1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগওয়াচ

ইতিহাস গড়লেন তিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের তৈরি ‘ন্যানো স্যাটেলাইট’ মহাকাশে উৎক্ষেপণের জন্য জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে৷ এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা৷

বুধবার জাপানের কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজি (কেআইটি)-তে স্যাটেলাইটটি হস্তান্তর অনুষ্ঠান ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাখালী ক্যাম্পাসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়

ন্যানো স্যাটেলাইটটি জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির মাধ্যমে মার্চ মাসে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে৷ স্যাটেলাইটটির নকশা তৈরি থেকে শুরু করে এর চূড়ান্ত কাঠামো তৈরির কাজ করেছেন ব্র্যাক বিশ্বদ্যিালয়ের তিন শিক্ষার্থী রায়হানা শামস ইসলাম, আবদুল্লা হিল কাফি ও মাইসুন ইবনে মানোয়ার৷

বিভিন্ন গণমাধ্যম এই সংবাদটি প্রকাশ করেছে৷

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘‘ন্যানো স্যাটেলাইটটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৪০০ কিলোমিটার উপরে অবস্থান করবে এবং এটি পৃথিবীর চারপাশে প্রদক্ষিণ করতে ৯০ মিনিট সময় লাগবে৷ এটি ১৬ বার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে আর বাংলাদেশকে প্রদক্ষিণ করবে ৪ থেকে ৫ বার৷’’

এই তিন তরুণ শিক্ষার্থী এখন শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন৷ মোস্তফা কে মোল্লা ফেসবুকে বাংলাদেশি এই তিন শিক্ষার্থী এবং তাঁদের পুরো দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন৷

শেখ রুমি ইসলাম ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘‘রায়হানা শামস ইসলাম (ফেসবুকে অন্তরা অন্ত), আবদুল্লা হিল কাফি (এএইচকে কাফি) ও মাইসুন ইবনে মানোয়ার ইতিহাস গড়েছে৷ আমরা সবাই আপনাদের জন্য গর্বিত৷’’

ফেসবুকে অন্তরা অন্ত নামে পরিচিত রায়হানা শামস ইসলাম তাঁর কাজের পেছনে নিজের সাংবাদিক বোন মৌসুমি ইসলামের উৎসাহের কথা লিখেছেন৷ এছাড়া তিনি লিখেছেন, ‘‘মহাকাশে বাংলাদেশের অস্তিত্ব জানিয়ে দেবে আমাদের৷ বাংলাদেশিদের নিজেদের তৈরি স্যাটেলাইট৷ আশা করি, এই যাত্রায় পাশে পাবো সবাইকে, দোয়া করবেন৷’’

নিলাদ্রী অধিকারী টুইটারে খবরটি শেয়ার করেছেন৷

আহমেদ রাইসুস সালেহিন মারুফ ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘‘বাংলাদেশ ন্যানো স্যাটেলাইটের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে৷ বেশিদিন না, হয়তো একদিন বাংলাদেশিদের তৈরি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটের সব ডাটা সংগ্রহ করা হবে৷ শুভকামনা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরির কাজে থাকা সংশ্লিষ্ট মানুষজন৷ শুভকামনাটা একটু বেশি প্রাপ্য মাইসুন ভাই, অন্তরা আপু, কাফি ভাইদের - যারা দেশের হাওয়া বাতাস ছেড়ে সুদূর জাপানে রাতের ঘুম হারাম করে, ঈদের আনন্দ মাটি করে ‘বাংলাদেশ' নামক দেশটার অর্জনের পাল্লাটা আরও একটু ভারি করছেন৷’’

এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন লিখেছেন, ‘‘এটুকু নিঃসন্দেহে বলা যায়, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের মধ্যে কাজ করার জন্য আগ্রহের শেষ নেই৷ তাদের দরকার একটু পৃষ্ঠপোষকতা আর গবেষণার সুযোগের৷ ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এই প্রচেষ্টা সত্যিই অনেক আনন্দের বিষয়৷ ব্যাপারটা যে এত সহজ না সেটা অনেকেই জানেন৷ বিশেষ করে ধন্যবাদ জানাই খলিলুর রহমান স্যারকে৷আর যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রজেক্টটা দাঁড়িয়েছে তাদের সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন৷ আশা করি, তোমাদের এই নতুন অভিজ্ঞতা আর ইচ্ছের উপর ভর করে বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণায় আরো অনেকটা পথ এগিয়ে যাবে৷’’

উজ্জ্বল সরকার লিখেছেন, ‘‘আজ অনেক স্বপ্নই আর স্বপ্ন নয়৷ আমরা আজ পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে অনেক দূরের স্বপ্নকে বাস্তবতার কাছে নিতে চাই৷ অভিনন্দন৷’’

গবেষণা কাজে জড়িত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এ কে এইচ কাফি লিখেছেন, ‘‘২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রিয় স্বদেশ ছেড়ে আসি জাপানে ৷ বুকে ছিল ন্যানো-স্যাটেলাইট তৈরির স্বপ্ন৷ আমরা তিন জন অন্তরা, আমি আর মাইসুন দিন রাত পরিশ্রম করেছি, খাওয়া-দাওয়া কোনো কিছুর ঠিক ছিল না৷ শুধু চিন্তা স্যাটেলাইট বানানো৷ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে পারলে সেটি হবে দেশের জন্য একটি বড় কাজ, প্রথম কাজ৷ শুরু হবে মহাকাশ গবেষণায় পথচলা৷ সময় কেটেছে উৎকণ্ঠায়৷ কখন স্যাটেলাইট এর মুখ দেখব৷ আমাদের কাজ হলো স্যাটেলাইট তৈরি করে JAXA এর কাছে হস্তান্তর৷’’

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়