ইরানের প্রশ্নে ঐক্যমতের আশায় সৌদি আরবে ক্লিন্টন | বিশ্ব | DW | 16.02.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইরানের প্রশ্নে ঐক্যমতের আশায় সৌদি আরবে ক্লিন্টন

মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে এসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের প্রশ্নে ঐক্যমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন৷ কাতার থেকে তিনি সৌদি আরবে এসে পৌঁছেছেন৷

default

কাতারেও ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যমত গড়ে তোলার চেষ্টা করেন ক্লিন্টন

রেভোলিউশনারি গার্ডকে ঘিরে সংশয়

কাতার সফরকালে ক্লিন্টন বলেন, মার্কিন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী ইরানের বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত রেভোলিউশনারি গার্ড বাহিনী দেশটিকে স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে৷ এমনকি তারা ইরানের প্রশাসনিক কাঠামোকে ক্রমশঃ অকেজো করে একচ্ছত্র ক্ষমতা ভোগ করার চেষ্টা করছে বলে মনে করেন ক্লিন্টন৷ তাঁর মতে, ইরানের সরকার, সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই, প্রেসিডেন্ট, সংসদ সহ সব প্রতিষ্ঠানের হাত থেকে ক্ষমতা সরিয়ে নিয়ে সামরিক বাহিনীর হাতে ক্ষমতার রাশ তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে৷ তাই জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হতে হবে ঐ বাহিনী৷ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে পৌঁছে ক্লিন্টন বলেন, তাঁর আশা, এই প্রক্রিয়া চিরস্থায়ী হবে না এবং ইরানের রাজনৈতিক নেতারা আবার নিজেদের কর্তৃত্ব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবেন৷

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে রেভোলিউশনারি গার্ড বাহিনী ব্যাঙ্ক, জাহাজ কোম্পানি থেকে শুরু করে অনেক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে নিজস্ব প্রভাব বাড়িয়ে চলেছে৷ নির্মাণ, আমদানি-রপ্তানি, পরিবহন, পরিকাঠামো, প্রতিরক্ষা ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকল্পে সক্রিয় রয়েছে এই বাহিনী৷ ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর এই এলিট বাহিনী গড়ে তোলা হয়৷ প্রায় ১২৫,০০০ সদস্য বিশিষ্ট এই বাহিনীর নিজস্ব স্থল, নৌ ও বিমান ইউনিট রয়েছে৷ ইরানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে রেভোলিউশনারি গার্ড কাজ করে না৷ দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনেই-এর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে রেভোলিউশনারি গার্ড৷

Iran Kommandeurtreffen Revolutionsgarde in Teheran

শুধু নিরাপত্তা নয় – দেশের একাধিক ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করছে রেভোলিউশনারি গার্ড বাহিনী

হামলা নয়, আরও আন্তর্জাতিক চাপ

আপাতত ইরানের উপর সামরিক হামলার পরিকল্পনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে ক্লিন্টন বলেন, সেদেশ যেভাবে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে অগ্রসর হচ্ছে, তার প্রেক্ষিতে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না৷ জাতিসংঘের মাধ্যমে ইরানের উপর চাপ আরও বাড়াতে তাই ওয়াশিংটন গোটা বিশ্বে ঐক্যমত গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের উপর চতুর্থ দফার নিষেধাজ্ঞা চাপানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ক্লিন্টন আরব বিশ্বের সমর্থন আদায় করতে চান৷ সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদ আল ফয়জল বলেন, নিষেধাজ্ঞায় সম্ভবত কাজ হলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলি এই সঙ্কটের আরও দ্রুত কোন সমাধানসূত্র দেখতে চাইছে৷ ক্লিন্টন স্বীকার করেন, যে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতায় এসে ইরানের সঙ্গে সংলাপের যে চেষ্টা চালিয়েছিলেন, তার কোন ফল পাওয়া যায় নি৷

ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র এসে গেলে গোটা অঞ্চলে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে বলে আরব দেশগুলিতে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ চীন যেভাবে ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নে নরম মনোভাব দেখাচ্ছে, তা কাটিয়ে তুলতে মার্কিন প্রশাসন সৌদি আরবের সহায়তা চাইছে৷ সৌদি আরব চীনের পেট্রোলিয়ামের চাহিদা মেটানোর নিশ্চয়তা দিলে ইরানের উপর বেইজিং-এর নির্ভরতা কমে যাবে বলে ওয়াশিংটন মনে করে৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন, সম্পাদনা: আরাফাতুল ইসলাম

সংশ্লিষ্ট বিষয়