1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ইটালিতে প্লাস্টিকের ব্যাগ নিষিদ্ধ, বাংলাদেশের লাভ

ইটালিতে প্লাস্টিকের শপিং ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলো৷ নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে এই আইন কার্যকর হয়েছে৷ পরিবেশ বাঁচাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইটালির সরকার৷ ফলে বাংলাদেশের জন্য আরও বেশি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ খুলে গেলো৷

Jute, bag, Plastic

বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা বাংলাদেশের জন্য ভাল

ইটালিতে একজন মানুষ প্রতিবছর গড়ে ৩৩৩টি প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করতো৷ পুরো ইউরোপের এক-পঞ্চমাংশ প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার হতো ইটালিতে৷ সব মিলিয়ে এক বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ব্যাগ ব্যবহার হতো সেখানে৷ এর মানে হলো, এখন তাদের এই সমপরিমাণ ব্যাগ দরকার, কিন্তু সেটা হতে হবে অন্য কিছুর তৈরি৷ আর এখানেই চলে আসে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা৷ কারণ পাট দিয়ে তৈরি ব্যাগ৷

বাংলাদেশের জন্য সুখবর

ইটালি যেটা কেবল এখন করলো, বাংলাদেশ সেটা করেছে প্রায় নয় বছর আগে, ২০০২ সালে৷ সেসময় আইন করে প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল৷ ফলে তখন প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল বিকল্প ব্যাগের৷ আর বাংলাদেশ যেহেতু একসময় পাটের জন্য বিখ্যাত ছিল তাই সবার মনে পড়ে যায় পাটের তৈরি ব্যাগের কথা৷ তখন থেকে পাটের ব্যাগ নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়, শুরু হয় গবেষণা, আরও কীভাবে উন্নত ব্যাগ তৈরি করা যায় তা নিয়ে৷ ফলে একসময় দেখা গেল এক্ষেত্রে উন্নতি করা গেছে এবং সেটা এমন পর্যায়ে গেছে যে, বাইরেও রপ্তানি শুরু হলো পাট ব্যাগের৷ তবে শুধু ব্যাগই নয়, পাটের তৈরি অন্যান্য পণ্যও বিশ্বের বাজারে জায়গা করে নিতে শুরু করে৷ ফলে দিন ফিরতে থাকে পাট চাষীদের৷ দেখতে দেখতে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি এত বেড়ে যায় যে, বর্তমানে তৈরি পোশাকের পর রপ্তানি আয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাটের নাম৷

ইটালিতে ব্যাগের এত বড় বাজার খুলে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য সুখবর৷ এমনটাই বললেন বাংলাদেশের পাট উদ্যোক্তা আসমা মাহবুব মনি৷ তিনি বলছেন, বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে সেটা বাংলাদেশের জন্য ভাল৷

Welttag gegen Kinderarbeit - Kinderarbeit in Indien Flash-Galerie

ইটালি যেটা কেবল এখন করলো, বাংলাদেশ সেটা করেছে প্রায় নয় বছর আগে

কীভাবে নিষিদ্ধ হলো

ইটালিতে কাজটি সহজ ছিলনা৷ প্রথমে কথা ছিল গত বছরের জানুয়ারি থেকেই প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে৷ কিন্তু ব্যবসায়ীদের চাপে সেটা সম্ভব হয়নি৷ পরে ইটালির পরিবেশমন্ত্রী স্টেফানিয়া প্রেস্টিগিয়াকোমো'র নেয়া কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন করা গেছে৷ ফলে ইটালিতে এখন সবাইকে পরিবেশ বান্ধব ব্যাগ ব্যবহার করতে হচ্ছে৷ এগুলো আপাতত তৈরি হচ্ছে কাগজ বা কাপড় বা সহজে পচে যায় এমন কিছু দিয়ে৷ সেখানে এখন চেষ্টা করে বাংলাদেশের পাটের ব্যাগ ঢোকাতে হবে৷ আর এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে৷ সঙ্গে বেসরকারি খাতকেও৷

কেন ইটালিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো? এ ব্যাপারে দেশটির একটি পরিবেশবাদী গোষ্ঠী লেগামবিনতে বলছে, প্লাস্টিকের ব্যাগ তৈরি করতে অনেক তেল খরচ হয়৷ এছাড়া এগুলো সহজে নষ্ট হয় না, তাই পয়ঃনিষ্কাশন লাইনে গিয়ে আটকে যায়৷ চোখেও যন্ত্রণা হয় প্লাস্টিকের কারণে৷ সঙ্গে রয়েছে পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব৷

প্লাস্টিক ব্যাগের ক্ষতিকর দিক

বাংলাদেশের একটি অনলাইন সংসাদ সংস্থা খবরে বলা হয়েছে, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে ডুবোচর জেগে উঠেছে৷ এবং সেখানে পানির গভীরতা কমার অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হয়েছে প্লাস্টিকের ব্যাগের কথা৷ বাংলাদেশে এই ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও এখনো অনেকে সেটা করছেন৷ সেই ব্যাগ খালের পানি দিয়ে গড়িয়ে গিয়ে পড়ছে সাগরে৷ আর প্লাস্টিক যেহেতু পচে না তাই দিনের পর দিন তা জমে সাগরের বুকে স্থায়ী জায়গা নিয়েছে৷

এদিকে সাম্প্রতিক এক জরিপে বলা হয়েছে, সাগরে মারা যাওয়া মোট কচ্ছপের এক-তৃতীয়াংশ মারা গেছে প্লাস্টিকের কারণে৷ প্লাস্টিক খাওয়ার কারণে হজমে সমস্যা হওয়ায় কচ্ছপগুলোর এই পরিণতি হয়েছে বলে ঐ জরিপে বলা হয়েছে৷

এছাড়া প্লাষ্টিক মাটির জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর৷ কারণ তা মাটিতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে এবং সূর্যালোক মাটিতে পৌঁছতে দেয় না৷ তাই ফসলের জমিতে পলিথিন জাতীয় ব্যাগ থাকলে সেখানকার মাটির উর্বরতা কমে যায়৷

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক