1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ইবোলার টিকার সন্ধানে

ইবোলা ভাইরাসের মোকাবিলার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য টিকা একটা গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হতে পারে৷ এই মুহূর্তে আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলে কিছু মানুষের উপর তার পরীক্ষা চলছে৷ সেই পরীক্ষা সফল হলে সাধারণ মানুষের উপর এই টিকা প্রয়োগ করা হবে৷

অঁতোয়ান মাগাংগা মম্বো-র জন্য রক্ত পরীক্ষা স্বাভাবিক রুটিন হয়ে পড়েছে৷ গত বছরের শেষে তাঁকে এবোলার পরীক্ষামূলক টিকা দেওয়া হয়েছিলো৷ তার পর থেকে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা চলছে৷ তিনি বলেন, ‘‘শরীরে সব কিছু ঠিক আছে কিনা, এভাবে জানতে পারি এবং মানুষকে সাহায্য করতে পারি৷''

জোসে ফার্নান্ডেস গ্যাবন-এ পড়াশোনা করেছেন, দীর্ঘদিন সে দেশে কাজ করেছেন৷ তিনি এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত এবং ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে পরীক্ষা করেন৷ পরীক্ষার প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন ডোজ কতটা নিরাপদ ও সেগুলির টলারেন্স-এর মাত্রা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

এই কর্মসূচির কারণে তিনি জার্মানিতে তাঁর দ্বিতীয় ডক্টরেট আপাতত বন্ধ রেখেছেন৷ ফার্নান্ডেস বলেন, ‘‘আমার কাছে এটা ছিল খুবই সহজ সিদ্ধান্ত৷ কারণ এটা বিজ্ঞানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ৷ এই রোগের টিকা উদ্ভাবন হবে এক বিশাল সাফল্য৷''

শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা ইবোলা ভাইরাস-কে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করবে, এটাই লক্ষ্য৷ সেটা সম্ভব করতে জেনেটিক পদ্ধতিতে পরিবর্তিত একটি ভাইরাস টিকা হিসেবে শরীরে ঢোকানো হয়৷ ইমিউন সিস্টেমকে এই প্রোটিনের মোকাবিলা করতে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে হবে৷ ল্যাবে সবার রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে৷ এখনো পর্যন্ত কোনো সমস্যা চোখে পড়েনি৷ দ্বিতীয় পর্যায়ে আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলে এই টিকার প্রভাব পরীক্ষা করা হবে৷

গ্যাবন-এর গবেষকরা জার্মানির ট্যুবিঙেন শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রপিকাল মেডিসিন ইনস্টিটিউট-এর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন৷ প্রকল্পের সমন্বয়ক ব্যার্ট্রাম লেল বলেন, ‘‘যে সব কাজে সাধারণত কয়েক বছর সময় লাগে, আজকাল কয়েক মাসেই তা করা হয়েছে৷

কয়েক মাসের কাজ কয়েক সপ্তাহে হয়েছে৷ জেনিভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সবকিছুর সমন্বয় করছে, তাদের হাতেই রাশ রয়েছে৷ তাদের সহায়তার কারণেই এবার সব কিছু এত দ্রুত ঘটছে এবং ঘটা সম্ভব৷''

অঁতোয়ান মম্বো এই স্টাডি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মোটেই আক্ষেপ করছেন না, যদিও অনেক বন্ধু তাঁকে এ সব থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিল৷ প্রায় ৪০০ ইউরো পারিশ্রমিকও তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে৷ তাঁর পরিবারের টাকার প্রয়োজন রয়েছে৷ আফ্রিকার এই দেশে তাঁর মতো অনেকেই বেশ গরিব৷ ইবোলা পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে৷ এই টিকা আশার আলো দেখাচ্ছে৷ জোসে ফার্নান্ডেস বলেন, ‘‘এই প্রকল্প থেকে কোনো সিদ্ধান্তে আসার সময় এখনো আসে নি৷ তবে আমরা আশাবাদী৷ যে গবেষণা শুরু করেছি, তা চালিয়ে যাবো৷ শীঘ্রই নির্ভরযোগ্য ফলাফল এলে আরও বেশি জানা যাবে৷''

জোসে ফার্নান্ডেস মনে করেন, স্টাডির ফলাফল শীঘ্রই প্রকাশিত হবে৷ যদি জানা যায় যে, এই টিকা মানুষের জন্য নিরাপদ, তার পরেই ইবোলা আক্রান্ত এলাকায় টিকা দেওয়া শুরু হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়