1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ইবোলার মোকাবিলায় নানা প্রচেষ্টা

আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চল সহ বিশ্বের কিছু প্রান্তে ইবোলা ভাইরাসের প্রকোপ দেখলে মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এই মহামারি কি এড়ানো যেত না? ক্যানাডায় তৈরি এক টিকা ঠিক সময়ে বাজারে আনতে পারলে হয়ত সেটা সম্ভব হতো৷

ক্যানাডায় এক হাই সিকিউরিটি ল্যাবে জার্মানির এক ভাইরোলজিস্ট-এর অংশগ্রহণে ইবোলার টিকা তৈরি হয়েছিল৷ প্রাণীর উপর তা পরীক্ষাও করা হয়েছে৷ বিপজ্জনক এই ভাইরাস সংক্রমণের আগে তাদের টিকার মাধ্যমে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল৷ অথচ ১০ বছর পরেও সিয়েরা লিওন ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ এই ভাইরাসের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছে৷ কারণ সেই টিকা আর পরীক্ষা করা হয়নি৷ ব্যয়বহুল এই প্রক্রিয়ার জন্য বাজারও যথেষ্ট বড় ছিল না৷ ফলে এখন রোগ শনাক্ত করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই৷

পরীক্ষায় ভাইরাস ধরা পড়লে জানতে হবে যে ইবোলা মানুষের কোষে তার জিনোম প্রবেশ করিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটাতে পারে৷ টিকা মানুষের শরীরকে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামে শক্তিশালী করে তুলতে পারে৷

Ebolaforschung in Marburg

ইবোলা সংক্রান্ত গবেষণা চলেছে জার্মানির মারবুর্গে

লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিটার পায়ট প্রায় ৪০ বছর আগে অন্যান্য গবেষকদের সঙ্গে এই ভাইরাস আবিষ্কার করেছিলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘ইবোলা ভাইরাস সব ইন্দ্রিয় আক্রমণ করলে এবং সব ইন্দ্রিয় ‘ফেল' করলে রক্তপাত হতে পারে৷ তবে সব সময়ে নয়৷ তাই একে ‘হেমোরব়্যাজিক ফিভার' বলা হয়৷ সাধারণত লক্ষণ দেখা দেবার এক সপ্তাহ পর মৃত্যু ঘটে৷''

এই রোগ সারিয়ে তোলার কোনো ওষুধ নেই৷ গোটা বিশ্বে ১০টি এমন ওষুধ তৈরির চেষ্টা চলছে৷ কিন্তু সেগুলি এখনো ছাড়পত্র পাবার প্রক্রিয়া পেরোতে পারছে না৷ তবে কিছু রোগীর উপর এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ঘটছে৷ কখনো কখনো সাফল্যও আসছে৷ একটি ওষুধ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী৷

একাধিক ওষুধের এই প্যাকেজ ভবিষ্যতে ইবোলা ভাইরাসকে হয়ত ছড়িয়ে পড়তে দেবে না৷ এর মধ্যে রয়েছে ক্যানাডায় তৈরি টিকার ৮০০ অ্যামপিউল৷ অবশেষে মানুষের উপরও তা পরীক্ষা করা হচ্ছে৷ এর সুবিধা হলো ইবোলা সংক্রমণের দুই দিন পরেও এই ওষুধ কাজ করতে পারে৷ ক্যানাডায় তৈরি টিকা ও অন্য একটি ওষুধ ছাড়পত্র পাবার দৌড়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে৷ দ্বিতীয়টি তৈরি করেছে ওষুধ কোম্পানি গ্ল্যাক্সো স্মিথ ক্লাইন৷

দুটি টিকার তথাকথিত প্রথম পর্যায়ের পর্যবেক্ষণের ফলাফল ইতিবাচক হলে আগামী বছরের শুরুতে কয়েক লক্ষ বোতল বাজারে আসতে পারে৷ এছাড়া আরও টিকা তৈরির প্রক্রিয়া চলছে৷ রাশিয়া ও চীনেও কাজ চলছে৷

ইবোলার বিরুদ্ধে সংগ্রামের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোনো বিলম্ব চাইছে না৷ ডাব্লিউএইচও-র মারি পল কিয়েনি বলেন, ‘‘চলমান ফেজ ওয়ান ক্লিনিকাল ট্রায়ালের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা না করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিতে ডিসেম্বর মাসেই সব সহযোগীরা পরীক্ষা শুরু করছে৷''

বর্তমান মহামারির ক্ষেত্রে এই টিকা অবশ্য আর কাজে লাগবে না৷ রোগের প্রসার রুখতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের মানুষকে সঠিক আচরণ শিখতে হবে৷ যেমন ইবোলা রোগীদের অন্যান্য রোগীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে এবং কোয়ারেন্টাইন করে তাদের চিকিৎসা করতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন