1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ইরাকি বংশোদ্ভূত আব্বাস কিদির পেলেন সাহিত্য পুরস্কার

প্রবাসে থেকে আব্বাস কিদির ‘হিলডে-ডোমিন' প্রাইজ পেলেন৷ ইরাকি বংশোদ্ভূত এই লেখক ২৭ বছর বয়সে জার্মানিতে আসেন৷ সেই থেকে কবি হিলডে ডোমিনকে তিনি মায়ের মতোই শ্রদ্ধা করেন৷

আব্বাস কিদির বলেন, ‘‘আমি এমন একজন মানুষ, যে জীবনে সব কিছুই হারিয়েছে, শুধু সাহিত্যের প্রতি ভালবাসা ছাড়া৷'' প্রথম দিকে তিনি ধর্ম বিষয়ক লেখালিখি পড়তেন৷ পরে অন্যান্য সাহিত্যের প্রতিও আগ্রহী হয়ে ওঠেন৷ এক সময় নিজেরই কিছু লেখার ইচ্ছা জেগে ওঠে৷ লেখকদের প্রতি এক ধরনের মুগ্ধতা ছিল তাঁর৷ কেননা সাহিত্যের মাধ্যমে প্রতিবাদ করা যায়, ব্যবহার করা যায় স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে৷

গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম

আব্বাস কিদির ১৯৭৩ সালে বাগদাদে জন্ম গ্রহণ করেন৷ তাঁর প্রজন্মের অন্যান্যদের মত তিনিও একনায়ক সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে কিছু করতে চেয়েছিলেন৷ সে জন্য তরুণ বয়সে নিষিদ্ধ পার্টিগুলির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং লিফলেট বিলি করেন৷ সে সময় অনেক সরল ছিলেন তিনি৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমি যদি জানতাম, যে এজন্য আমাকে জেলে যেতে হবে, তাহলে সম্ভবত আমি এই ধরনের কাজে জড়িত হতাম না৷ কিংবা হয়তো বা করতাম৷ আসলে আমি জানিনা৷''

Die Lyrikerin und Schriftstellerin Hilde Domin im Oktober 1999 auf der Frankfurter Buchmesse. Sie stellt ihren Gedichtband Der Baum blüht trotzdem vor. Die heute in Heidelberg lebende Hilde Domin, die am 27.7. ihren 90. Geburtstag feierte, gilt als eine der herausragenden Lyrikerinnen, Prosaistinnen und Essayistinnen der deutschen Gegenwartsliteratur. In Köln geboren musste sie als rassisch Verfolgte 1932 Deutschland auf der Flucht vor den Nationalsozialisten verlassen. Im Ausland emigrierte sie nach eigenem Bekunden in das Wort, wo ich unvertreibbar bin. In den 50er Jahren kehrte sie nach Deutschland zurück.

সম্প্রতি হাইডেলব্যার্গে ‘হিলডে ডোমিন-প্রবাসে সাহিত্য' প্রাইজে ভূষিত করা হলো কিদিরকে

দুই বছর কিদিরকে কারাগারে থাকতে হয়েছিল৷ ১৯৯৬ সালে জেল থেকে পালিয়ে আম্মান যেতে সক্ষম হন তিনি৷ তারপরের কয়েক বছর চলে এক ওডিসি, অনিশ্চয়তার পথে যাত্রা৷ কোনো কাগজপত্র নেই, চাকরি-বাকরি নেই৷ ছুটা কাজ করে জীবন চালাতে হয়৷ কয়েক বছর পর সেই সব অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেন তিনি ‘ফালশে ইন্ডার' বা ‘রঙ ইন্ডিয়ান' উপন্যাসে৷''

অবশেষে রাজনৈতিক আশ্রয় পান কিদির জার্মানিতে৷ পড়াশোনা করেন সাহিত্য ও দর্শন নিয়ে৷ পান জার্মান নাগরিকত্ব৷ লেখালিখি শুরু করেন জার্মান ভাষায়৷ কেননা এই ভাষাতেই স্বদেশ ও স্বাধীনতা খুঁজে পেয়েছেন তিনি, যা তাঁকে দিয়েছে মুক্তির স্বাদ, পাখির মতো ডানা৷ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান কিদির৷

