1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইপিজেড-এ শ্রমিক সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন নয়

রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) শ্রমিকরাও এখন থেকে দর-কষাকষি করার জন্য সমিতি করার সুযোগ পাবেন৷ অর্থাৎ তাঁরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দর-কষাকষির জন্য শ্রমিক কল্যাণ সমিতি করতে পারবেন৷

সোমবার বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা ইপিজেড শ্রম আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়৷ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়৷

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, ‘‘এই আইনের খসড়া অনুযায়ী সমিতির মাধ্যমে শ্রমিকদের দর-কষাকষি করার ক্ষমতা থাকবে৷ সমিতি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কারখানার ৩০ শতাংশ শ্রমিককে ইপিজেড কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে৷ আর তারপর আবেদনকারীদের মধ্যে ভোট হবে৷ তাদের ৫০ শতাংশ যদি সমিতির পক্ষে থাকে, তাহলেই সমিতি হবে৷''

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই আইন হলে শ্রমিকদের অধিকার বাড়বে৷ তিনি জানান, ‘‘আইনটি বাংলাদেশ শ্রম আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কিন্তু অভিন্ন নয়৷''

ইপিজেড শ্রম আইনের খসড়ার ১৬টি অধ্যায়ের ২০৪টি ধারায় শ্রমিকদের নিয়োগ, চাকরির শর্তাবলি, প্রসূতি সুবিধা, কাজের পরিবেশ, কর্মঘণ্টা, মজুরি, ইপিজেড-এর শ্রম আদালত গঠনসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে৷

গত বছরের এপ্রিলে রানা প্লাজা ধসের পর শ্রমিক নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার বিষয়টি সামনে আসে৷ সরকার এর আগে পোশাক কারখানায় ট্রেড ইউনিয়নের বিধান করলেও ইপিজেড এর বাইরে ছিল৷ তবে তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক ক্রেতা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি ফিরে পেতে ইপিজেড-এ ট্রেড ইউনিয়নের চাপ বাড়ছিল৷ ইপিজেড-এর বাইরে নতুন আইনে এখন পর্যন্ত ২৫০টি ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে৷

তবে অভিযোগ রয়েছে যে, আইনে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার দেয়া হলেও নানাভাবে ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের হয়রানি করা হচ্ছে৷ এছাড়া শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত না হতে কৌশলে চাপ দিচ্ছেন মালিক পক্ষ৷

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘ট্রেড ইউনিয়নের আবেদনের ৩০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতি আদায় করাই কঠিন হয়ে পড়ছে, কারণ তাঁরা চাকরি হারানোর ভয় পাচ্ছেন৷'' ইপিজেড এলাকায় এটা আরো কঠিন হবে বলে জানান তিনি৷

তিনি বলেন, ‘‘ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে সরকারের ইতিবাচক প্রচারণা দরকার৷ শ্রমিকদের মধ্যে এই আস্থা আনতে হবে যে ট্রেড ইউনিয়ন করলে হয়রানির শিকার হতে হবে না৷ শুধু তাই নয়, মালিকদেরও বুঝতে হবে যে ট্রেড ইউনিয়ন হলে তাঁদেরও সুবিধা৷ কারণ ট্রেড ইউনিয়ন হলে শ্রমিকরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে দাবি-দাওয়া আদায় করবে৷ আন্দোলনের নামে কোনো বিশৃঙ্খলা হবে না৷''

সিরাজুল ইসলামের মতে, ‘‘ক্রেতা বা বিদেশিদের দেখানোর জন্য নয়, ট্রেড ইউনিয়নের ব্যাপারে আন্তরিক হতে হবে সরকারকে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়