1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইতিহাস সৃষ্টি হচ্ছে টিউনিশিয়ায়

টিউনিশিয়ায় কি ঘটছে না ঘটছে, টিউনিশিয়ার মানুষদের কাছে তার গুরুত্ব অসীম৷ অপরদিকে তারা আরব বিশ্ব, এবং সেই সঙ্গে পশ্চিমি দুনিয়াকেও ভাবিয়ে তুলেছে৷ কেননা টিউনিশিয়ায় ইতিহাস সৃষ্টি হচ্ছে৷

default

টিউনিশিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি হল: প্রতিবাদ, বিক্ষোভ অব্যাহত৷ এবার মানুষজন দূর দূর শহর ও গ্রামাঞ্চল থেকেও আসছেন রাজধানী টিউনিসে৷ এবং তাদের বাধা দেবার ক্ষমতা হয়তো পুলিশের আছে, কিন্তু প্রবৃত্তি - অথবা নতুন করে রক্তকাণ্ডের দায়িত্ব নেবার মতো সাহস পুলিশের নেই৷

প্রধানমন্ত্রী মোহামেদ ঘানুচি'র কার্যালয়ের সামনে জনতা-পুলিশ সংঘর্ষ বেধেছে৷ ক্ষিপ্ত জনতাই পাথর ছুঁড়ছে, পুলিশের লাইন ভাঙার চেষ্টা করছে, পুলিশের গাড়ি ভাঙছে৷ তারা নাকি এই সরকারকে তাড়িয়ে ছাড়বে৷ এবং তার জন্য যতোদিন দরকার, ততোদিন তারা ওখানেই থাকবে৷

তবুও, ঘানুচি নিজে নির্বাচনের আগে গদি ছাড়বেন না বলছেন৷ তাঁর সরকার একাধিক গণতান্ত্রিক সংস্কারের ব্যবস্থা করে জনতার রোষ ঠেকানোর চেষ্টা করছে৷

আরব বিশ্বের প্রথম গণবিপ্লব

কিন্তু তাই দিয়ে কি সাম্প্রতিককালে আরব বিশ্বের প্রথম গণবিপ্লব রোখা যাবে? সেটাই তো হল ইতিহাসের প্রশ্ন৷ সৌদি আরব আশ্রয় দিয়েছে পলাতক প্রেসিডেন্ট বেন আলি'কে৷ ক্যানাডা বলছে তারা বেন আলির আত্মীয়স্বজনকে বহিষ্কার করতে পারবে না কেননা তাদের পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি আছে৷ ইইউ দেশগুলি এখনও বেন আলির সম্পত্তি কি করে আটক করা যায়, তার পন্থা দেখছে৷ আর টিউনিশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামেল মরজানে ফরাসি ল্য ফিগারো সংবাদপত্রের সঙ্গে সাক্ষাতকারে দেশে নৈরাজ্যের ভয় দেখাচ্ছেন৷

‘‘জুঁই ফুলের বিপ্লব''

তাহলে কি টিউনিশিয়ায় ১৪ই জানুয়ারির ‘‘জুঁই ফুলের বিপ্লব'' ব্যর্থ হবে? সাফল্যের সংজ্ঞার উপরে সেটা নির্ভর করবে৷ বহির্বিশ্বে, বিশেষ করে আরব বিশ্বে তো এখন অনেক কিছুই ঘটছে টিউনিশিয়ার ঘটনাবলীর প্রতিক্রিয়া হিসেব৷ ইয়েমেন সপ্তাহান্তে একজন মহিলা রাজনৈতিক বিক্ষোভকারী এবং এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছিল অশান্তির প্ররোচনা দেবার দায়ে৷ সোমবার ইয়েমেন তাদের মুক্তি দিয়েছে৷ অপরদিকে সিরিয়া একজন প্রায় ৭০ বছর বয়সী বামপন্থীকে সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে - যদিও এই মানুষটি ইতিপূর্বেই তাঁর রাজনৈতিক মতবাদের জন্য ১৭ বছর জেলে কাটিয়েছেন৷ আলজিরিয়ায় এক ৩৫ বছর বয়সী পুরুষ আগুনে আত্মাহুতি দিয়েছে৷ মিশরে মুসলিম ভ্রাতৃত্ব আন্দোলন বলেছে, তারা প্রতিবাদে যোগ দিতে রাজি৷

আর জার্মানি? জার্মানিতে একটা সম্পূর্ণ নতুন সুর শোনা গেছে সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক পরিষদের সভাপতি রুপ্রেশ্ট পোলেন্স'এর মুখে৷ তিনি বলেছেন, ইইউ'তে আমরা এযাবৎ - খানিকটা নিরুপায় হয়েই - আরব বিশ্বে কড়া হাতের সরকারদের উপরেই নির্ভর করেছি৷ কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এই কর্তৃত্বপন্থি সরকারগুলোই ইসলামি জঙ্গিবাদের মাথা চাড়া দেবার কারণ৷

প্রতিবেদন: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

সংশ্লিষ্ট বিষয়