দূরে থেকে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়

আরব বিশ্বের মানুষের ইতিহাস তুলে ধরেছেন তিনি কিছুটা দূরত্বে থেকে৷ প্রতিহিংসা বা ঘৃণা নিয়ে নয় সাধারণ মানুষের দৃষ্টি দিয়ে৷ তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য প্রেসিডেন্টস অরেঞ্জেস'-এ সফল হয়েছে এই প্রয়াস৷ সর্বশেষ প্রকাশিত গ্রন্থ ‘লেটার টু দ্য এগপ্লান্ট রিপাবলিক'-এও বাস্তব চিত্রের প্রতিফলন ঘটেছে৷

আব্বাস কিদিরের উপন্যাস জনপ্রিয়তা পেয়েছে বেশ৷ অসংখ্য সাহিত্যানুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে যোগ দিয়েছেন তিনি৷ সৃষ্টিকর্মের জন্য বৃত্তি ও পুরস্কারও পেয়েছেন৷ আর সম্প্রতি হাইডেলব্যার্গে ‘হিলডে ডোমিন-প্রবাসে সাহিত্য' প্রাইজে ভূষিত করা হলো তাঁকে৷ প্রবাসে থেকে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য দেওয়া হয় এই পুরস্কার৷ এই সম্মাননার মূল্য কিদিরের কাছে অনেক৷

আদর্শিক মা, হিলডে ডোমিন

আব্বাস কিদির জানান, হিলডে ডোমিনকে জার্মান মা বলে মনে করতেন তিনি৷ ১৯০৯ সালে জন্ম হয় হিলডে ল্যোভেনস্টাইন ডোমিনের৷ মৃত্যু ২০০৬ সালে৷

হিলডে ডোমিনের সাহিত্যকর্মের সঙ্গে পরিচয় আব্বাস কিদিরের বহুদিনের৷ তাঁর সঙ্গে যেন এক আত্মিক যোগাযোগ অনুভব করেন তিনি৷ হিলডে ডোমিনের কাব্যপ্রতিভারও প্রকাশ ঘটে প্রবাস জীবনে, ডোমিনিক্যান প্রজাতন্ত্রে৷ যুদ্ধ পরবর্তী জার্মানিতে ফিরে এসে নিজেকে তিনি ‘পুনর্মিলনের বার্তাবহ' বলে অভিহিত করেন৷ ততদিনে দার্শনিক এরভিন ভাল্টার পালমের স্ত্রী হিলডে, নিজের নামের সঙ্গে তাঁর আশ্রয়দাতা দেশের নাম জুড়ে হিলডে ডোমিন নামে পরিচিতি পেয়েছেন৷

হিলডে ডোমিন শব্দের শক্তির ওপর বিশ্বাস করতেন সবসময়৷ বিশ্বাস করতেন ভাষার মাধ্যমে যে বোঝাপড়া করা যায় তার ওপর৷

আব্বাস কিদিরও সাহিত্যের মাধ্যমে বিশ্বকে ভালভাবে বোঝার চেষ্টা করেন৷ তাই তো বলেন, ‘‘সাহিত্য শুধু হাতিয়ার বা আত্মমুক্তি নয়৷ আমার বিশ্বাস, এটি এক ধরনের ভালবাসা৷ এক ধরনের স্বপ্ন৷ এক ধরনের কবিতা,যা কখনও শেষ হয় না৷''

উল্লেখ্য হিলডে ডোমিনের ৮০ বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষ্যে ১৯৯২ সালে হাইডেলব্যার্গ শহরের উদ্যোগে ‘প্রবাসে সাহিত্য' পুরস্কারটির যাত্রা শুরু হয়৷ পুরস্কারের অর্থমূল্য ১৫,০০০ ইউরো৷ প্রথম পুরস্কারটি পান নগরের সম্মানিত নাগরিক হিলডে ডোমিন নিজেই৷ ২০০৬ সালে তাঁর মৃত্যুর পর থেকে পুরস্কারটির নাম দেওয়া হয় ‘হিলডে ডোমিন – প্রবাসে সাহিত্য'৷ প্রতি তিন বছর পর পর সেই সব সাহিত্যিককে এই পুরস্কার দেওয়া হয়, যারা জার্মানিকে প্রবাস জীবনের আশ্রয়স্থল হিসাবে বেছে নিয়েছেন ও জার্মান ভাষায় লেখালিখি প্রকাশ করছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন