1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইউরোপের বদলে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পথে ইউক্রেন

সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা বাতিল করে মস্কোর নেতৃত্বে শুল্ক ইউনিয়নের পথে এগিয়ে গেল৷ ইউরোপপন্থি বিরোধী শক্তি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে৷

default

রাশিয়ার সঙ্গে যাওয়ার বিরোধীতা করছেন ইউক্রেনের ইউরোপপন্থি শক্তি

ইউরোপীয় সমন্বয় প্রক্রিয়া এতদূর এগিয়ে গেছে যে, খুব বেশি দেশ আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে নেই৷ সাবেক ইয়ুগোস্লাভিয়ার দেশগুলিও একে একে ইইউ-তে প্রবেশ করছে৷ বাকি দেশগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে৷ এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ পোল্যান্ডের প্রতিবেশী ইউক্রেন৷ প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ এই সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র রাশিয়ার প্রভাবের বলয়ের মধ্যেও পড়ে৷ সে দেশের পূর্বাঞ্চলে রুশ বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস, রাশিয়ার সঙ্গে যাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে৷ অন্যদিকে দেশের পশ্চিমের মানুষ নিজেদের ইউরোপের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী৷ ফলে দেশের রাজনৈতিক শিবিরও এই প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত৷ সংসদ ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ইউরোপপন্থি ও মস্কোপন্থি রাজনীতিকদের অনুপাত অনুযায়ী দেশের গতি-প্রকৃতি নির্ধারিত হয়৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার বিষয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়া ভালোই এগোচ্ছিল৷ প্রায় তিন বছরের প্রস্তুতির পর আগামী সপ্তাহে মুক্ত বাণিজ্য ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল৷ ইউক্রেনের সরকার আচমকা সেই পরিকল্পনা বাতিল করেছে৷ শুধু তাই নয়, তার বদলে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা৷ মস্কো সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলির সঙ্গে শুল্ক ইউনিয়নের যে উদ্যোগ নিচ্ছে, ইউক্রেনও তাতে শামিল হতে চায়৷

Ukraine Proteste für europäische Integration in Kiew 21. Nov. 2013

রাজধানী কিয়েভে আন্দোলন চলছে

এমন সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সরকার বলেছে, জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তার খাতিরেই এমনটা স্থির করা হয়েছে৷ উল্লেখ্য, ইইউ-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালে রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিল৷ গত কয়েক সপ্তাহে মস্কো থেকে চাপ আরও বেড়ে গিয়েছিল৷ এই অবস্থায় জটিলতা কাটাতে ইউক্রেনের সরকার রাশিয়া ও ইইউ-র সঙ্গে এক ত্রিপাক্ষিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল৷ তাতে অবশ্য ফল হয়নি৷

এমন অঘটনের কিছুটা ইঙ্গিত অবশ্য আগেই পাওয়া যাচ্ছিল৷ অসুস্থ কারাবন্দি বিরোধী নেত্রী ইউলিয়া টিমোশেঙ্কোকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে আনার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল ইইউ৷ ইউক্রেনের সংসদে এই মর্মে মোট ছ'টি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল৷ কিন্তু তার কোনোটাই অনুমোদন পায়নি৷ অথচ এই বিষয়টিকেই সহযোগিতা চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে ঘোষণা করেছিল ইইউ৷

সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানী কিয়েভে প্রতিবাদ দেখায় ইউরোপপন্থি মানুষ৷ বিরোধী নেতারা আগামী রবিবার একটি সমাবেশের ডাক দিয়েছেন, যেখানে কমপক্ষে ১ লক্ষ মানুষ উপস্থিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে৷

ইইউ-র পররাষ্ট্র বিষয়ক কর্মকর্তা কর্মকর্তা ক্যাথরিন অ্যাশটন ইউক্রেনের এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন৷ তিনি বলেন, শুধু ইইউ নয় ইউক্রেনের মানুষের জন্যও এটা হতাশাজনক৷

এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেল৷ ২০১৪ সালে ইউরোপীয় কমিশন নতুন করে সাজানো হবে৷ ২০১৫ সালে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন৷ এই মুহূর্তে মস্কোপন্থি প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, বিরোধী ইউরোপপন্থি শিবির ক্ষমতায় এলে সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে৷

এসবি/ডিজি (ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়