1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইবোলা ভাইরাস মোকাবিলা প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশে যাতে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ না হয়, তার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিশেষজ্ঞ সেই প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করছে৷ এরই মধ্যে তাঁরা ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রস্তুতি সরেজমিন দেখেছেন৷

Symbolbild - Ebola

প্রতীকী ছবি

বুধবার রাজধানী ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি পরিদর্শন করেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষজ্ঞ দল৷ তাঁদের সঙ্গে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশে কর্মরত ‘ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল' বিভাগের সদস্যরাও ছিলেন৷

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল'-এর পরিচালক বে-নজীর আহমেদও ছিলেন৷ তিনি জানান, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরের কড়া স্বাস্থ্য-পরীক্ষা এড়িয়ে যদি সেখানে ভাইরাসটি ঢুকতে পারে, তাহলে বিশ্বের যে কোনো দেশেই এটি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে৷ বাংলাদেশেও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছে৷ তাই তাঁদের ‘দুশ্চিন্তা'-র যথাযথ কারণও রয়েছে৷''

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়: ভারত সীমান্তে ১৯টি স্থলবন্দর, তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দুটি সমুদ্রবন্দর এবং মিয়ানমারের সঙ্গে একটি স্থলবন্দর – এই ২৫টি স্থানে ‘মেডিকাল টিম' কাজ করছে৷

Biman Bangladesh Airlines ARCHIVBILD

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রস্তুতি সরেজমিন দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানান, ‘‘ইবোলা ভাইরাস মোকাবেলায় অনেক আগেই সতর্কাবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ৷ খুব শীঘ্রই দেশের সকল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘থার্মাল স্ক্যানিং'-এর ব্যবস্থা করার পাশাপাশি, বাইরে থেকে আসা সকল যাত্রীকে স্বাস্থ্য-পরীক্ষার আওতায় আনা হবে৷''

তিনি বলেন, আফ্রিকার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় দেশের বন্দরগুলোতে ‘মনিটরিং' কার্যক্রম জোরালো করা হয়েছে৷ এই ব্যবস্থা আগামী কয়েক মাস অব্যাহত থাকবে৷

বাংলাদেশের বিমানবন্দর বা চেকপয়েন্টগুলোতে সবার স্বাস্থ্য-পরীক্ষা এবং ‘থার্মাল স্ক্যানিং'-এর ব্যবস্থা নেই৷ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিমানবন্দরে দেশের বাইরে থেকে আসা সকল যাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় রাখা কঠিন কাজ৷ তবে তা এ মুহূর্তে জরুরি হয়ে পড়েছে৷ তবে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আগত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হচ্ছে ইতিমধ্যেই৷ বিমানবন্দরে বাইরে থেকে আগত সকল যাত্রীর জ্বর মাপার যন্ত্র বসানোর চিন্তা-ভাবনা রয়েছে৷''

সরকারের রোগতত্ত্ব, নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাহামুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বর্তমানে বিমানবন্দরে একটি ‘মেডিকাল টিম' কাজ করছে৷ সকল যাত্রীদের স্বাস্থ্য-পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই৷ শুধু পশ্চিম আফ্রিকার দেশ থেকে কেউ স্বাস্থ্যগত সমস্যা নিয়ে আসলে তাঁকে পরীক্ষা করা হবে৷ বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের মধ্যে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি আছেন কিনা, তা পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করার জন্য একটি ‘মেডিকাল ডেস্ক'-ও বসানো হয়েছে৷''

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন জাকির হাসান বলেন, ‘‘কোনো যাত্রীকে সন্দেহ হলে তাঁর নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর রাখা হচ্ছে৷ আক্রান্ত কেউ ধরা পড়লে তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হবে৷ তাঁদের জন্য ২০টি পৃথক শয্যার ব্যবস্থাও করা হয়েছে৷''

তিনি জানান, ‘‘পশ্চিম আফ্রিকা থেকে বিমানে করে কোনো যাত্রী বাংলাদেশে আসছেন কিনা, তা বিমান চলাচলের আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বাংলাদেশকে আগেই জানানো হচ্ছে৷ এ পর্যন্ত ১০৬ জন যাত্রী বাংলাদেশে এসেছেন৷ তাঁদের প্রত্যেকের ওপর নজর রেখেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর৷ তাঁদের ২১ দিন পর্যন্ত অনুসরণ করা হচ্ছে৷ অন্যদিকে পশ্চিম আফ্রিকার ওই দেশগুলোতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে থাকা বাংলাদেশি সদস্যদের ব্যাপারে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে সরকার৷''

সম্প্রতি শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে লাইবেরিয়া থেকে আগত ছয়জন বাংলাদেশি ইবোলা সংক্রান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই দেশে ঢুকে পড়েন, যা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে৷ তবে ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল'-এর পরিচালক বে-নজীর আহমেদ দাবি করেন, ‘‘বিমানবন্দরে তাঁদের তাপমাত্রা মাপা হয়েছে৷ এবং তাতে ইবোলার উপস্থিতির কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়