1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইরানের উপর বহাল নিষেধাজ্ঞা ভাঙা নিয়ে বিতর্ক

জার্মানি থেকে পৃথিবীর অনেক দেশে বিশেষ ধরনের ভাল্ব রপ্তানি কঠিন কোনো ব্যাপার নয়৷ তবে ইরানে রপ্তানি নিষিদ্ধ৷ এই নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগে হামবুর্গের আদালতে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন কিয়ানজাদ কে, গোলামালি কে এবং হামিদ কে৷

বলা হচ্ছে, এই তিন ব্যক্তি জার্মানি থেকে ইরানে বিশেষ ধরনের কিছু ভাল্ব রপ্তানির সঙ্গে জড়িত৷ আরো কিছু ভাল্ব তারা ভারত থেকে ইরানে রপ্তানির করছে বলেও গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে৷ বিশেষভাবে নির্মিত এসব ভাল্ব মূলত ইরানের ভারি ওয়াটার রিয়েকটরে ব্যবহারের জন্য রপ্তানি করা হয়েছে৷ আর এসব রিয়েকটর ব্যবহার করে অস্ত্র তৈরি সম্ভব৷

ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনের বিষয়টি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে লেনদেনের মতো নয়৷ বিশ্বের অনেক দেশের শঙ্কা ইরান নিজেকে ক্রমশ পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে৷ যদিও সেদেশ পরমাণু অস্ত্র বিরোধী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল৷

Schwerwasserreaktor in Arak

পশ্চিমা বিশ্বের শঙ্কা ইরান নিজেকে ক্রমশ পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি ইরানের ব্যাংকিং খাত এবং বিশেষ করে জ্বালানি খাতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে৷ ২০১২ সালে ইরান থেকে তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি সেদেশ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আন্তর্জাতিক সমাজ৷ সাধারণভাবে বলতে গেলে যে কোনো ধরনের প্রযুক্তি, সেবা এবং অন্যান্য সহযোগিতা যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কাজে লাগতে পারে, সেসব সেদেশে রপ্তানি নিষিদ্ধ৷

তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এখনো তেহরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমা বাণিজ্য সহযোগী জার্মানি৷ পাশাপাশি চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ইরানের বাণিজ্য সহযোগিতা রয়েছে৷ জার্মান প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১২ সালে সেদেশে ২.৫ বিলিয়ন ইউরোর পণ্য রপ্তানি করেছে৷

নিয়ন্ত্রণে কি ঘাটতি আছে?

ইরানে কোন পণ্য রপ্তানি করা যাবে আর কোনটি যাবে না – এককভাবে তা নির্ধারণ সহজ কাজ নয়৷ কিছু পণ্য বেসামরিক এবং সামরিক উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহার সম্ভব৷ তাই রপ্তানির ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি৷

Iran Währung Sanktionen

ইরানের মুদ্রা রিয়াল

ইরানের যে কোনো পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অনুমতি নিতে হয়৷ পণ্য রপ্তানিতে তাই সমস্যা এড়াতে জার্মান প্রতিষ্ঠানগুলো জার্মানির অর্থনৈতিক এবং রপ্তানি বিষয়ক দপ্তর বাফা-র সহায়তা নিয়ে থাকে৷ আর এই প্রক্রিয়ায় ইরানের কোন কোন প্রতিষ্ঠানে কোন কোন ধরনের পণ্য রপ্তানি করা যাবে না, সে সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়৷

এই ব্যবস্থা সত্ত্বেও ইরানে পণ্য রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন মিশায়েল স্পানে৷ ‘‘স্টপ দ্য বম্ব'' উদ্যোগের মুখপাত্র তিনি৷ এই উদ্যোগ ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে৷ স্পানের দাবি, ‘‘আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ইরানের সঙ্গে অবৈধ লেনদেন সহজেই করা যায়৷'' এক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি৷

হামবুর্গের আদালতে বিচারের মুখোমুখি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও এই মধ্যস্থতার অভিযোগ রয়েছে৷ তারা জার্মানিতে মধ্যস্থতকারীর ভূমিকায় ছিলেন৷ তাদের মূল প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল জার্মানির বাইরে৷ ফলে বিষয়টি সহজে সনাক্ত করা যায়নি৷ আর এভাবে তারা কয়েক মিলিয়ন ইউরোর বাণিজ্য সম্পন্ন করেছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়