1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

ইমামদের আইন বহির্ভূত বয়ান না দেয়ার অনুরোধ

ব্লগার রাজীব হত্যা মামলায় দু'জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং জঙ্গি নেতা মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানীসহ অন্য ছয় আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট৷ পাশাপাশি ইমামদের প্রতি জানানো হয়েছে বিশেষ অনুরোধ৷

রাজীব হত্যার রায় এবং ইমামদের প্রতি আদালতের অনুরোধের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছে৷ রাজীব হত্যাকাণ্ডে নিম্ন আদালতের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার রায় দেয়৷ নিষিদ্ধ সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানীর উগ্রবাদী শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত ছাত্র মিলে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়৷ রায়ে রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাঈম দীপ-এর মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে৷ বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড হয়েছে৷

দুই বছর আগে দেওয়া ওই রায়ে বলা হয়, মুফতি মো. জসীমউদ্দিন রাহমানী যে জবানবন্দি দিয়েছেন, তাতে হত্যাকাণ্ডে তার নিজের বা অন্য আসামিদের কারও সম্পৃক্ততার কথা আসেনি৷ তবে তার খুৎবায় অনুপ্রাণিত হয়েছে এসব আসামি৷ এ কারণে তার বিরুদ্ধে প্ররোচনার অভিযোগ আসে৷ তার শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড৷

এছাড়া রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘‘একজন ইমামের দায়িত্ব হলো নামাজ পড়ানো এবং ইসলামের জ্ঞান মুসল্লিদের দেয়া৷ ইমাম সাহেবরা এমন কোনো বয়ান দেবেন না যেটা প্রচলিত আইন বহির্ভূত৷'' আদালত বলেছেন, যদি কেউ ইসলাম, নবী (স.) কিংবা অন্য কোনো ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন বা ফেসবুকে পোস্ট দেন, তাহলে দেশের প্রচলিত আইনে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়৷ কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই৷

সন্তানদের ‘সঠিক পথে রাখতে' অভিভাবকদের আরও বেশি দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে হাইকোর্টের এই রায়ে৷ আদালত বলেছেন, আমাদের অনেক অভিভাবক নিজেদের জীবযাত্রা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন৷ তাই সন্তানদের গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সময় দিতে, তারা যেন ভালভাবে গড়ে উঠতে পারে সেজন্য সচেষ্ট থাকতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে৷

রায় সম্পর্কে ব্লগার আরিফ জেবতিক ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘‘রাজীব এক বিস্মৃত নাম৷ প্রায় সকলেই তাঁকে ত্যাজ্য করেছে৷ এরমাঝে আদালত অন্তত বিচারটুকু করেছেন-এটাই সান্ত্বনা৷ আসামিরা বেকসুর খালাস পেয়ে গেলেও উচ্চবাচ্য করার কিছু ছিল না৷''

অপরাজিতা নীল লিখেছেন, ‘‘যখন ব্লগার রাজীবকে খুন করা হলো নাস্তিকতার দোহাই দিয়ে, আমরা সমস্বরে আওয়াজ তুলেছিলাম, ‘জঙ্গিদের কোন ধর্ম নাই, এদের শাস্তি দিতে হবে'৷ তখন অনেকেই মিনমিনিয়ে বলেছিল, ‘ভালো হয়েছে, বেশ হয়েছে'৷ হেফাজতের মতো আরেকটা নামহীন ধর্মব্যাবসায়ীকে ফ্লোর করে দিয়ে যে ভুল করা হয়েছিল, সেটি চলমান আছে এখনো.... তাদের ইচ্ছায় এখন পাঠ্যপুস্তকের কন্টেন্টও চেঞ্জ হয়! এরপরেও গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলেছিলাম বারবার, হেফাজতের একটা ভোটও নৌকায় পড়বে না, জামাত-শিবির-বিএনপি'র তো নয়ই৷ মিলেছে প্রমাণ কুমিল্লার নির্বাচনে? মিলেছে প্রমান জঙ্গি হামলাগুলোতে? আজ তারা এতটাই সুসংগঠিত যে, তাদের হামলায় র‍্যাবের গোয়েন্দা প্রধান খুন হন৷ ধর্ম ব্যাবসায়ীদের সাথে উইন উইন সিচুয়েশনে থাকব, নাকি কচুকাটা করে ধান্দার উসুল তুলে ফেলব, সেটা ভাবার বোধ করি সময় এসেই গেছে৷ সিদ্ধান্ত আপনাদের হাতে৷''

আজম খান ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘‘দাবি মতো সব কয়টা খুনীর ফাঁসি হয়নি৷ তবু মন্দের ভালো, বিচার তো হয়েছে৷ এটুকুই সান্ত্বনা৷''

মো. জাহেদ আহমেদ লিখেছেন, ‘‘রাজীব হত্যার বিচার হয়েছে, এবার অভিজিৎ দা'র খুনিদের বিচারের পালা৷''

আসাদুল ইসলাম ইমামদের দায়িত্ব প্রসঙ্গে আদালতের নির্দেশনার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, ‘‘ ‘‘মহামান্য বিচারপতিদের ধন্যবাদ জানাই৷ তারা আদালতে বলেছেন, ‘‘একজন ইমামের দায়িত্ব হলো মুসল্লিদের নামাজ পড়ানো৷ ইসলাম সম্পর্কে সঠিক দিক-নির্দেশনা প্রদান করা৷ তিনি এমন কোনো বয়ান দেবেন না, যা দেশের প্রচলিত আইন বহির্ভূত৷'' ইমাম সাহেবদের মনে রাখা উচিত জাতির জাতীয় কোনো কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার বা আদেশ, ফতোয়া জারি করার কোনো বৈধ অধিকার তাদের নেই৷''

তিনি আরও লিখেছেন, ‘‘এই পোস্ট দেওয়ার দরুন আমাকে কাফের, নাস্তিক ফতোয়া দিবেন না দয়া করে৷ আল্লাহ নিষেধ করা সত্ত্বেও আপনারা ধর্মীয় কাজের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করে, স্বার্থ হাসিল করে নিজেদেরকে সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের অধীন করে ফেলেছেন৷ আপনারা নামেই ইমাম অর্থাৎ নেতা৷ যতদিন বিনিময় নিবেন ততদিন এই ‘ইমাম' নাম ধারণ করেই থাকতে হবে৷''

 

একই প্রসঙ্গে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া মো. রবিউল ইসলাম রবি'র৷ তিনি ফেসবুকে লিখেছেন,

‘‘নামাজ পড়ানোর দায়িত্বের বাইরে বয়ান দেওয়ার ক্ষেত্রে ইমামদের সতর্ক হওয়ার উপর জোর দিয়েছেন হাইকোর্ট৷ বাহ! বিচারপতি অসাধারন বক্তব্য দিয়েছেন৷ আমার নবীকে কটুক্তি করবে,কোরআন হাদিসের বিরুদ্ধে কথা বলবে! আর আমরা মাঝখান থেকে কোন প্রতিবাদ করবো না! এ কখনোই হতে পারে না৷''

অন্যদিকে, রিয়াদুল হাসান লিখেছেন, ‘‘মহামান্য বিচারপতি বলেছেন এই হত্যা মামলার এভিডেন্স ও আর্গুমেন্ট থেকে দেখা যায় মুফতি বাদে বাকি সাত জন মেধাবী ছাত্র৷ কিন্তু তারা কেন এই পথে গেলেন সেটা আমরা খুঁজে পাইনি৷'' রিয়াদুল লিখেছেন, ‘‘মেধাবী ছাত্ররা কেন জঙ্গি হলো সেটা বোঝা কি খুবই কঠিন? প্রথম কথা হচ্ছে এই ছেলেগুলো ছিল ধর্মবিশ্বাসী কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে তাদের সঠিক ধারণা ছিল না৷ কোরানের জেহাদ সংক্রান্ত প্রচুর আয়াত ও রসুলাল্লাহর সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস তাদের সামনে কোনো জঙ্গিবাদি পণ্ডিত বা মুফতি তুলে ধরেছে এবং মুসলিম জাতির দুর্দশায় জেহাদ করতে উদ্বুদ্ধ করেছ৷ কী সেই জেহাদ? হুজুর বলে দিলেন, কোনো ইসলামবিদ্বেষীকে হত্যা করলেই তোমার জান্নাত নিশ্চিত৷''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়