1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ইউরোপের একমাত্র উট দুগ্ধ খামার নেদারল্যান্ডসে

বেদুইনরা উটের দুধকে গণ্য করে মহৌষধ হিসেবে৷ এশিয়া ও আফ্রিকায় মনে করা হয়, উটের দুধে রয়েছে রোগ নিরাময়ের চমৎকার ক্ষমতা৷ ইউরোপেও এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে উটের দুধ৷ এরই মধ্যে নেদারল্যান্ডস’এ গড়ে উঠেছে ইউরোপের প্রথম উট খামার৷

default

জার্মানিতেও উট আসছে এখন

আমস্টারডাম শহরের একটি এলাকা ডেন বশ৷ সেখানে জলজ্যান্ত তিনটি উট দেখে পুলিশ কর্মকর্তারা প্রথমে নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, তারা আসলেই উট দেখছেন কিনা! সেখানে বসবাসকারী মরোক্কোর অভিবাসীরা অবশ্য পুলিশকে জানিয়েছিলো, উটগুলো তাদের নয়৷ উটগুলোর মালিক এক ছাত্র এবং তিনি সেই এলাকারই বাসিন্দা৷ এটা ২০০৬ সালের কথা৷ আজ সেই ছাত্র ফ্রাঙ্ক স্মিটস ইউরোপের একমাত্র উটের খামারের মালিক৷

‘‘উট আমার ভালোবাসা,'' খোলাখুলি মন্তব্য এই কৃষি বিজ্ঞানীর৷ তিনি বলেন,‘‘সব পশুদের মধ্যে উটই একমাত্র প্রাণী যার দুধের গুণাগুণ মায়ের দুধের কাছাকাছি৷''

Trampeltier

উটের দুধের গুনাগুন মায়ের দুধের কাছে

জার্মান এক মহিলা বলেন, ‘‘এর স্বাদ গরুর সর তোলা দুধের মতো৷ যদি সুপার মার্কেটগুলোতে উটের দুধ পাওয়া যেতো, তাহলে আমি সেই দুধই কিনতাম৷'' আর সাতাশ বছর বয়েসি স্মিথের স্বপ্নও সেটি৷ প্রত্যেক সুপার মার্কেটে উটের দুধ পৌঁছে দেওয়া৷ স্মিথ এরইমধ্যে উটের দুধ দোয়ানোর জন্য এক ধরণের যন্ত্রও উদ্ভাবন করেছেন৷

বর্তমানে পঞ্চাশটি উটের মালিক স্মিটস৷ তিনি বলছেন,‘‘উটের দুধ গরুর দুধের চেয়ে পুষ্টিকর৷ এর মধ্যে ফ্যাট খুব কম৷ চিনি নেই বললেই চলে৷ কিন্তু এতে প্রচুর খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন সি রয়েছে৷'' এই দুধে বেটা এবং ল্যাকটো গ্লোবুলিনের মতো প্রোটিন নেই, যে প্রোটিনগুলোর কারণে অনেকের অ্যালার্জি হয়৷

ফ্রাঙ্কের বাবা মার্সেল স্মিটস একজন ডাক্তার৷ তিনি বলেন, ‘‘ডায়াবেটিসের রোগীরা যদি প্রত্যেকদিন উটের দুধ পান করেন তাহলে তাঁরা এ থেকে উপকার পাবেন৷ এটা ইউরোপের নতুন স্বাস্থ্যকর খাবারগুলোর মধ্যে একটিতে পরিণত হতে পারে৷''

উটের দুধের পুষ্টিগুণের কারণে হাজার হাজার বছর ধরে আরবের বেদুইন এবং উত্তর আফ্রিকার লোকজন উট পালন করে আসছে৷ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা অনেকদিন আগেই অন্য যেকোনো দুধের চেয়ে উটের দুধকে বেশি পুষ্টিকর হিসেবে অনুমোদন করেছে৷

প্রতিবেদন: জান্নাতুল ফেরদৌস

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক