1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘ইবোলাকে রোখার জন্য উদ্যোগটা যথেষ্ট নয়’

জাতিসংঘের ‘ইবোলা এমারজেন্সি রেসপন্স মিশন’-এর প্রধান হিসেবে সম্প্রতি ইবোলায় বিপর্যস্ত তিনটি দেশ ঘুরে এসেছেন অ্যান্থনি ব্যানবারি৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ সফরে ইবোলা সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন তিনি৷

ডয়চে ভেলে: গিনি, লাইবেরিয়া আর সিয়েরা লিওন ঘুরে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি দেখে আসার পর আপনার কি মনে হয়, জাতিসংঘের ইবোলা এমারজেন্সি রেসপন্স মিশন (ইউএনএমইইআর) ৬০ দিনের মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগ সংক্রমিতের চিকিৎসা দিতে পারবে?

অ্যান্থনি ব্যানবারি: চলমান সংকট মোকাবেলা করতে হলে ৬০ দিনের মধ্যে সত্তর ভাগ সংক্রমিতের চিকিৎসা করা খুব দরকার৷ তবে লক্ষ্যটা যে অতি উচ্চাকাঙ্খী তা-ও ঠিক৷ আমরা এখন এ লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে করণীয় ঠিক করছি৷ এক্ষেত্রে শুধু ইউএনএমইইআর-এর সম্পদের ওপর নির্ভর করলেই চলছে না, ইবোলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যাঁরা ভূমিকা রাখছে, তাঁদের সহয়তার ওপরও এর সাফল্য নির্ভর করছে৷ লক্ষ্য এবং সাধ্যের মধে ব্যবধান কমিয়ে আনার জন্যই তা দরকার৷

কিন্তু সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া এবং গিনি ঘুরে আসার পর কি আপনি এ লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী?

এই রোগটির কারণে ওই দেশগুলোর সাধারণ মানুষ যে চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে, সে বিষয়টিই ঘুরেফিরে আসছে আমার মনে৷ খুব হৃদয়বিদারক ব্যাপার৷ দেশগুলোর জনগণ এবং অর্থনীতির আরো বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে৷ ইউএনএমইইআর-সহ সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিপর্যয়ের অবসান এবং এই রোগের ছোবলে ওই দেশগুলোর মানুষের মৃত্যু থামানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে৷

এ জন্য যে পরিমাণ সম্পদ বা সহায়তা দরকার, তা কি পাওয়া যাচ্ছে?

সহায়তা আসতে শুরু করেছে৷ সারা বিশ্বেরই আরো দ্রুত উদ্যোগী হওয়া উচিত৷ এখন সবকিছু দ্রুতই হচ্ছে৷ তবে যেটুকু হচ্ছে, তা যথেষ্ট নয়৷ আমরা চাই, আরো বেশি দেশ মানবিক সহায়তা এবং চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ল্যাবরেটির মতো বিষয়গুলোতেও সহায়তা করে অবদান রাখুক৷ সাহায্য সংস্থাগুলোকে দেয়ার জন্য আমরা আরো সেবাকর্মী, হেলিকপ্টার এবং আর্থিক সম্পদ চাই এবং সম্ভব হলে এ সব আজই চাই আমরা৷

এখন আফ্রিকার বাইরেও অনেকে ইবোলায় সংক্রমিত হচ্ছে৷ অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক স্বাস্থ্যকর্মীর দেহেও ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমন ধরা পড়েছে৷ আপনার কি মনে হয়, এ কারণে ইবোলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পশ্চিমা দেশগুলো আরো বেশি সম্পৃক্ত হতে পারে?

আমার মনে হয়, ইবোলা যে শুধু কয়েকটি দেশের জনগণের জন্য নয়, তা যে সেই অঞ্চল বা সেই সীমানা ছাড়িয়ে সব মানুষের জন্যই ভয়ংকর এক হুমকি, সারা বিশ্ব তা এখন বুঝতে পারছে৷ ইবোলার কবল থেকে সব দেশের সব মানুষকে বাঁচানোর একটাই উপায় আর তা হলো, যে অঞ্চলে প্রাদূর্ভাব দেখা দিয়েছে সেখানেই ইবোলাকে নির্মূল করে দেয়া৷

লাইবেরিয়ার স্বাস্থাকর্মীরা ধর্মঘট শুরু করার হুমকি দিয়েছেন৷ ইবোলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এর কতটুকু প্রভাব পড়তে পারে?

স্বাস্থ্যকর্মীরা ধর্মঘটে গেলে সেটা অবশ্যই ইবোলা-বিরোধী লড়াইয়ে নেয়া সমস্ত পদক্ষেপকে বিপর্যস্ত করবে৷ তবে যাঁরা মাঠ পর্যায়ে ইবোলার বিরুদ্ধে লড়ছে, তাঁদের তো টাকা দেয়া উচিত আর এক্ষেত্রে নিজ নিজ স্বার্থে সবারই সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত৷ তাছাড়া কাজ করার সময় তাঁরা যাতে নিজেদের নিরাপদ রাখার মতো সরঞ্জাম পায়, সেটা নিশ্চিত করাও সবার দায়িত্ব৷ শুধু স্বাস্থ্যকর্মী নয়, যাঁরা লাশের সৎকার করছেন, যাঁরা সংক্রমিতদের নিয়ে আসছেন – তাঁদের প্রত্যেককেই প্রাপ্য টাকা দেয়ার চেষ্টা করবে ইউএনএমইইআর৷ বিষয়টি নিয়ে বিশ্বব্যাংক, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি)-সহ অন্যান্য সহযোগী সংস্থাকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করবে ইউএনএমইইআর৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন