1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সুনামি

২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের উপকূলে সমুদ্রগর্ভে সংঘটিত ভূমিকম্প যে সুনামির অবতারণা ঘটায়, তা-তে দু’লাখ ত্রিশ হাজার মানুষ প্রাণ হারান – ইন্দোনেশিয়া থেকে সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকা পর্যন্ত৷

সমুদ্রগর্ভের ৩০ কিলোমিটার নীচে ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু৷ নয় দশমিক এক থেকে নয় দশমিক তিন শক্তির জোরালো ভূকম্পন৷ শুধু তাই নয়, ভূকম্পন চলে প্রায় আট-দশ মিনিট ধরে, যা কিনা একটা রেকর্ড৷ সারা ভূগোলক নাকি এক সেন্টিমিটার কেঁপে যায়৷ বিজ্ঞানীরা এই ভূমিকম্পের নাম দিয়েছেন সুমাত্রা-আন্দামান ভূমিকম্প৷

ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামি বিশ্বের ১৪টি দেশে প্রায় দু'লাখ ত্রিশ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটায়৷ সুনামির জলোচ্ছ্বাস কোথাও কোথাও ৩০ মিটার অবধি উঁচু হয়ে বেলাভূমিতে আছড়ে পড়ে, বাড়িঘর ধ্বংস করে মানুষজনকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়৷

Bildergalerie 10 Jahre Tsunami Indonesien

এ এক ধ্বংসস্তূপেরই নামান্তর!

ভূমিকম্পের পর সুনামি আসতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লাগলেও, সমুদ্রতটের অধিকাংশ মানুষই সমূহ এবং আসন্ন বিপদটি উপলব্ধি করতে পারেননি, কেননা তখন ভারত মহাসাগরে কোনো ধরনের সুনামি সতর্কতা প্রণালী ছিল না৷ ২০০৪ সালের সুনামির পর সেই সতর্কতা প্রণালী স্থাপন করা হয়; ২০০৬ সাল থেকে এই প্রণালী সক্রিয় এবং ভারত মহাসাগরে ২০১২ সালের ভূমিকম্পগুলির পর এই সতর্কতা প্রণালী তার কার্যকরিতাও প্রমাণ করেছে৷

সুনামিতে প্রাণ হারান দু'লাখ ত্রিশ হাজার মানুষ, তাদের মধ্যে এক লাখ সত্তর হাজারের বেশি ইন্দোনেশিয়ায়৷ প্রাণহানির হিসেবে এর পরে আসছে শ্রীলঙ্কা, ভারত – প্রধানত তামিল নাড়ু – থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ এবং সোমালিয়া৷ এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকাতেও আটজন মানুষ সমুদ্রে বাড় এসে প্রাণ হারিয়েছেন৷ সব মিলিয়ে নিহতদের এক-তৃতীয়াংশ ছিল শিশু, এছাড়া বিশেষ বিশেষ অঞ্চলে পুরুষদের চেয়ে তিনগুণ বেশি মহিলার প্রাণ হারানোর খবর দিয়েছে অক্সফ্যাম৷

ভিডিও দেখুন 04:04

প্রাকৃতিক বিপর্যয় সম্পর্কে আগাম তথ্য জানার উদ্যোগ

সাহায্যের ঠিকমতো সদ্ব্যবহার হয়নি

২০০৪ সালের সুনামির পর সারা বিশ্ব থেকে সাহায্য আসে প্রায় চোদ্দ'শ কোটি ডলার, বিশেষ করে পুনর্নির্মাণের জন্য৷ কিন্তু যে হাজার হাজার প্রকল্প শুরু করা হয়, তার সব ক'টি যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, এমন বলা চলে না৷ শ্রীলঙ্কার সিরিকান্ডুরাওয়াটে-তে একটি আবাসন প্রকল্পের ১৪৬টি বাড়ি এই দশ বছরের মধ্যেই বাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে৷ দক্ষিণ থাইল্যান্ডের একটি জেলেদের গ্রামের ১০০ নৌকা খোয়া গেলেও তাদের দেওয়া হয়েছে ৪০০ নতুন নৌকা৷ ভারতের নাগাপত্তিনাম-এও প্রয়োজনাতিরিক্ত নৌকা দেওয়ার ফলে জেলেরা এখন মাল্লা পাচ্ছেন না এবং পরস্পরের সঙ্গে বিরোধে লিপ্ত হয়েছেন৷

অক্সফ্যাম ইউকে-র এক প্রোজেক্ট ম্যানেজার ইন্দোনেশিয়ার আচে প্রদেশে পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেছেন, ‘‘ওরা সাগরে ডক নির্মাণ করেছে, কিন্তু সেগুলো কাজে লাগানো হচ্ছে না৷ ওরা বাজার তৈরি করেছে কিন্তু সেগুলো খালি৷ ওরা জলের ট্যাংক তৈরি করেছে কিন্তু সেগুলো কাজ করছে না৷''

এসি/ডিজি (এপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও