1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইউরোপের এখন কী করা উচিত

জাতিসংঘ সিরিয়ার উদ্বাস্তুদের জন্য যে অর্থ চায়, তার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের বেশি এ যাবৎ পাওয়া যায়নি৷ কাজেই উদ্বাস্তুদের জন্য খাদ্য ও ওষুধপত্রে টান পড়তে পারে৷ এভাবে চলতে পারে না, লিখছেন সিগমার গাব্রিয়েল ও ডেভিড মিলিব্যান্ড৷

ইউরোপীয়, অ্যামেরিকান ও আরব দেশগুলির একটি সত্বর দান প্রকল্পের প্রয়োজন, যা-তে যে সব প্রতিষ্ঠান অকুস্থলে উদ্বাস্তুদের সাহায্য করছে, তাদের অর্থ সঙ্কুলান হতে পারে৷ এছাড়া আন্তর্জাতিক দাতা সম্মেলনগুলিকেও সক্রিয় হতে হবে, যা-তে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুনর্নির্মাণ ও পুঁজিবিনিয়োগের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাকে সাহায্য করা যেতে পারে৷

নিরাপদে ইউরোপে আসার পথ খোলা দরকার

সেই সঙ্গে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, উদ্বাস্তুরা নিরাপদ, বৈধ উপায়ে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যানাডার মতো অপরাপর শিল্পোন্নত দেশে আসতে পারেন৷ বিভিন্ন পুনর্বাসন প্রকল্প, নির্দ্দিষ্ট কোটা, পরিবারের লোকজনের পরে আসার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকলে উদ্বাস্তুরা মানুষ পাচারকারীদের হাতে গিয়ে পড়বেন না এবং শোষণ, ব্ল্যাকমেল, নিপীড়ন অথবা যৌন নিপীড়ন থেকে বাঁচবেন৷

Sigmar Gabriel

সিগমার গাব্রিয়েল

কিছু কিছু দেশ মানবিক বিচারে বাস্তবিক নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, কেননা তারা দীর্ঘমেয়াদি সূত্রে বিপুল সংখ্যক উদ্বাস্তুকে আশ্রয় দেবার প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে৷ সেপ্টেম্বরের একটি সপ্তাহান্তে জার্মানিতে যত উদ্বাস্তু এসে পৌঁছেছেন, ব্রিটেন আগামী পাঁচ বছরে তার চেয়ে কম উদ্বাস্তু নিতে রাজি৷ ইউরোপীয় সরকারপ্রধানদের তরফে অধিকতর সমন্বয় ও ন্যায্য ভারবণ্টনের প্রয়োজন৷

কার্যকরিভাবে এই সংকটের মোকাবিলা করার জন্য, যে সব উদ্বাস্তুরা ইতিমধ্যেই ইউরোপে এসে পৌঁছেছেন, তাঁদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করা প্রয়োজন৷ এখানেও ইউরোপীয় দেশগুলির কিছু জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত৷

David Miliband Flash-Galerie

ডেভিড মিলিব্যান্ড

প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে যে, উদ্বাস্তুরা ইউরোপে আসার পর তাদের সহৃদয়তা ও মানবিক মর্যাদার সঙ্গে অভ্যর্থনা জানানো হচ্ছে৷ দক্ষিণ ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহির্সীমান্তে একটি কার্যকরি ও সমন্বয়কৃত অভিযান চালু করার জন্য ব্রাসেলস থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও ব্যবহারিক সাহায্য দিতে হবে৷ এর অর্থ, আগত উদ্বাস্তুরা খাদ্য ও ওষুধপত্র পাবেন; তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে; আসার পর পরই তাঁরা শৌচালয়, স্নানাগার ইত্যাদি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন৷

দায়িত্ব ভাগ করে নাও, কিন্তু মান একই থাকবে

ভূমধ্যসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলির একমাত্র সমস্যা যে এই উদ্বাস্তু সংকট, এই ভ্রান্ত ধারণাটিকে বিদায় দেওয়া দরকার৷ এ বছর গ্রিসে প্রায় দু'লাখ পঁয়তাল্লিশ হাজার উদ্বাস্তু পৌঁছেছেন; বড়দিন অবধি আরো দু'লক্ষ উদ্বাস্তু গ্রিসে আসবেন, বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে৷

কিন্তু ইইউ-এর সদস্যদেশগুলি এ যাবৎ গ্রিস ও ইটালি থেকে শুধুমাত্র এক লক্ষ বিশ হাজার উদ্বাস্তু নেওয়া সম্পর্কে একমত হতে পেরেছে৷ এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানো দরকার৷ ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লোদ ইয়ুংকার যে পরিকল্পনা দিয়েছেন, তা উদ্বাস্তু বণ্টনের নির্দিষ্ট কোটা পদ্ধতিতে উত্তরণের একটা পন্থা হতে পারে৷

ইয়ুংকার-এর পরিকল্পনায় সঠিকভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, যাঁদের রাজনৈতিক আশ্রয় পাবার কোনো অধিকার নেই, তাঁদের ফেরৎ পাঠাতে হবে৷

সংহতির সময় এসেছে

এই আয়তনের একটি সংকটের সমাধান করা কোনো দেশের পক্ষে একা সম্ভব নয়, যাবতীয় সদিচ্ছা সত্ত্বেও, খোদ ইউরোপের পক্ষেও নয়৷ একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যার একটি বিশ্বব্যাপী সমাধান প্রয়োজন৷ কিন্তু ইউরোপ যদি এই সমস্যার আকার ও আয়তন অনুযায়ী তার নিজের নীতি ও আচরণ নির্ধারণ করে, তাহলে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশগুলি এবং অপরাপর দেশের প্রতীতি জন্মাতে সাহায্য করবে৷

সিগমার গাব্রিয়েল, ভাইস চ্যান্সেলর, ফেডারাল জার্মান প্রজাতন্ত্র; ফেডারাল অর্থনীতিমন্ত্রী এবং সামাজিক গণতন্ত্রী দলের সভাপতি৷

ডেভিড মিলিব্যান্ড, সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী (২০০৭-২০১০); বর্তমানে নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ত্রাণ পরিষদের সভাপতি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়