা ঘটেছে, তা হল এই যে, ২০১১ সাল যাবৎ মার্কিন ডলারের তুলনায় রিয়াল তার বিনিময়মূল্যের এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছে - যার ফলে মুদ্রাস্ফীতির হার আরো বৃদ্ধি পেয়েছে৷ আহমদিনেজাদ প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়ার সময় মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ১২ শতাংশ৷ তিনি যাবার সময়, অর্থাৎ এখন সে হার দাঁড়িয়েছে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশে, বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা৷ বিশেষ করে খাবারদাবার, বাড়িভাড়া ও বাস-ট্রামের ভাড়া বেড়েছে দারুণভাবে৷

যুগপৎ পশ্চিমি শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ফলে অর্থনীতির অতীব দুরবস্থা৷ আট বছর আগে ইরানের প্রবৃদ্ধির হার ছিল প্রায় সাত শতাংশ, এখন সেটা নেগেটিভ, অর্থাৎ বিয়োগের কোঠায়, যদিও ২০১৪'য় তা কিছু বাড়ার সম্ভাবনা আছে, বলে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের অভিমত৷ ওদিকে প্রবৃদ্ধি ছাড়া চাকুরি সৃষ্টি সম্ভব নয়৷ কাজেই আহমদিনেজাদের ঘোষিত বছরে বিশ লাখের পরিবর্তে মাত্র ১৪ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে৷

আন্তর্জাতিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকরি হবার আগে, অর্থাৎ ২০১২ সাল অবধি ইরান ভালোমতোই তেল রপ্তানি করেছে৷ সেই অর্থের একটা বড় অংশ গেছে পণ্য আমদানিতে৷ এছাড়া আহমদিনেজাদের প্রশাসনকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় করা হয়েছে৷ বিদেশনীতি ও নিরাপত্তা নীতিরও মূল্য দিতে হয়েছে: যেমন লেবাননে হিজবুল্লাকে সমর্থন কিংবা গাজা স্ট্রিপে হামাসকে সাহায্য৷

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল

রাজনৈতিক বিচারে আহমদিনেজাদের শাসনকাল অভ্যন্তরীণ কাজিয়া-কোন্দলে পরিপূর্ণ ছিল - যার মাধ্যমে ইরানের সংবিধান ও শাসনব্যবস্থার ভঙ্গুরতা সকলের সামনে দৃষ্টিগোচর হয়ে উঠেছে৷ আয়াতোল্লার মনোনীত এক রাষ্ট্রপ্রধানও যে নিজের মর্জি মতো দেশ চালাতে পারেন না, সেই সত্যটাই যেন উপলব্ধি করা গেছে৷

Iran Wirtschaft Geld. Copyright: www.asio.ir April, 2012

দেশের মুদ্রা রিয়াল'এর বিনিময়মূল্যের কোনো হানি ঘটবে না, তা স্থায়ী থাকবে, এ'প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন আহমদিনেজাদ

ক্ষমতার এই দ্বিধা-দ্বন্দ্বই দেশকে অগ্রসর হবার কোনো একটি পথ বেছে নিতে দিচ্ছে না৷ এবং আহমদিনেজাদের পরেও যে সে দ্বন্দ্বের অবসান ঘটবে, এমনও নয়৷ যার প্রতিফলন ঘটবে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে৷ আহমদিনেজাদের উত্তরসূরির আমলেও তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রসমাজের সঙ্গে বিরোধের কোনো হেরফের হবে না বলেই মনে হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন