1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

নাইন ইলেভেন

ইতিহাসের ধারা বদলে দিল যে দিনটি

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও ওয়াশিংটনের পেন্টাগনের ওপর আক্রমণ অভূতপূর্ব, কারণ সে আক্রমণের অস্ত্র ছিল একাধিক অপহৃত যাত্রীবাহী বিমান৷১৫ বছর পরও এর ফলশ্রুতি শেষ হয়নি, বলেন মিওদ্রাগ জরিচ-এর৷

বার্লিন প্রাকারের পতন ও ঠান্ডা লড়াইয়ের অবসানের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেন ইতিহাস গড়ার আগ্রহ কিছুটা হারিয়ে ফেলেছিল৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অ্যামেরিকা যে আগ্রহ-উদ্দীপনা দেখিয়েছিল, তার যেন আর বিশেষ কিছু বাকি ছিল না৷ সেই হিসেবে নাইন-ইলেভেন ছিল পার্ল হার্বার-এর পর অ্যামেরিকার উপর প্রথম আক্রমণ, বাস্তবিক ও প্রতীকী, উভয় বিচারেই৷ পার্ল হার্বার-এর মতোই নাইন-ইলেভেনের দুর্যোগ অ্যামেরিকাকে বিপর্যস্ত করে৷ অনেকেই তার জন্য প্রস্তুত ছিল না৷

সেই বিপর্যয়ের দিনটির অনুরণন কিন্তু নতুন শতাব্দীতে আজও চলেছে, সাবেক সিআইএ-প্রধান জেনারেল ডেভিড পেট্রেয়াস যেমন ডয়চে ভেলেকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ‘‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম বহু প্রজন্ম ধরে চলবে৷'' নাইন-ইলেভেনের অব্যবহিত পরে সেটা ভাবার মতো সময় কারো ছিল না৷ প্রথম কাজ ছিল, এটা নিশ্চিত করা যে, গোটা বিশ্ব যেন অর্থনৈতিক মন্দায় নিমজ্জিত না হয়৷ রিজার্ভ ব্যাংকগুলি তাদের ভাণ্ডার খুলে দেয়, যা-তে ফললাভও হয়; শেয়ারবাজারগুলি নাইন-ইলেভেনের ধাক্কা মোটামুটি সামলে নেয়৷

পরের অধ্যায় আসে, যখন এই সস্তার টাকা সস্তার ঋণ হয়ে তামাম মার্কিনিদের কাছে পৌঁছায় ও তারা যেখানে পান বাড়িঘর কেনেন বা বানান – যা থেকে মার্কিন বাড়ি বন্ধকী বাজারের দেউলিয়া হওয়া শুরু হয়৷ সেটা ঘটে ২০০৮ সালে৷ সেখান থেকে ঋণ সংকট ইত্যাদি৷

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অন্তত তাঁর পূর্বসূরি জর্জ ডাব্লিউ বুশের ভুলের পুনরাবৃত্তি করেননি৷ ওবামা বিদেশ থেকে সৈন্যদের ফিরিয়ে এনেছেন অথবা তাদের সংখ্যা হ্রাস করেছেন৷ তা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ইরাক থেকে পশ্চাদপসারণের জন্যই মার্কিন করদাতাদের হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ করতে হবে৷ অথচ এই অর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নড়বড়ে, মান্ধাতার আমলের অবকাঠামোর সংস্কারের জন্য ব্যয় করা যেত৷ যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার খরচ; পাঁচ শতাংশ বেকারত্ব, যে পরিসংখ্যানে লক্ষ লক্ষ আশাহীন, হতভাগ্য, হাল ছেড়ে দেওয়া মানুষের হিসেব ধরা হয়নি৷

মিওদ্রাগ জরিচ

মিওদ্রাগ জরিচ, ডয়চে ভেলে

ওয়াশিংটনের রাজনীতিক মহল আপোশ করতে অক্ষম ও অনিচ্ছু৷ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এখন হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালারা ইঁদুর ধরার মতো ভোটার ধরছে৷

আর বাকি বিশ্ব? নাইন-ইলেভেন সকলের জীবনেই ছাপ রেখেছে৷ সকলকেই নিরাপত্তা নিয়ে মাথা ঘামাতে হচ্ছে৷ টেলিফোনে, কম্পিউটারে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি সহ্য করতে হচ্ছে৷ কোথাও মানবাধিকার সীমিত করা হচ্ছে, কোথাও আন্তর্জাতিক বিধিসমূহ লঙ্ঘণ করা হচ্ছে৷ কেননা নাইন-ইলেভেন হচ্ছে সেই দিন, যেদিন নয়া শতাব্দীর নতুন মটো, নতুন আদর্শ, নতুন আবহ সংগীত ধ্বনিত হয়: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম!

বন্ধু, নাইন ইলেভেনের কথা মনে আছে? দিনটি নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা জানান, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন