1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

ইটালিতে জাতিবাদ রুখবে বালোতেল্লি

মারিও বালোতেল্লি, সুপার মারিও, যার সঙ্গে গোটা ইটালির ফুটবলপ্রেমীদের ‘লাভ অ্যাফেয়ার'৷ তিনিই আজ ইটালির সুপারস্টার৷ সেরিয়ে আ'র আসন্ন মরশুমে জাতিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তিনিই দেবেন নেতৃত্ব৷

প্রত্যাশা সেইরকম এবং অন্যায় প্রত্যাশা নয়৷ বালোতেল্লি অন্য স্ট্রাইকারদের চেয়ে বেশি গোল না করতে পারেন, কিন্তু ইটালিতে তাঁর মতো জনপ্রিয় খেলোয়াড় আজ আর কেউ নেই৷ বিদেশেও তাই৷ বলতে কি, বালোতেল্লিকে এক হিসেবে ডেভিড বেকহ্যামের মতো গ্লোবাল স্টার বলা চলে৷ কষ্টিপাথরে গড়া পেটানো চেহারা, মাথায় মার্কিন মুলুকের রেড ইন্ডিয়ানদের কায়দায় ছাঁটা চুল৷ গোল করার পর জার্সি খুলে বিজয়ীর ভঙ্গিতে বালোতেল্লি যখন স্টেডিয়ামে দর্শকদের সামনে পোজ দিয়ে দাঁড়ান, তখন সকলেরই রক্ত গরম হয়ে যায়৷

সেই সঙ্গে রয়েছে বালোতেল্লির নিজস্ব কাহিনি৷ বাবা-মা ঘানার মানুষ৷ তাঁর নিজের জন্ম ইটালির পালার্মোতে৷ পরে এক ইটালীয় দম্পতি তাঁকে দত্তক নেন৷ সেই বালোতেল্লি আজ ইটালীর জাতীয় একাদশের তারকা৷ অথচ স্টেডিয়ামে তাঁকে জাতিবাদী মন্তব্য ও টিটকিরির শুনতে হয়৷ কাজেই বালোতেল্লির ব্যক্তিগত জীবন যেন ইটালিতে জাতিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও তার প্রয়োজনীয়তার প্রতিচ্ছবি৷

Italian forward Mario Balotelli celebrates after scoring the 0-2 during the UEFA EURO 2012 semi-final soccer match Germany vs. Italy at the National Stadium in Warsaw, Poland, 28 June 2012. Photo: Marcus Brandt dpa (Please refer to chapters 7 and 8 of http://dpaq.de/Ziovh for UEFA Euro 2012 Terms & Conditions) +++(c) dpa - Bildfunk+++

গোল করার পর জার্সি খুলে বিজয়ীর ভঙ্গিতে বালোতেল্লি যখন স্টেডিয়ামে দর্শকদের সামনে পোজ দিয়ে দাঁড়ান, তখন সকলেরই রক্ত গরম হয়ে যায়

গ্লোবাল স্টার

তিনি যে আজ গ্লোবাল স্টার, বালোতেল্লির ব্যক্তিগত কাহিনিও হয়ত তার একটা কারণ৷ তবে তিনি সত্যিই গ্লোবাল স্টার৷ ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপরিচিত স্পোর্টস ম্যাগাজিন ‘‘স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড''-এর কভার অলঙ্কৃত করেছেন: উন্মুক্ত শরীরে যেন জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন৷ পত্রিকাটি তাঁকে আখ্যা দিয়েছে: ‘মোস্ট ইন্টারেস্টিং ম্যান ইন দ্য ওয়ার্ল্ড', ‘বিশ্বের সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক পুরুষ'৷

টাইম ম্যাগাজিন গত নভেম্বরে তাদের আন্তর্জাতিক সংস্করণের প্রথম পাতায় বালোতেল্লি ছবি দিয়েছে, তাঁকে বিশ্বের প্রথম একশো' জন সনচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় রেখেছে৷ ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে আড়াই মরশুম খেলার সময় বালোতেল্লি ছিলেন ব্রিটিশ প্রেসের ডার্লিং৷ তাঁর নানা প্রেমকাহিনি, গাড়ি ভুল পার্ক করার জন্য ফাইন, এ সবই ছিল ইয়েলো প্রেসের খোরাক৷ সবই তাঁকে বিশ্বখ্যাত করে তুলতে সাহায্য করেছে৷

খেলার মধ্যে জাতিবাদ

কিন্তু বালোতেল্লি তো শুধু চোখে পড়ার মতো, ক্ষেত্রবিশেষে চমকে দেওয়ার মতো চরিত্রই নন – তিনি যখন মাঠে, তখন বিশ্বের যে কোনো ডিফেন্স তাঁকে সমীহ করে চলবে৷ মিলানের হয়ে গত সিজনে ১৩টি খেলায় ১২টি গোল করেছেন৷ ২৩ বছর বয়সের বালোতেল্লি এই মরশুমেও মিলানের অ্যাটাকের মধ্যমণি থাকবেন৷ ইটালির জাতীয় দলের কোচ সেজারে প্রান্দেলির ফেবারিটও তিনি৷

KIEV, UKRAINE - JULY 01: Sergio Ramos (L) of Spain slides in to tackle Mario Balotelli of Italy during the UEFA EURO 2012 final match between Spain and Italy at the Olympic Stadium on July 1, 2012 in Kiev, Ukraine. (Photo by Jasper Juinen/Getty Images)

স্পেনের সাথে ইটালির খেলায় বালোতেল্লি

অপরদিকে তিনি যে রেফারিদের ফেবারিট নন, রেফারিরা যে তাঁর বিরুদ্ধে যে ফাউলগুলো করা হয়, সেগুলো দেখেও দেখেন না, এ অভিযোগ বালোতেল্লি বহুবার করেছেন৷ তবে তাঁর সবচেয়ে বড় শত্রু হল ইটালির স্টেডিয়ামগুলোয় যে সব জাতিবাদী ফ্যানরা তাঁকে ও অন্যান্য কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়দের গালিগালাজ করে, তারা৷ বালোতেল্লি নিজে স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেডকে ব্যাপারটা অতি সহজে, সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছেন: ‘‘জাতিবাদ পুরোপুরি মুছে দেওয়া যায় না৷ ওটা সিগারেট খাওয়ার মতো৷ মনেপ্রাণে না চাইলে সিগারেট খাওয়া ছাড়া যায় না৷ সেভাবেই, মানুষজন না চাইলে জাতিবাদ বন্ধ করা যায় না৷ তবে আমি আমার যতটুকু সাধ্য, করব৷''

আর প্ররোচিত হওয়া নয়

বালোতেল্লির মনোভাবে একটি পরিবর্তন লক্ষণীয়৷ ইতিপূর্বে স্টেডিয়ামে জাতিবাদী মন্তব্য, টিটকিরির প্রতি তাঁর মনোভাব ছিল, ‘সেক্ষেত্রে আমি মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাব৷' এবার কিন্তু বালোতেল্লি স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেডকে বলেছেন, স্টেডিয়ামে জাতিবাদের আভাস দেখলে ‘আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে গোল করার চেষ্টা করব৷ আর গোল করার পর আমার যা বলার আছে, তা বলব৷'

বালোতেল্লির হৃদয়পরিবর্তনের একটা ইতিহাস আছে৷ সম্প্রতি ইটালি ও আর্জেন্টিনার মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলির আগে পোপ ফ্রান্সিস উভয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটান৷ সেই সময় পোপ নাকি বালোতেল্লিকে ব্যক্তিগতভাবে বলেন, জাতিবাদী প্ররোচনায় তাঁর শান্ত থাকা উচিত৷ পরদিন টুইট করে তাঁর ফ্যানদের এ কথা জানিয়েছেন বালোতেল্লি৷

এসি/ডিজি (ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন