1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

যুক্তরাষ্ট্র

ইরাককে বাদ দিয়ে ট্রাম্পের নতুন আদেশ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছয়টি মুসলিমপ্রধান দেশের শরণার্থী ও নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন৷ প্রথম আদেশের চেয়ে এবারেরটি কিছুটা ভিন্ন৷

সোমবার সকালে সই করা এই আদেশ মার্চের ১৬ তারিখ থেকে কার্যকর হবে৷ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ট্রাম্পের প্রথম নির্বাহী আদেশ কার্যকরের বিষয়টি আদালতে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল৷ তাই তিনি আবার নতুন আদেশ জারি করলেন৷ এবার ট্রাম্প তাঁর আগের তালিকা থেকে ইরাককে বাদ দিয়েছেন৷ ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞা সিরিয়া, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, ইয়েমেন ও সুদানের নাগরিকদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে৷

প্রথম আদেশের চেয়ে নতুন আদেশে আরও কিছু পরিবর্তন এনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি যাঁদের আছে এবং যাঁরা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা পেয়ে গেছেন তাঁরা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন না৷

তালিকায় থাকা ছয় দেশের নাগরিকদের ভিসা ইস্যুর বিষয়টি সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যাবে৷ এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পুরো শরণার্থী বিষয়ক কর্মসূচিটিও সাময়িকভাবে স্থগিত হবে৷

ওয়াশিংটনের অ্যাটর্নি জেনারেল বব ফার্গুসন, যিনি একজন ডেমোক্রেট এবং ট্রাম্পের প্রথম আদেশের আইনগত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, তিনি বলছেন, প্রথম আদেশের যে বিষয়গুলো নিয়ে আদালত প্রশ্ন তুলেছিল, এবার নতুন আদেশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে সে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে৷ তবে নতুন আদেশের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েই গেছে বলে জানান তিনি৷

তবে নিউ ইয়র্কের অভিবাসন বিষয়ক অ্যাটর্নি টেড রুথিজার মনে করছেন, ট্রাম্পের নতুন আদেশ কার্যকরে বাধা দেয়া এবার বিচারকদের জন্য ‘অনেক অনেক কঠিনতর' হবে৷

ট্রাম্পের দাদার চিঠি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাদা, মানে ঠাকুরদা বা পিতামহ ফ্রিডরিশ ট্রাম্পের জন্ম জার্মানিতে৷ ভাগ্য উন্নয়নের আশায় তিনি ১৮৮৫ সালে ১৬ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি৷ এরপর সম্পদশালী হয়ে জার্মানিতে ফিরে বিয়ে করেছিলেন৷ তারপর স্ত্রী সহ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দু'বছর কাটিয়ে আবার জার্মানিতে ফিরে এসেছিলেন৷ কিন্তু সেই সময়কার জার্মান কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পের দাদাকে জার্মানি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ ট্রাম্পের দাদার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি অনুমতি না নিয়ে জার্মানি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, আর তিনি বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেননি৷ ১৯০৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পের দাদাকে জার্মানি ছাড়ার নির্দেশ সংক্রান্ত ডিক্রি জারি করেছিল৷ তার প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের দাদা সেই সময়কার বাভারিয়ার যুবরাজ লুইটপল্ডকে জার্মানিতে থাকতে দেয়ার আকুতি জানিয়ে একটি চিঠি লিখেছিলেন৷ ‘হারপার' নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক মাসিক সাময়িকী সম্প্রতি ট্রাম্পের দাদার চিঠিটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেছে৷

চিঠির শুরুতে ফ্রিডরিশ ট্রাম্প বাভারিয়ার যুবরাজকে ‘সবচেয়ে ক্ষমতাবান প্রিন্স শাসক, সবচেয়ে দয়ালু শাসক ও লর্ড' বলে সম্বোধন করেন৷ প্রথমে তাঁর অ্যামেরিকা যাওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন তিনি৷ এরপর জার্মানি ছাড়ার নির্দেশ পাওয়ার বিষয়ে ফ্রিডরিশ ট্রাম্প লেখেন, ‘‘...কিংডম অফ বাভারিয়াতে আমাদের বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ পেয়ে মনে হচ্ছে পরিষ্কার আকাশ থেকে আমাদের মাথায় বাজ এসে পড়েছে৷ আমরা ভয় পেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি, আমাদের সুখী পারিবারিক জীবন বিবর্ণ হয়ে উঠেছে৷ আমার স্ত্রী উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন, আর আমার সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েছে৷''

ট্রাম্পের দাদার সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল৷

জেডএইচ/ডিজি (এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়