1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

ইউরোপে নাস্তিকতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা

নাস্তিকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা – এই দুই শব্দ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে৷ একজন নাস্তিক আসলে কে? ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে কি বোঝায়? দুটি বিষয় যে একে অপরের চেয়ে একেবারে আলাদা, সেটা সবাইকে বুঝতে হবে, মনে করেন ডিডাব্লিউ-র গ্রেহেম লুকাস৷

default

বার্লিনে বাসের গায়ে লেখা ‘ঈশ্বর বলে কেউ নেই’

বিশ্বের অনেক মানুষই ধর্মপ্রাণ৷ তাঁরা ইসলাম, খ্রিষ্টান কিংবা বৌদ্ধের মতো ধর্মে বিশ্বাসী৷ হয়ত তাঁরা খ্রিষ্টান কিংবা ইসলাম ধর্মে থাকা নানান মতবাদে বিশ্বাসী৷ তাঁরা হয়ত হাজার বছর আগে লেখা ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে জীবনযাপন করতে পছন্দ করে৷ এটি তাঁদের পছন্দ এবং এমনটিই হওয়া উচিত৷ কারণ জাতিসংঘ প্রতিটি মানুষকেই যার যার ধর্ম বা বিশ্বাস বেছে নেয়ার অধিকার দিয়েছে৷

কিন্তু এর বাইরেও বিশ্বে এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে৷ তাঁরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না৷ তাঁরা নাস্তিক৷ ‘অ্যাগনস্টিক' তথা অজ্ঞেয়বাদীরা আরেকটু অন্যরকম৷ তাঁরা ঈশ্বরে বিশ্বাসও করেন না আবার অবিশ্বাসও করেন না৷ তাঁদের মতে, ঈশ্বর আছে, কি নেই সে রকম কোনো প্রমাণ নেই৷

ইউরোপের মতো দেশগুলোতে ধর্মীয় বিশ্বাসকে ব্যক্তিগত বিষয় বলে মনে করা হয়৷ ইউরোপীয়রা নাস্তিকতা কিংবা অজ্ঞেয়বাদকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার অংশ বলে মনে করে৷ অন্যের বিশ্বাসকে সমালোচনা করা আমার কাজ নয়৷

ইউরোপের ইতিহাসে ‘এনলাইটেনমেন্ট' (১৬২০ থেকে ১৭৮০) যুগের সময় সমাজে ধর্মের ভূমিকা নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছোড়া হয়৷ তখন থেকেই নাস্তিকতা ও অজ্ঞেয়বাদ মতবাদের প্রসার ঘটতে থাকে৷ পরবর্তীতে ১৮ ও ১৯ শতকের সময় যখন শিল্পায়ন শুরু হয় তখন থেকে মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধর্ম পালনের হার কমতে থাকে৷

ধর্মনিরপেক্ষতা মানে হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধর্মের প্রভাব থাকবে না এবং রাষ্ট্রের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধর্মীয় নেতারা হস্তক্ষেপ করবে না৷ প্রায় দেড়শো বছর আগে যখন শিল্পায়নের প্রসার ঘটে তখন থেকেই মূলত সেক্যুলারিজমের শুরু৷ ব্রিটিশ লেখক জর্জ জ্যাকব হোলিওক ঊনিশ শতকের মাঝামাঝি প্রথমবারের মতো সেকুলারিজম শব্দটি ব্যবহার করেন৷ তিনি লিখেছিলেন, ‘‘সেকুলারিজম এটা বলে না যে, অন্য কোথাও আলো কিংবা পথনির্দেশনা নেই, তবে এটা বলে যে, ধর্ম নিরপেক্ষ বিশ্বাসে আলো ও পথনির্দেশনা আছে৷'' জার্মান দার্শনিক ফ্রিডরিশ নিৎশে ঊনিশ শতকের শেষ দিকে খ্রিষ্টান ধর্ম পালনের হার কমে যাওয়াকে ‘ঈশ্বর মরে গেছে' বলে অভিহিত করেছিলেন৷

গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় আধুনিকতার ছোঁয়া আনতে এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির বাধা পেরিয়ে পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বিংশ শতাব্দীতে ইউরোপে ধর্মনিরপেক্ষতাকে ব্যবহার করা হয়৷ উন্নত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা জীবনযাপনের মানে পরিবর্তন আনে৷ এভাবে সমাজে স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিশ্চিত হয়৷

ডয়চে ভেলের গ্রেহেম লুকাস লিখেছেন ইউরোপে নাস্তিকতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে৷

গ্রেহেম লুকাস, ডয়চে ভেলে

ইউরোপে যখন বিশের দশকে ধর্মনিরপেক্ষতা ডানা মেলতে শুরু করে তখন বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ইসলাম ও বৌদ্ধ ধর্মের প্রসার বাড়ে৷ যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ অ্যামেরিকায় বিশ্বাসীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে৷ এখনও আফ্রিকা সহ এশিয়ার অনেক দেশ যেমন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে বিভিন্ন ধর্মের প্রসার ঘটছে৷

এই দেশগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে – বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোতে – ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বাড়ছে কারণ মানুষ অন্যের বিশ্বাসকে গ্রহণ করতে চাইছে না এবং যারা অন্যভাবে চিন্তা করছে তাদেরকে ভয় দেখাচ্ছে৷ সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে ধর্মীয় নিরপেক্ষতাকে হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে আর নাস্তিকদের ভাবা হচ্ছে শত্রু৷

এটি একটি চরম ভুল৷ অনেকদিন ধরে গণতন্ত্রের অনেক সমস্যা ছিল৷ কিন্তু এখনও এটি সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা৷ ধর্ম নিরপেক্ষ গণতন্ত্র ধর্মীয় গোঁড়ামিকে সরকার পরিচালনা ব্যবস্থা থেকে দূরে রাখে এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সমর্থন করে যেন সবাই, ধর্মপ্রাণ ও নাস্তিকরা, উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে৷

গ্রেহেম লুকাসের মন্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত? মতামত জানান নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়