1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ইউরোপীয় রেনেসাঁর এক অগ্রপথিক আলব্রেশ্ট ড্যুরার

তেল রং, জল রং, গ্রাফিক্স বা অঙ্কনচিত্র – শিল্পকলার প্রায় সব ধারাতেই আলব্রেশ্ট ড্যুরার রেখে গেছেন দারুণ প্রতিভার স্বাক্ষর৷ প্রতিকৃতি, নিসর্গ, মানুষ ও পশু-পাখি নিয়ে আঁকা তাঁর বহু কাজ সেরা শিল্পকর্মের ইতিহাসে আদর্শ হয়ে আছে৷

বিশেষ করে তাঁর ‘প্রিন্ট' বা ছাপ শিল্প শৈলী আজো বহু শিল্পীরই প্রেরণা৷ তামার পাতে এনগ্রেভ বা খোদাই অথবা উডকাট ছাপ শিল্পের মধ্য দিয়ে সেসময় মাত্র ২০ বছর বয়সেই ইউরোপের শিল্পাঙ্গনে পরিচিত হয়ে ওঠেন আলব্রেশ্ট ড্যুরার৷ ‘নাইট, ডেথ অ্যান্ড দ্য ডেভিল', ‘সেইন্ট জেরমি ইন হিজ স্টাডিস' বা ‘মিলানকোলিয়া'-র মতো নিখুত শিল্প কর্মগুলিই তার প্রমাণ৷ কালি কলমে আঁকা ‘প্রেইং হ্যান্ডস', জোড়ো হাতে প্রার্থনার এই অঙ্কন চিত্র আজও বহু ক্ষেত্রেই শান্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়৷

পুরো নাম: আলব্রেশ্ট ড্যুরার

জন্ম তারিখ: ২১শে মে, ১৪৭১

জন্মস্থান: ন্যুরেনব্যর্গ, জার্মানি

মৃত্যু: ৬ই এপ্রিল, ১৫২৮, ন্যুরেনব্যর্গ

পেশা: চিত্রশিল্পী, খোদাইকার ও ছাপশিল্পী, গণিত বিশারদ, তত্ত্ববিদ এবং লেখক হিসেবেও রয়েছে তাঁর প্রতিভা ও দক্ষতার অনেক উদাহরণ৷

বাবা: আলব্রেশ্ট ড্যুরার, জ্যেষ্ঠ

মা: বারবারা হোলপার

স্ত্রী: আগনেস (মৃত্যু - ১৫৩৯)

উল্লেখযোগ্য শিল্প কর্ম: নাইট, ডেথ অ্যান্ড দ্য ডেভিল, সেইন্ট জেরমি ইন হিজ স্টাডিস, প্রেইং হেন্ডস, মিলানকোলিয়া

পঞ্চদশ-ষোড়শ শতাব্দীর ইউরোপের উত্তরাঞ্চলীয় রেনেসাঁর এই অগ্রপথিক শুধু চিত্রশিল্পীই ছিলেন না৷ আরো বহু গুণের অধিকারী ছিলেন আলব্রেশ্ট ড্যুরার৷ আজ যে আমরা চিত্রাঙ্কন বিদ্যায় জ্যামিতির ধারায় বা মাপে মানবদেহের অনুপাত ও গঠন শিখতে পারি, সেটা তাঁরই গবেষণার ফল৷

তিনি ছিলেন গণিত বিশারদ৷ সৃজনশীল চিত্রশিল্পে শিল্পীর নিজস্ব নাম বা স্বাক্ষর রাখা – সেটা তাঁরই অবদান৷ এর আগে চিত্রাঙ্কন অন্য যে কোনো দক্ষ হাতের কাজের মতোই বিবেচিত হোত৷ অর্ধাৎ, কোনো স্বাক্ষর থাকতো না৷

আলব্রেশ্ট ড্যুরারের বাবা ছিলেন স্বর্ণকার৷ কয়েক বছর স্কুল শিক্ষার পর বাবার কাছেই স্বর্ণকার ও অঙ্কনে তাঁর হাতে খড়ি৷ ১৪৮৬ সালে ১৫ বছর বয়সে শিল্পী মিশায়েল ভলগেমুটের শিক্ষানবিশ ছিলেন তিনি৷ এ সবকিছুই জানা যায় তাঁর রচিত আত্মজীবনীতে৷ লিখতেনও অসাধারণ৷ তাঁর ‘ফোর বুক্স অন মেজারম্যান্ট' এবং ‘ফোর বুক্স অন হিউম্যান প্রোপর্ষন' ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল৷ সে সময় বেশিরভাগই লেখা হোত ল্যাটিন ভাষায়৷ কিন্তু ড্যুরার লিখতেন জার্মান ভাষায়, স্বদেশি শিল্প নৈপুন্যের আঙ্গিকে৷ জার্মান গদ্যের বিস্তারণেও তাঁর অবদান আছে৷ তার প্রমাণ, ষোড়শ শতাব্দীতে খ্রিষ্ট ধর্মের সংস্কারক এবং প্রটেস্ট্যান্ট গির্জার প্রবর্তক মার্টিন লুথার, ড্যুরারের গদ্যের আদলেই বাইবেলের অনুকরণ শুরু করেন৷ আলব্রেশ্ট ড্যুরার নিজে একজন ক্যাথোলিক হলেও মার্টিন লুথারের সংস্করণের সমর্থক ছিলেন তিনি৷ বহু গুণের অধিকারি নিরহঙ্কার এই মানুষ মৃত্যুর প্রায় ছ'শ বছর পরও বিশ্ব ইতিহাসের অহঙ্কার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন