1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

ইউরোপে তুরস্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবার বিতর্ক

তুরস্কে সাম্প্রতিক সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ ও পুলিশের কড়া দমন নীতির প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আবার প্রশ্ন উঠছে – তুরস্ক কি আদৌ ইইউ সদস্য হবার যোগ্য?

সামান্য একটি ঘটনা যে একটি গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিতে পারে, তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ দেখা গেল তুরস্কে৷ ইস্তানবুল শহরের একটি পার্কে প্রস্তাবিত প্রকল্পকে ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে জমে থাকা অনেক ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা৷ তবে কারণ যাই হোক না কেন, পুলিশ যেভাবে কড়া হাতে বিক্ষোভকারীদের দমন করছে, সেই সব দৃশ্য দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় তুলেছে৷ যে রাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হতে চায়, তার পক্ষে এমন আচরণ মানানসই নয় – এমন বক্তব্য শোনা যাচ্ছে৷

ইউরোপীয় পার্লামেন্টেও সব সংসদীয় দল তুরস্কের পুলিশের সমালোচনা করেছে৷ কয়েকজন সাংসদ এমনকি তুরস্কের ইইউ-তে যোগদান সংক্রান্ত আলোচনা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন৷ বাকিরা অবশ্য আরও আলোচনার জন্য চাপ দিচ্ছেন৷ ইইউ-র পররাষ্ট্র বিষয়ক কর্মকর্তা ক্যাথরিন অ্যাশটন বলেন, ‘‘গত দুই সপ্তাহ ধরে আমরা তুরস্কে তুলনাহীন হিংসার এত দৃষ্টান্ত দেখতে পাচ্ছি৷ খুব কাছ থেকেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কাঁদানে গ্যাস, জল কামান, পেপার স্প্রে, রবার বুলেট প্রয়োগ করা হয়েছে৷

Türkei / Polizei / Ankara / Tränengas

সামান্য একটি ঘটনা যে একটি গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিতে পারে, তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ দেখা গেল তুরস্কে

তারা কিন্তু শান্তিপূর্ণ ছিল৷'' তাছাড়া সংবাদ মাধ্যমের উপর সরকারি দমন নীতিরও সমালোচনা করেন তিনি৷ তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রেচেপ তাইয়িপ এর্দোয়ান গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েছেন বটে, কিন্তু ভিন্নমত বন্ধ করতে সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করা উচিত নয় বলে মনে করেন অ্যাশটন৷ সেইসঙ্গে বিরোধীদের সঙ্গে সংলাপও জরুরি৷

কিন্তু তুরস্কের সরকারের প্রতি ইউরোপের নীতির প্রশ্নে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বিভাজন দেখা যাচ্ছে৷ একদল মনে করে, তুরস্কের উপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত ঠিকই, কিন্তু সেইসঙ্গে মনে রাখতে হবে এই সরকারই কিন্তু অনেক সংস্কারের কাজ করেছে৷ এখন ইইউ যদি সে দেশের স্থিতিশীলতা বিপন্ন করে, সেটা ঠিক হবে না৷ আরেকদল অবশ্য আরও কড়া মনোভাব দেখতে চাইছে৷ সব পক্ষের উদ্দেশ্যে সংযমের ডাক দেবার বদলে শুধু সরকারের উপরই চাপ বাড়াতে চান তাঁরা৷

সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ইউরোপীয় ইউনিয়নে তুরস্কের যোগদান নিয়ে বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে৷ গত ২০১০ সাল থেকেই অবশ্য আলোচনা প্রায় থমকে গেছে৷ বিশেষ করে রক্ষণশীল সাংসদরা তুরস্ককে পূর্ণ মর্যাদার সদস্য করার বিরোধিতা করে আসছেন৷ তাঁদের মতে, এর্দোয়ান ইউরোপীয় মূল্যবোধের তোয়াক্কা করেন না৷ বর্তমানে আবার তার পরিচয় দেখা যাচ্ছে৷

তৃতীয় একদল সাংসদ তুরস্কের গুরুত্ব খর্ব না করে নতুন এক ফর্মুলার প্রস্তাব দিয়েছেন৷ নরওয়ে যেমন পূর্ণ মর্যাদার সদস্য না হয়েও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে ইইউ-র সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, তুরস্কের ক্ষেত্রেও সেই ‘নরওয়ে মডেল' প্রয়োগ করার পক্ষে সওয়াল করছেন তাঁরা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়