1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইরাক যুদ্ধের ইতি টানলো মার্কিন বাহিনী

ইরাকে সরাসরি যুদ্ধে আর অংশ নেবে না মার্কিন সৈন্যরা৷ যুদ্ধরত সৈন্যদের শেষ দলটি আজ বৃহস্পতিবারই বাগদাদ ছাড়লো৷ ২০০৩'এ যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম, রণক্ষেত্র থেকে নিজেদের সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র৷

default

‘‘দলের শেষ সৈন্যটিও চলে এসেছে’’ : ক্যাপ্টেন রাসেল বার্নাডো

বুধবার রাত পেরিয়ে যখন দেড়টা বাজে, তখনই ইরাক সীমান্ত অতিক্রম করে কুয়েতে ঢুকতে শুরু করে দ্বিতীয় পদাতিক বাহিনীর চতুর্থ স্ট্রাইকার ব্রিগেড৷ গন্তব্য দক্ষিণ কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটি আরিফজান৷ সেখান থেকে পরে আকাশপথে রওনা হবে ওয়াশিংটনে৷ সকালে আরিফজান ঘাঁটির কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন রাসেল বার্নাডো ঘোঘণা করেন, ‘‘এসেছে, দলের শেষ সৈন্যটিও চলে এসেছে৷ সকাল ৬টায় ঘাঁটিতে ঢুকে পড়েছে ৩৬০টি সাঁজোয়া যানও৷'' ফেরত আসা দলটির কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এরিক ব্লুম জানালেন, যুদ্ধক্লান্ত এই সৈন্যদের দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিতে দুই-একদিন সময় প্রয়োজন৷ সেই জন্যই কুয়েতে আসা৷

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সময়ই বারাক ওবামার প্রতিশ্রুতি ছিল, ইরাক থেকে সৈন্যদের ফিরিয়ে আনবেন৷ নিজের সেই অঙ্গীকারের কথা কখনো ভোলেননি তিনি৷ কিছুদিন আগেও ওবামা বলেন, ‘‘আমি স্পষ্টভাষায় বলছি, ২০১০ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্যদের ফিরিয়ে আনা হবে৷ এটা আমার প্রতিশ্রুতি ছিল৷ এবং তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব৷ সে অনুযায়ীই কাজ হচ্ছে৷''

মার্কিনিরা হর্ষধ্বনিতে স্বাগত জানিয়েছিল ওবামার সেই ভাষণকে৷ ২০০৩ সালে দেড় লাখ মার্কিন সৈন্য ঢুকেছিল ইরাকে৷ তারপর ধারাবাহিকভাবে তা কমতে থাকে৷ যুদ্ধরত শেষ ব্রিগেডটি আজ যখন ইরাক ছাড়ল, তখন তাদের ৪ হাজার ৪১৫ জন সঙ্গী নেই৷ সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিও বুশের শুরু করা এই যুদ্ধের দাম জীবন দিয়ে শুধতে হয়েছে এই সৈন্যদের৷

No Flash türkischer Soldaten in der Nähe der Grenze zu Irak

২০০৩ সালে দেড় লাখ মার্কিন সৈন্য ঢুকেছিল ইরাকে

এদিকে যুদ্ধ আর না করলেও, ৫০ হাজার সৈন্যকে এখনো রাখা হচ্ছে ইরাকে৷ এদের কাজ হবে ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব তারা নিজেরাই নিতে পারে৷ তবে সেও এক বছরের জন্য৷ আগামী বছর সেই সৈন্যদের দেশে ফেরত নেওয়ার পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ওবামার৷ আর এরপরও গুটিকয়েক সৈন্য থাকবে ইরাকে, যাদের কাজ হবে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তার দিকটি দেখভাল করা৷

ওবামার পরিকল্পনা অনুযায়ী মার্কিন সৈন্যরা ফিরে গেলেও, এত আগে তাদের যাওয়া দেখতে চায়নি ইরাকি বাহিনী৷ ইরাকি সেনাপ্রধান বাবাকির জেবারি এক সপ্তাহ আগেই বলেছিলেন, দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার সামর্থ্য এখনো তাঁর বাহিনীর হয়নি৷ মার্কিন সৈন্যদের আরো কয়েক বছর রাখার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান ছিল তাঁর৷ সাধারণ ইরাকিদের কণ্ঠেও শোনা গেল একই সুর৷ ‘‘অবস্থা এখনো খারাপ৷ বোমা হামলা হচ্ছে যখন-তখন৷ বাবা বা ভাইয়ের সঙ্গ ছাড়া আমাদের মতো মেয়েদের ঘর থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই'', বলছিলেন বাগদাদের এক নারী৷ এক যুবকের কাছে শোনা গেল, ‘‘আমাদের দেশে নরক নেমে এসেছিল৷ সব কিছু ধসে পড়েছে৷ এখন আমাদের এখানে সরকার বলে কিছু নেই৷ নিরাপত্তা নেই কারো৷''

ওদিকে সৈন্যরা যখন ইরাক ছাড়ছে, তখনি বাগদাদের মাটিতে পা রাখলেন জেমস জেফারি৷ ইনি বাগদাদে অ্যামেরিকার নতুন রাষ্ট্রদূত৷ কঠিন সময়ে ইরাকে দায়িত্ব নিলেন তিনি৷ কারণ গত মার্চে নির্বাচন হয়ে গেলেও সরকার গঠন নিয়ে এখনো কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