1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ইউরোপে পানির অভাব ও খরার সমস্যা

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে পানির অভাব এবং খরা দেখা দেওয়ার বিষয়টি নতুন কিছু নয়৷ ইউরোপীয় কমিশন এই সম্পর্কে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অগ্রগতি নিয়ে চলতি সপ্তাহে প্রকাশ করেছে একটি প্রতিবেদন৷

default

পানির চাহিদা এবং পর্যাপ্ততা – এই দুটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার ব্যাপারটি ইউরোপের অনেক দেশেই কঠিন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে৷ ২০১২ সালে পানি নীতি পর্যালোচনা বিষয়ক ঐ প্রতিবেদনটিতে সদস্য দেশগুলোর কাছে তুলে ধরা হয়েছে পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পদক্ষেপগুলো৷ কীভাবে পানির অভাব এবং খরা মোকাবিলা করা যাবে ও আরো ব্যবস্থা নেওয়ার উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো ঐ রিপোর্টে তুলে ধরা হয়৷

২০০৯-২০১০ সালে পানির বেড়ে চলা চাহিদা এবং স্বল্প বৃষ্টির কারণে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে পানির অভাব প্রতীয়মান হয়েছে বেশি৷ চেক প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস এবং মাল্টা জানিয়েছে, তারা ক্রমাগতভাবে পানির অভাব মোকাবিলা করছে৷ ইইউভুক্ত পাঁচটি সদস্য দেশ – ফ্রান্স, হাঙ্গেরি, যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল এবং স্পেনে খরা অথবা স্বল্প বৃষ্টির কারণে পানির অভাব রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই৷ এবং স্থানীয়ভাবে পানি স্বল্পতার অভাব বোধ করছে নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, ফ্রান্স ও রোমানিয়া৷

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যে, ভূমধ্যসাগরবর্তী দেশসমূহে পানির অভাব এবং খরা সীমিত নয়৷ উত্তরের কিছু জনবিরল অঞ্চলে অঢেল পানি সম্পদ রয়েছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বত্র এটি একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ সাম্প্রতিক সমীক্ষাগুলোতে দেখা গেছে, ২০৫০ সাল নাগাদ ইউরোপের অধিকাংশ অঞ্চলে মাঝামাঝি অথবা বড় ধরণের পানি সংকট আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো পানি সম্পদের ওপর থেকে চাপ কমাতে পানি ব্যবহার সীমিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপের উন্নয়ন ঘটিয়েছে৷

Rhein Posttower Dürre

বেশ কয়েক বছর আগে এভাবে শুকিয়ে গিয়েছিল জার্মানির রাইন নদীর তীর

পানির জন্যে ভালো ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন

পানির অভাব এবং খরা যে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে একটা ভয়ঙ্কর সমস্যা, তা ২০১০ সালের জুন মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে স্বীকার করা হয়েছে৷ পানি ব্যবহারে অনেক বেশি কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যে সেই সময়েই সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানানো হয়৷ ২১শে মার্চ প্রকাশিত ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানির মাশুল নির্ধারণ করা, পানির জন্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্যে ইইউভুক্ত দেশগুলো ইতোমধ্যেই বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছে৷ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য জরুরি এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতির কথা ঐ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে৷ এক্ষেত্রে যেমন উল্লেখ করা যায় যে, খুব কম সংখ্যক সদস্যই ভবনগুলোতে পানির পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে থাকে৷ বৈধ পানি নিষ্কাশন এবং পানি বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত পদক্ষেপ নেওয়ার স্বল্পতা রয়ে গেছে ইউরোপের অনেক অংশেই৷

২০১২ সালের জন্যে পানির নকশা

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে পানির অভাব এবং খরা সম্পর্কিত ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়টি ইউরোপীয় কমিশন আবারো পর্যালোচনা করবে৷ ২০১২ সালের জন্যে ইউরোপের পানি কর্মসূচির নিরাপত্তায় যে নীলনকশা রয়েছে এটি তারই অংশ৷ ঐ পর্যালোচনার মূল উপাদানগুলো হলো, কৃষিখাতে এবং শহুরে পরিবেশের জন্যে পানির পর্যাপ্ততা, আরো ভালো কোন পরিকল্পনা, যেমন পানির অভাব বা খরা মোকাবিলায় নদীর তলদেশ ব্যবহারের পরিকল্পনা ও সেক্টর অনুযায়ী নীতি নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের জন্যে যথোপযুক্ত কাঠামো নির্ধারণ, যেমন পানির মাশুল নির্ধারণ ও পানির বরাদ্দ৷

নীতি পর্যালোচনার এই বিষয়টি পানির অভাব বা খরা মোকাবিলার একটা বাহ্যিক অবস্থা, কেননা ইইউ-এর বিবেচনাধীন পানির ফুটপ্রিন্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের পানি সম্পদের ওপরে চাপ বাড়িয়ে চলেছে৷ এই নীলনকশা মানুষের কর্মকাণ্ড এবং প্রকৃতির ইকোপদ্ধতির মধ্যে একটি টেকসই ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রস্তুতিমূলক প্রতিরোধ গড়ার দিকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে৷

২০১২ সালের ঐ পর্যালোচনার জন্যে ইইউ কমিশন কয়েকটি প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচী নিচ্ছে৷ কয়েক মাসের মধ্যে এই সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য এবং ডেটার মধ্যে যে ফারাক রয়েছে সেই বিষয়টির ওপরে নজর দেওয়া হবে৷ এবং এর প্রভাবও পরিমাপ করা হবে৷

২০০৭ সালের এক হিসেব অনুযায়ী ইউরোপের অন্তত শতকরা ১১ ভাগ জনসংখ্যা এবং শতকরা ১৭ ভাগ অঞ্চলে পানির অভাব রয়েছে গত তিরিশ বছরে ইউরোপে খরা মোকাবিলায় যে ব্যয় হয়েছে, তার পরিমাণ দশ হাজার কোটি ইউরো৷

প্রতিবেদন: ফাহমিদা সুলতানা

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন