1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইবোলার বিরুদ্ধে পূর্ণ নিরাপত্তা সম্ভব নয়

পশ্চিম আফ্রিকায় হাজার-হাজার মানুষ ইবোলায় প্রাণ হারাচ্ছেন৷ ইবোলা যে মহামারি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা-তে কোনো সন্দেহ নেই৷ ওদিকে ইউরোপ-অ্যামেরিকায় মাত্র কয়েকটি ইবোলার ঘটনা নিয়ে হিস্টিরিয়া শুরু হয়েছে৷

ইবোলা অনেকটা জলবায়ুর পরিবর্তনের মতো: তার প্রভাব পড়ে অন্যত্র, বাংলাদেশ কিংবা অস্ট্রেলিয়ায়, যেখানে বন্যা কিংবা খরা জনজীবনকে বিপন্ন করে৷ অথচ তার কথা ভেবেই আতঙ্কের সৃষ্টি হয় সূদূর জার্মানিতে৷ আফ্রিকা কিংবা এশিয়ায় যে কোনো ধরনের বিপর্যয় ঘটলেই জার্মানরা তাদের প্রখ্যাত ‘আংস্ট', অর্থাৎ আদি ভীতিতে ভোগেন৷ অন্যদের বিপদে জার্মানরা কষ্ট পান বৈকি, কিন্তু তাঁদের সবচেয়ে বড় চিন্তা নিজেদের নিয়ে: ‘আমাদের কি হবে?' কেননা জার্মানরা সব কিছু নিজেদের কন্ট্রোলে রাখতে ভালোবাসেন, সেজন্য তাঁরা সব কিছু করতে প্রস্তুত৷ নানা ধরনের বীমা, ‘লাইফ এক্সপেক্টেশন' বাড়ানো, বয়স না হতেই অবসরগ্রহণ – জার্মানরা তাঁদের নিজেদের জীবন নিজেরাই গড়ে নিতে ভালোবাসেন৷ জার্মানদের ট্রেডমার্ক হলো ‘কমপ্রেহেনসিভ ইনসিওরেন্স' বা পূর্ণাঙ্গ বীমা৷ পারলে জার্মানরা ইবোলার বিরুদ্ধেও বীমা করাতেন!

মহামারি প্রতিরোধ নড়বড়ে

পরম শক্তিশালী অ্যামেরিকাও এবার একটি নতুন শত্রু আবিষ্কার করেছে৷ ইবোলা নিয়ে মার্কিনিরা হতভম্ব৷ মার্কিন মুলুকের অ্যালাস্কা প্রদেশের প্রতিটি ড্রাগস্টোরে ব়্যাটলস্নেকের মতো বিযাক্ত সরীসৃপের কামড় থেকে বাঁচার সেরাম রাখা আছে৷ কিন্তু মহামারির বিরুদ্ধে মার্কিন আমলারা কিছুটা অসহায়, কিংকর্তব্যবিমূঢ়৷ সরকারি সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি-র ওয়ার্নিং সত্ত্বেও ড্যালাসের একটি ক্লিনিক লাইবেরিয়া থেকে আগত এক রোগীকে জ্বর সুদ্ধ বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল৷ অপর একটি ঘটনায় এক ইবোলা-আক্রান্ত পেশেন্ট ১৩২ জন সহযাত্রী সহ বিমানযোগে ক্লিভল্যান্ড থেকে ড্যালাস যাত্রা করেন৷ এই মারাত্মক ব্যাধি রোখার পেশাদারী পদ্ধতি এটাকে বলা চলে না৷ কাজেই মার্কিনিদের এক-চতুর্থাংশ যে ইবোলার ভয়ে জুজু, তা-তে আশ্চর্য হবার কিছু নেই৷ টুইটারে ইবোলার যুক্তরাষ্ট্রে আগমন ঘোষণা করা হচ্ছে যেন বিন লাদেন স্বয়ং হামলা চালিয়েছেন৷

বিমানযাত্রার যুগে মহামারী

শিল্পোন্নত দেশগুলিতে এই আশঙ্কা – আতঙ্কের কোনো যুক্তি না থাকলেও – যে খুব অমূলক, এমন নয়৷ ইবোলায় আক্রান্ত এক যাত্রী থেকে যদি বিমানের বাদবাকি ১৩২ জন আরোহীর সংক্রমিত হবার আশঙ্কা থাকে – ড্যালাসে যা ঘটেছে; ধরা যাক, সহযাচ্রীদের মধ্যে মাত্র তিন কি পাঁচজনই যদি সংক্রমিত হন, তাহলেও ঐ তিন থেকে পাঁচজন ২১ দিনের মধ্যে তাদের ইবোলা দেখা দেওয়া অবধি অন্যান্য মানুষদের সংস্পর্শে আসবেন: বাড়িতে, অফিসে, দোকান-বাজারে৷ এবং সেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি ‘সচল' সমাজে৷ একটা দুঃস্বপ্ন৷

বাকি থাকে ‘আংস্ট'

এমন যে ঘটবেই, তার কোনো কথা নেই৷ ইবোলার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হল স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নিয়মাবলী, রোগীদের পরিচর্যা করার সময় পরিচারকদের সুরক্ষা এবং – সবচেয়ে বড় কথা - সাধারণ বুদ্ধি৷

Deutsche Welle Volker Wagener Deutschland Chefredaktion REGIONEN

ফল্কার ভাগেনার, ডিডাব্লিউ-র সম্পাদক

চিকিৎসকরাই এ কথা বলছেন৷ পশ্চিমে তো সে' সবই আছে, তাহলে ভয় কেন? আসল কথা হলো, ভীতি, আশঙ্কা, আতঙ্ক প্রধানত অযৌক্তিকই হয়ে থাকে৷ যা থেকে নানা ধরনের পরস্পরবিরোধিতার সৃষ্টি হয়৷

সমৃদ্ধ দেশ জার্মানিতে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ একটি সাধারণ জ্বরে প্রাণ হারান, শুধু তারা টিকে নেননি বলে৷ এই একবিংশ শতাব্দীতেও প্রাপ্তবয়স্করা মাম্পস কিংবা হাম-এর মতো অসুখে প্রাণ হারান, কেননা তারা টিকে নেননি অথবা পরে বুস্টার ডোজ নেননি৷ হার্ট অ্যাটাক, সেরেব্রাল, সুরাসক্তি, এ সব তো এখানকার সমৃদ্ধ, বিলাসবহুল জীবনযাত্রার সাইড এফেক্ট৷ কিন্তু ইবোলা? তা-তে চমকে যান জার্মানরা৷ কেননা সেটা তো আফ্রিকা থেকে এসেছে, যেখানে ও' ধরনের ব্যাপার-স্যাপার স্বাভাবিক বলে গণ্য করা হয়৷ আফ্রিকাকে ইবোলার বিরুদ্ধে সংগ্রামে সাহায্য করার জন্য কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে অর্থ প্রদান করার কথা ভেবেছেন ক'জন জার্মান? নিজের ভীতি নিয়ে মশগুল থাকাটাই আরামের – যখন আফ্রিকায় হাজার-হাজার মানুষ ইবোলায় প্রাণ হারাচ্ছেন৷

মানুষ কতটা স্বার্থপর হতে পারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়