1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইন্টারপোলের মাধ্যমে তারেক রহমানকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে এবং বিএনপি-র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আটক অবস্থায় প্যারোলে মুক্তি নিয়ে দেশের বাইরে যান৷ এরপর আর ফিরে আসেননি৷ বিএনপি বলছে, তিনি নভেম্বরে দেশে ফিরে আসতে পারেন৷

অর্থ পাচার মামলায় আদালত দুদকের আবেদনে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি করে৷ দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল ডয়চে ভেলেকে জানান, প্যারোলে মুক্তি নিয়ে দেশের বাইরে চিকিত্‍সার জন্য গেলেও তারেক রহমান প্যারোলের শর্ত মানেননি৷ শর্ত হলো তিনি যে দেশে অবস্থান করবেন, সে দেশের বাংলাদেশি দূতাবাসে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন এবং প্রতি তিন মাস পর পর তাঁর স্বাস্থ্যগত অবস্থার রিপোর্ট পাঠাবেন৷ কিন্তু তিনি সে শর্ত মানেননি৷ তাই তাঁর প্যারোল আগেই বাতিল হয়৷ তাঁকে এর আগে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বারবার পত্রিকার মাধ্যমে নোটিশ দেয়া হলেও তিনি হাজির হননি৷

সম্প্রতি জানা যায় তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন৷ তাই আদালতে দুদক গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারির আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে৷ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বলেছেন, তারেককে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফেরত আনার চেষ্টা করা হবে৷ দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, সরকার চাইলে নিয়ম মেনে এই গ্রেপ্তারি পরওয়ানা ইন্টারপোলে পাঠিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তারে সহায়তা চাইতে পারে৷

এর এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি-র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আইনগত বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি ডয়চে ভেলের কাছে৷ তবে তিনি বলেন, তারেক রহমান একজন রাজনীতিবিদ এবং বিএনপি-র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান৷ তাই তিনি চিকিত্‍সা শেষে দেশে ফিরে আসবেন এটাই স্বাভাবিক৷

তারেক রহমানের আইনজীবী এবং বিএনপি-র ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সরকার আদালত এবং দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে৷ তারেক রহমান যে উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে দেশের বাইরে চিকিত্‍সার জন্য আছেন, তা বিচারিক আদালতকে জানানো সরকারের দায়িত্ব৷ তা না করে যখন তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাচ্ছেন তখন তাঁর প্যারোল বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি করা হলো৷''

তিনি দাবি করেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তাঁর অনুপস্থিতিতে অর্থ পাচারের যে মামলা দায়ের করা হয়েছে, তারও কোনো ভিত্তি নেই৷ এই মামলাও তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির জন্য করা হয়েছে৷ তিনি আরও বলেন, সরকার যতই চেষ্টা করুক না কেন ইন্টারপোল কখনোই কোনো সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের কাজ করেনা৷ তাই তারেক রহমানকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফেরত আনার আশা সফল হবেনা বলে মনে করেন তিনি৷

Tarique Rahman, the eldest son of former Prime Minister Khaleda Zia and a senior leader of her Bangladesh Nationalist Party, smiles at a rally in Dhaka, Bangladesh, in October 2006. Bangladesh's army-led security forces arrested Rahman and five other politicians using emergency powers over corruption allegations, media reports said Thursday, March 8, 2007. (AP Photo/Jamil Khan)

তারেক জিয়া

২০০৯ সালের ২৬শে অক্টোবর দুদক তারেক রহমান এবং তার বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা করে৷ সেই মামলায় মামুন গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে আছেন৷ দুদকের আইনজীবী মোশররফ হোসেন কাজল দাবি করেন, তারেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি এবং ইন্টারেপালের মাধ্যমে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদনের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই৷

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে লন্ডনে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান প্রকাশ্যে সরকারের কড়া সমালোচনা করেন৷ এরপরই নভেম্বরে তিনি দেশে আসবেন বলে ঢাকায় জানান বিএনপি-র নেতারা৷ আর সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে আনার কথা বলছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন