1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

ইউরোপ জুড়ে বোরকা নিয়ে বিতর্ক

এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, জার্মানদের তিন-চতুর্থাংশ প্রকাশ্যে বোরকাধারী মহিলাদের দেখতে নারাজ৷ বিষয়টি নিয়ে শুধু জার্মানি নয়, আধা ইউরোপ উত্তাল৷ ইউরোপের একাধিক দেশে প্রকাশ্যে ও সরকারি কার্যালয়ে বোরকা পরা ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ৷

জার্মানির সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরডি ইনফ্রাটেস্ট ডিমাপ জনমত সমীক্ষা সংস্থাকে এই জরিপের দায়িত্ব দিয়েছিল৷ সংস্থাটি গত ৭ই ও ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখে ১,০০৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক জার্মানকে প্রশ্ন করে৷ দেখা যায়, ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ও স্কুলে বোরকা ধারণ নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী৷ বোরকা নিষিদ্ধ করার পুরোপুরি বিপক্ষে মাত্র ১৫ শতাংশ জার্মান৷

জরিপে উত্তরদাতাদের ২৫ শতাংশ জানান যে, তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম৷ তবে বোরকা নিষেধ করে যে জার্মানিকে অধিকতর নিরাপদ করে তোলা যাবে, এ কথা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন না৷ তা সত্ত্বেও জার্মানির রক্ষণশীল রাজনীতিকদের মধ্যে ‘‘বোরকা নিষেধ'' দাবি করার একটা ধুয়ো উঠেছে৷ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সিডিইউ দলের একাধিক রাজনীতিক, যারা বিভিন্ন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তারা সম্প্রতি স্কুল, সরকারি অফিস, আদালতকক্ষ ও গাড়ি চালানোর সময় বোরকা ও নিকাব পরিধান নিষিদ্ধ করতে চান৷

স্কুলে নিকাব পরা বারণ?

জার্মানির অসনাব্র্যুক শহরের সোফি শল নাইট স্কুলের এক ছাত্রীর স্কুলে নিকাব পরা নিয়ে একটি মামলা সম্প্রতি ঝড় তুলেছে৷ স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথমে ছাত্রীটিকে গ্রহণ করার পর, পরে তাকে আবার প্রত্যাখ্যান করেন৷ ছাত্রীটি অসনাব্র্যুক প্রশাসনিক আদালতে আপিল করলে পর, তার ঠিক তিন দিন পরেই শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়, নয়তো মেয়েটির স্কুলের পড়াশুনার ক্ষতি হবে বলে৷ মামলাটি মিডিয়ায় ব্যাপক গুরুত্ব পাওয়ায় মেয়েটি শুনানির দিন আদালতে হাজির হয়নি, যার ফলে মাননীয় আদালত মামলাটি খারিজ করেছেন৷

সোফি শল স্কুল কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল যে, নিকাব পরলে ছাত্রীটিকে শনাক্ত করা যাবে না, যেমন স্কুলের পরীক্ষা চলাকালীন অন্য কেউ তার জায়গায় পরীক্ষা দিতে পারে৷ দ্বিতীয়ত, শিক্ষার জন্য যে ধরনের মুক্ত আদানপ্রদানের প্রয়োজন, ছাত্রী নিকাব পরে থাকলে তা সম্ভব নয়, বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের ধারণা৷

বাকি ইউরোপে

ফ্রান্সই ইউরোপের প্রথম দেশ, যেখানে প্রকাশ্য স্থানে বোরকা বা নিকাব পরিধান নিষিদ্ধ করা হয়; সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরি হয় ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে৷ ফ্রান্সে মহিলাদের নিকাব পরার জন্য অর্থদণ্ড হতে পারে; কোনো মহিলাকে হুমকি বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নিকাব পরতে বাধ্য করলে, তার জন্য শুধু জরিমানা নয়, এক বছরের কারাদণ্ডও হতে পারে৷ ২০১৪ সালের জুলাই-তে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত ফ্রান্সের বোরকা নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখে৷

ফ্রান্সের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বেলজিয়াম প্রকাশ্য স্থানে বোরকা ও নিকাব পরিধান নিষিদ্ধ করে৷ সে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরি হয় ২০১১ সালের জুলাই মাসে৷

স্নানের পোশাক বুর্কিনি

বুর্কিনি নিয়েও বিতর্ক চলছে

নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রীসভা ২০১৫ সালে যে পরিকল্পনা অনুমোদন করেন, তা অনুযায়ী সরকারি ভবন, স্কুল, হাসপাতাল ও সরকারি পরিবহণে নিকাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷

সুইজারল্যান্ডের তিচিনো অঞ্চলে প্রকাশ্য স্থানে নিকাব পরা নিষিদ্ধ ২০১৬ সাল থেকে৷ তার আগেই ইটালির লম্বার্ডি অঞ্চলে হাসপাতাল ও প্রাদেশিক সরকারের ভবনসমূহে মহিলাদের বোরকা পরা নিষিদ্ধ করা হয় – সেটা ছিল ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে৷

ইউরোপের অন্যান্য একাধিক দেশে বোরকা পরা নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক চলেছে

বুর্কিনি বিতর্ক

বোরকার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা থেকে নারী স্বাধীনতা অবধি নানা যুক্তির সুযোগ আছে, কিন্তু বুর্কিনি নামধারী পরিধেয় বস্তুটি নিয়ে যে নাটক সৃষ্টি হয়েছে, তা অভাবনীয়৷ অস্ট্রেলিয়ার এক মহিলা মুসলিম মহিলাদের সমুদ্রসৈকতে স্নানের বেশ হিসেবে এই পরিধানটি সৃষ্টি করেন, যা হিজাব যুক্ত সালওয়ার-কামিজের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে৷ ফ্রান্সের ৩০টি শহর ও গ্রাম – সবই উপকূলবর্তী – যে এই বুর্কিনি পরিধান নিষিদ্ধ করেছে, তার পিছনে অনেকে ‘ক্ল্যাশ অফ কালচার্স' থেকে শুরু করে, সনাতনপন্থার সঙ্গে আধুনিকতার দ্বন্দ্ব ইত্যাদি অনেক কিছু দেখছেন৷ তবে সবচেয়ে মজার কথা এই যে, বুর্কিনির সপক্ষে ও বিপক্ষে উভয় পক্ষই বুর্কিনি অনুমোদন বা নিষিদ্ধ করার মধ্যে নারীস্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ দেখছেন!

ফ্রান্সের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত দক্ষিণ ফ্রান্সের ভিলন্যোভ-লুবে শহরের সৈকতে বুর্কিনি পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিল করার পর, ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বের্নার কাজন্যোভ-ও বুর্কিনি নিষেধকে ‘‘অসাংবিধানিক'' বলে অভিহিত করেছেন৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়