1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইউরোপ

ইন্টারনেট কি শেঙেনের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক?

ইউরোপে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার কারণ নাকি শেঙেন চুক্তি৷ এ মত অনেকেরই৷ তবে ডয়চে ভেলের ‘কনফ্লিক্ট জোন' অনুষ্ঠানে ইউরোপোল প্রধান রব ওয়েনরাইট জানান, শেঙেন চুক্তি নয়, ইউরোপে ইন্টারনেটই সন্ত্রাসের জন্য দায়ী৷

ইউরোপের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান বব ওয়েনরাইট

ইউরোপের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান বব ওয়েনরাইট

‘‘দুর্ভাগ্যক্রমে বার্লিন (অর্থাৎ ১৯শে ডিসেম্বরের আক্রমণ) আমাদের দুঃখজনকভাবে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমরা হাজার হাজার সম্ভাব্য উগ্রপন্থিদের নিয়ে কাজ করছি যারা এ ধরনের আক্রমণ করতে পারে'', বলেন ইউরোপের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান বব ওয়েনরাইট৷

ইউরোপোল ‘‘সেই বিপদকে শূন্যে নামিয়ে আনতে পারে না'', বলে মন্তব্য করেন তিনি৷ ইউরোপোলের প্রতিপক্ষ আজ ‘‘আইএস-এর মতো একটি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও ক্ষমতাশালী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী, যারা তাদের যুদ্ধ চোরাপথে ইউরোপে আনতে বদ্ধপরিকর, যেমন আমরা প্যারিস ও ব্রাসেলস এবং এখন বার্লিনেও দেখেছি'', বলেন ওয়েনরাইট৷

গত ডিসেম্বরে বার্লিনের একটি বড়দিনের বাজারের উপর আক্রমণের আততায়ী আনিস আমরির রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হয়েছিল, কিন্তু টিউনিশিয়া থেকে তার কাগজপত্র না আসায় তাকে বহিষ্কার করা যায়নি৷ সেপ্টেম্বরে মরক্কোর গুপ্তচর বিভাগ দু'দু'বার জার্মান গুপ্তচর বিভাগকে আমরি সম্পর্কে সাবধান করে দেয়৷ আমরি মার্কিনিদের তালিকায় ছিল ও ইটালিতে জেল খেটেছে৷

তাহলে কি কর্তৃপক্ষ কিছু করার আগে আমরিকে খবরের কাগজে তার সন্ত্রাসী পরিকল্পনার নোটিস দিতে হবে? বব ওয়েনরাইটকে প্রশ্ন করেন ‘‘কনফ্লিক্ট জোন''-এর সঞ্চালক টিম সেবাস্টিয়ান৷ এক্ষেত্রে ওয়েনরাইট ইউরোপোলের কোনো দায়িত্ব অস্বীকার করেন৷ ইউরোপ জুড়ে বহু মানুষের ওপর নজর রাখা হচ্ছে, কিন্তু এ ধরনের মানুষের সংখ্যা এত বেশি যে, কার তরফ থেকে যে পরবর্তী আক্রমণ আসবে, তা ভবিষ্যদ্বাণী করা সহজ নয় – বলেন বব ওয়েনরাইট৷

ডয়চে ভেলের ‘কনফ্লিক্ট জোন' অনুষ্ঠানে ইউরোপোল প্রধান রব ওয়েনরাইট

ডয়চে ভেলের ‘কনফ্লিক্ট জোন' অনুষ্ঠানে ইউরোপোল প্রধান রব ওয়েনরাইট

বস্তুত ইউরোপোলের সংগ্রাম সংগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধবৃত্তির বিরুদ্ধে হলেও, ইউরোপোল ইইউ-এর সদস্যদেশগুলিতে তদন্ত চালাতে পারে না অথবা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে পারে না৷ কাজেই ইইউ-এর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রধানত একটি তথ্য আদানপ্রদানের পন্থা ছাড়া আর বিশেষ কিছু নয়, যে কারণে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া ইউরোপোলের পক্ষে সম্ভব নয়৷

ওয়েনরাইটকে প্রশ্ন করা হয় যে, শেঙেন চুক্তি অনুযায়ী ইইউ-এর অভ্যন্তরে অবাধ যাতায়াতের স্বাধীনতা এই সন্ত্রাসবাদের যুগে নিরাপত্তার বাস্তবসম্মত নীতি হতে পারে কিনা৷ সেই প্রসঙ্গে ওয়েনরাইট বলেন যে, শেঙেন চুক্তির চেয়ে ইন্টারনেটই অপরাধ ও সন্ত্রাসকে সহজতর করে তুলেছে – ‘‘কিন্তু সেজন্য কেউ ইন্টারনেট পরিত্যাগ করার কথা বলছেন না৷''  জনসাধারণের কাছ থেকে এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা বা স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়াটা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ হতে পারে না, বলে অভিমত প্রকাশ করেন বব ওয়েনরাইট৷

কারোলিন স্মিট/এসি

আপনার কী মনে হয়? কোনটা বেশি বিপজ্জনক? ইন্টারনেটের বিস্তার না শেঙেন চুক্তি? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন