1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

ইউরোপে নিরাপত্তার অভাব নয়, নিরাপত্তাবোধের অভাব

প্যারিস ও ব্রাসেলসে সন্ত্রাস যেন ইউরোপীয় মানসে ভীতি ও সন্দেহের ছাপ রেখে গেছে, যা থেকে চলতি উদ্বাস্তু সংকটে ইউরোপের প্রতিক্রিয়াও চালিত হচ্ছে৷ ইউরোপ উত্তর খুঁজছে শুধু একটি প্রশ্নের নয়, অনেক প্রশ্নের৷

ইউরোপের অনেক জায়গায়তেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে

প্রতীকী ছবি

২০০৪ সালের মার্চে মাদ্রিদে ট্রেনে বোমাবাজি; ২০০৫ সালের জুলাইতে লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডে বোমাবাজি; ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে শার্লি এব্দো হত্যাকাণ্ড; সে বছরের নভেম্বরে আবার প্যারিসে আক্রমণ; ২০১৬ সালের মার্চে ব্রাসেলসে গুলিবাজি৷ এ সব ঘটনা ইউরোপীয় মানসে গভীর দাগ কেটে গেছে৷ সে হিসেবে ইউরোপীয় মানস আজ ইংরেজিতে যাকে বলে ‘স্কার্ড' অর্থাৎ দাগী৷

আইএস-এর মতো সন্ত্রাসী সংগঠন যখন তথাকথিত ‘সফ্ট টার্গেট' বেছে নেয়, তখন তাদের রোখা সহজ নয়, সম্ভবও নয়, বিশেষ করে ইউরোপের মতো মহাদেশে৷ এখানকার স্বচ্ছন্দ জীবনযাত্রা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, পরিবহণ ব্যবস্থা, মুক্ত সীমান্ত, টেলিযোগাযোগ, সব কিছুই টেররিস্টদের ‘স্লিপিং সেল'-গুলির পক্ষেও অত্যন্ত সুবিধাজনক – যদিও তাদের উদ্দেশ্য হলো, যত বেশি সম্ভব নিরপরাধ ব্যক্তির প্রাণ নেওয়া৷

আজব শোনালেও, ফুটবলের ভাষায় বলতে গেলে, একদিকে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী, অন্যদিকে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের মধ্যে এই ‘ফুটবল খেলায়' পুলিশ খেলছে ফুটবলের নিয়মকানুন অনুযায়ী; সন্ত্রাসীরা কিন্তু মাঠেও থাকতে পারে, আবার গ্যালারিতে দর্শকদের আসনেও থাকতে পারে; আরো বড় কথা, তারা সাইডলাইনের যে কোনো জায়গায় বল পাঠাতে পারলেই সেটা গোল বলে গণ্য হবে৷ এমনকি ভুল মাঠ বা ভুল স্টেডিয়াম হলেও আপত্তি নেই৷

ইউরোপের মানুষের আজ এটা জানা যে, তারা কোথাও নিরাপদ নয় – অন্তত পুরোপুরি একশ' ভাগ নিরাপদ নয়; মিশরে পিরামিড দেখতে গেলেও নয়; টিউনিশিয়ায় ছুটি কাটাতে গেলেও নয়; আবার ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের বড় বড় শহরগুলিতেও নয়৷ কেননা সন্ত্রাসীরা সর্বত্র থাকতে পারে, সর্বত্র হানা দিতে পারে৷ তাহলে পুলিশ বা কর্তৃপক্ষের কর্তব্য?

প্রথমত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে চোরপুলিশ খেলাটা আরো ভালোভাবে খেলা, বিশেষ করে চুরি হওয়া এবং চোর পালানোর আগে৷ ঠান্ডা লড়াইয়ের আমলের ‘স্পাই ভার্সাস স্পাই'-এর মতো আধুনিক পুলিশ ও গোয়েন্দাবাহিনীকে অদৃশ্য শত্রুর সঙ্গে এই অদৃশ্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে৷ এ যুদ্ধে সবচেয়ে বড় সাফল্য হবে, যখন কেউ টের পেল না, অথচ একটা সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড ব্যাহত হল, অপরাধীরা ধরা পড়ল৷

এ সংগ্রামের দ্বিতীয় অংশটা বস্তুত পুলিশের হাতে নেই, কেননা তার পটভূমি যেমন একদিকে সংশ্লিষ্ট দেশটির সমাজ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক দৃশ্যপট৷ ইউরোপের যে দেশগুলিতে সন্ত্রাসের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তাদের সব ক'টিতেই একটি বড় আকারের অভিবাসী সম্প্রদায় আছে, যাদের একটি বড় অংশ আবার মুসলিম৷ এক্ষেত্রে ‘ইন্টেগ্রেশন' বা সমাজে অন্তর্ভুক্তিকে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের পন্থা ও অঙ্গ হিসেবে গণ্য করতে গেলে, পশ্চিমি, ইউরোপীয় সভ্যতাকে মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে আরো অনেক বেশি নিবিড়ভাবে, গভীরভাবে লিপ্ত হতে হবে, সংশ্লিষ্ট হতে হবে৷ ইউরোপের জনসংখ্যাগত বিকাশের জন্য এই অভিবাসীদের প্রয়োজন, তা তারা যেভাবে এবং যে সংখ্যাতেই আসুক না কেন৷ তাদের আসা পুরোপুরি বন্ধ করার চেষ্টা করলে, অভিবাসন আইনি ছেড়ে আরো বেআইনি পথ ধরবে; যারা আসবে, তাদের সমাজের অন্তর্ভুক্ত করা আরো কঠিন হবে; বাড়বে অসন্তোষ, অতৃপ্তি ও সেই সঙ্গে ইসলামিক স্টেট প্রমুখ সন্ত্রাসী সংগঠনগুলির জন্য সোৎসাহী রংরুটদের সংখ্যা

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

অপরদিকে আন্তর্জাতিক দৃশ্যপট বলতে বোঝায় ইরাক, সিরিয়া, অধিকৃত ফিলিস্তিনি এলাকা, গোটা উত্তর আফ্রিকা জুড়ে যা কিছু ঘটছে বা ঘটছে না৷ এবং সে সব কিছুতে পশ্চিমা বিশ্বের ভূমিকা বা দায়িত্ব অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই৷ কাজেই হাত গুটিয়ে বসে না থেকে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাস্তবিক সংগ্রামে নামতে হবে৷ ইউরোপের মানুষ ভবিষ্যতে নিরাপদ বোধ করবেন কিনা, সেটা সন্ত্রাসীরা যতটা জানে, ততটাই সম্ভবত জানেন ইউরোপের মানুষরা নিজে৷ জানা এক ব্যাপার, আর সচেতন হয়ে ওঠাটা আরেক ব্যাপার৷ এবার বোধহয় সচেতনতার সময় এসেছে৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়