1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ইরাকে শান্তি ও ঐক্যের লক্ষ্যে যুব অর্কেস্ট্রা দল

ইরাকে তরুণ সংগীত শিল্পীদের নিয়ে গড়ে উঠেছে এক অর্কেস্ট্রা দল৷ যুদ্ধ বিধ্বস্ত এই দেশের নানা জায়গার তরুণ শিল্পীরা মিলিত হয়েছেন, শিখছেন বাদ্য যন্ত্র, বিনিময় করছেন অভিজ্ঞতা৷ সহায়তা করছে গ্যোটে ইন্সটিটিউট ও ব্রিটিশ কাউন্সিল৷

default

ইরাকের যুব অর্কেস্ট্রা দল

শান্তির জন্য অর্কেস্ট্রা

সারা দেশের তরুণ শিল্পীদের নিয়ে একটি সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা দল গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষাটা জেগে উঠেছিল ইরাকের ১৭ বছর বয়সি পিয়ানো শিল্পী সুহাল সুলতান'এর৷ সময়টা ছিল ২০০৮ সাল৷ ইরাক থেকে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা সমগ্র বিশ্বে পৌঁছে দেওয়াই ছিল লক্ষ্য৷ আর সেই সূত্র ধরে কোলনের এক সহায়তা সমিতির উদ্যোগে গড়ে উঠেছে জাতীয় ইরাকি যুব অর্কেস্ট্রা দল৷ ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চলের ৫৩ জন তরুণ সংগীত শিল্পী যোগ দিয়েছেন এই অর্কেস্ট্রায়৷ ইন্টারনেটের এক কাস্টিং শোর মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছে এই তরুণ শিল্পীদের৷

সহায়তা সমিতির পরিচালক কার্ল-ভাল্টার কেপ্লার এপ্রসঙ্গে বলেন, ‘‘এই অর্কেস্ট্রাকে বলা যায় ঐক্য ও শান্তির লক্ষ্যে এক অর্কেস্ট্রা৷ যার প্রতিফলন দেখা যায় অর্কেস্ট্রায় অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মধ্যেও৷ ২২ জন কুর্দি ও ২৩ জন আরব অংশ নিচ্ছেন এই অর্কেস্ট্রায়৷ আমাদের তিন জন দোভাষী রয়েছেন৷ তাঁরা কুর্দি, আরবি এবং ইংরেজি ভাষা জানেন৷ সংগীতের মাধ্যমেই বিকশিত হয়ে উঠছে অর্কেস্ট্রা দলটি৷''

National Youth Orchestra NYOI Zuhal Sultan Gründerin Leiterin

অর্কেস্ট্রার প্রতিষ্ঠাতা সুহাল সুলতান

ঐক্যবদ্ধ করতে পারে জাতিকে

এক সঙ্গে সংগীত পরিবেশন করে বিভক্ত এই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চান তরুণ সংগীত শিল্পীরা, ছড়িয়ে দিতে চান শান্তির বার্তা৷ কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও সহজসাধ্য নয়৷ ২০০৩ সালে এক বোমা হামলায় বাগদাদের এক মাত্র সংগীত স্কুলটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে আবার গড়ে তোলা হচ্ছে৷ অর্কেস্ট্রায় অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মধ্যে সংগীতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রায় কারোরই নেই৷ অনেকে সাহায্য নিচ্ছেন ইন্টারনেটের৷

কেপ্লার বলেন, ‘‘তাঁরা এমন সব পরিবার থেকে এসেছেন, যেখানে কোনো না কোন বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা এ ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয়৷ এখন তারা ইন্টারনেট, ইউটিউবের মাধ্যমে নিজে নিজেই সংগীত চর্চা করেন৷ কোনো কনসার্ট হওয়ার আগে ব্রিটেন, জার্মানি বা অ্যামেরিকার শিক্ষকদের কাছে অনুশীলন করেন৷ হোটেলে থাকলে সারা রাত তারা রিহার্সাল চালিয়ে যান৷ তাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় সংগীতের প্রতি এক গভীর অনুরাগ৷''

অর্কেস্ট্রা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন স্কটিশ সংগীত নির্দেশক পল ম্যাক অ্যালিনডিন৷ ব্রিটিশ কাউন্সিলে এই অর্কেস্ট্রার কথা শুনে তরুণ শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি৷ ২০০৯ সালে কুর্দি প্রধান শহর সুলাইমানিয়াতে প্রথম বারের মত একটি গ্রীষ্মকালীন একাডেমির আয়োজন করা হয়৷ অ্যামেরিকা ও ইউরোপের ১২ জন শিক্ষকের সঙ্গে ইরাকে যান ম্যাক অ্যালিনডিন৷ শুধু সংগীত শিক্ষা নয়, এই অর্কেস্ট্রার একটা নিজস্ব অবয়ব দেওয়ার চেষ্টা করা হয় একাডেমিতে৷ প্রথম কনসার্টগুলিতে পশ্চিমি ও আরব জগতের খ্যাতনামা সংগীতস্রষ্টাদের সংগীত পরিবেশন করা হয়৷ ইরাকের টিভিতেও দেখানো হয় এই অনুষ্ঠান৷

National Youth Orchestra NYOI Paul MacAlindin Dirigent

অর্কেস্ট্রাপ রিচালনা করছেন স্কটিশ সংগীত নির্দেশক পল ম্যাক অ্যালিনডিন

ম্যাক অ্যালিনডিনের ভাষায়, ‘‘দু সপ্তাহ ধরে কঠোর অনুশীলন করে একটি কনসার্ট শেষ করতে পারি আমরা৷ আমরা মনপ্রাণ ঢেলে দিই সংগীতে, যা আমাদের একাত্ম করে তোলে৷ ধ্রুপদী সংগীত একটি অত্যন্ত শৃঙ্খলায় বাঁধা শিল্প৷ সে জন্য এক সঙ্গে কাজ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়৷''

নারী শিল্পীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত

একটা বিষয় লক্ষ্য করা যায় এই অর্কেস্ট্রা দলে৷ আর তা হল, শিল্পীদের এক তৃতীয়াংশই নারী৷ যা থেকে পশ্চিমি অর্কেস্ট্রা গোষ্ঠী অনেকটাই দূরে৷

কেপ্লার বলেন, ‘‘এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যাই নেই৷ ইরাকের কুর্দি প্রধান অঞ্চলে নারীদের সমাজে এক বিশেষ স্থান রয়েছে৷ বোরখা দেখা যায়না৷ আমাদের অর্কেস্ট্রায় অনেক মেয়েই বেহালা, চেলো ও শিঙা বাজান৷''

পল ম্যাক অ্যালিনডিন কোলনে বসবাস করেন৷ তাঁর প্রকল্প সম্পর্কে বন্ধুবান্ধবদেরও আগ্রহী করে তুলছেন তিনি৷ ইরাক ছাড়া বিদেশও কনসার্ট পরিবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে অর্কেস্ট্রা দলটির৷ কেপ্লার বলেন, ‘‘আমরা বাগদাদে এই প্রকল্পের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা গড়ে তুলছি৷ কুর্দি প্রধান অঞ্চলেও গড়ে তোলা হবে এরকম আরেকটি৷ তবে কোলন থেকেই আমরা সমন্বয়ের কাজটা করছি৷ আমরা এমন সব সংগীত শিক্ষক খুঁজছি, যারা এবছর ইরাকে যেতে পারবেন৷''

অর্কেস্ট্রা দলটি জার্মানিতে আসবে সামনের হেমন্তে৷ অনেকের জন্য এটাই প্রথম বিদেশ যাত্রা৷ পরিবেশিত হবে মেন্ডেলসসোন এবং বেটোফেনের সংগীত৷ ইরাকি সংগীত রচয়িতা ল্যান্স কনওয়ের সংগীতও থাকবে অনুষ্ঠানে৷ সংগীতের মাধ্যমে ইরাকের নেতিবাচক ইমেজটা কিছুটা হলেও দূর করতে চান এই সব তরুণ শিল্পী৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন