1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

ইউরোপিয়ান সং কন্টেস্টে চিরকালই রাজনীতি ছিল

আগামী ১৮ই মে ইউরোপিয়ান সং কন্টেস্ট বা ইএসসি-এর ৫৮তম সংস্করণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে সুইডেনের মালমোতে৷ বিজ্ঞাপনের ভাষায় তাকে নিছক মনোরঞ্জন বলা হলেও, রাজনীতি মিশে আছে এই গানের প্রতিযোগিতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে৷

সূচনায় বলা হতো ইউরোভিশন গ্রঁ প্রি৷ প্রতিযোগিতার নিয়মাবলীতে আজও লেখা আছে: প্রতিযোগিতা চলাকালীন গানের কথা, বক্তৃতা কিংবা ভাবভঙ্গিতে কোনোরকম রাজনৈতিক আভাস-ইঙ্গিত থাকলে চলবে না৷

১৯৫৬ সাল৷ তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে মাত্র ১১ বছর আগে৷ বেলজিয়াম, তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবুর্গ, ইটালি, ফ্রান্স এবং সুইজারল্যান্ডের বেতার সংস্থাগুলি মিলে যখন এই প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করে, তখন তার একটা উদ্দেশ্য ছিল এককালের বৈরীদের মধ্যে সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ৷

বিশ্বশান্তি, ভালো কথা – কিন্তু পুটিন?

১৯৮২ সালে জার্মানি প্রথম এই প্রতিযোগিতায় জেতে৷ ইউরোপ জুড়ে শান্তি আন্দোলন তখন চরমে৷ জার্মানির হয়ে নিকোল জেতেন তাঁর সুবিখ্যাত ‘‘আইন বিসিয়েন ফ্রিডেন'' বা ‘একটুখানি শান্তি' গানটি দিয়ে৷ একেও এক হিসেবে বিশ্ব রাজনীতি বলা চলতো৷ ইএসসি-এর আয়োজক ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন বা ইবিইউ কিন্তু তা-তে আপত্তি করেনি৷

অথচ ২০০৯ সালে জর্জিয়া থেকে ‘‘উই ডোন্ট ওয়ানা পুট ইন'' গানটি গাওয়ার কথা হলে, ইবিইউ বেঁকে বসে, কেননা গানের শীর্ষকের একটি মানে করা যেতে পারে: ‘আমরা পুটিন'-কে চাই না',‘পুট ইন'-এর মধ্যেই যে ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে৷ এর দু'বছর আগেই ইউক্রেনের একটি গানে নাকি ‘‘বিদায় রাশিয়া'' কথাগুলো শোনা গেছে বলে রুশ টেলিভিশনে গানটি সম্প্রচার করা হয়নি৷

এবারও ম্যাসিডোনিয়ার এসমা ও ভ্লাটকোর গাওয়া গানটির ভিডিও-তে ‘বৃহত্তর ম্যাসিডোনিয়ার' গন্ধ পেয়েছেন প্রতিবেশি দেশের মানুষজনেরা৷ কাজেই স্কোপিয়ে সাততাড়াতাড়ি ‘‘ইম্পিরিয়া'' বা ‘সাম্রাজ্য' গানটির বদলে ‘‘প্রেদ দা সে রাজদেনি'' বা ‘ভোরের আগে' গানটি পাঠিয়েছে৷

সমাজ ও রাজনীতি

১৯৯৮ সালে যখন লিঙ্গ পরিবর্তনকারী গায়িকা ডানা ইসরায়েলের হয়ে গাওয়ার সুযোগ পান, তখন ইসরায়েল ও ইউরোপের রক্ষণশীল মহলে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে গিয়েছিল৷ ওদিকে সমকামীরা নাকি ইউরোপিয়ান সং কন্টেস্টের বিশেষ ভক্ত৷ তাই ২০০৯ সালে মস্কোর সমকামীরা ইএসসি-এর চূড়ান্ত দিনে একটি ‘গে প্যারেড' করতে চাইলে পুলিশ তাদের লাঠি হাতে বিতাড়ন করে৷

আবার ইউরোপিয়ান সং কন্টেস্ট কর্তৃত্বমূলক দেশগুলির পক্ষে আত্মবিজ্ঞাপনের একটা সুযোগও বটে: ২০০৯ সালে মস্কোয় আয়োজিত ইএসসি ছিল একটি সুবিশাল ব্যাপার৷ অর্থ খরচ করা হয়েছিল দরাজ হাতে, কেননা ভ্লাদিমির পুটিনের সরকারের পক্ষে এটা ছিল একটা প্রেস্টিজের ব্যাপার৷ পুটিন নিজে রিহার্সালে এসেছিলেন৷

তিন বছর পরে আজারবাইজানে আরো চমৎকৃত করার মতো একটি দৃশ্য৷ খোদ ফার্স্ট লেডি মেহরিবান আলিইয়েভা হয়েছিলেন সাংগঠনিক কমিটির প্রধান; প্রেসিডেন্টের জামাতাকে ফাইনাল চলাকালীন ইন্টারভালের সময় মঞ্চে গান গাইবার অধিকার দেওয়া হয়৷ বলতে কি, বাকুতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের আগেই আজারবাইজানের মতো একটি দেশে ইএসসি-এর আয়োজন করার যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্ক চলে৷ প্রশ্ন ছিল: যে দেশে মানবাধিকার নিয়মিত ভঙ্গ হয়, সেখানে এ ধরনের একটি মনোরঞ্জনের অনুষ্ঠান বিসদৃশ দেখায় কিনা৷ পশ্চিমি দেশগুলিতে এই বিতর্কে চলার ফলে আজারবাইজানের মানবাধিকার কর্মী, বিরোধী রাজনীতিক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকরা অন্তত কিছুদিনের জন্য ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমে তাঁদের অবস্থান জ্ঞাপন করার সুযোগ পান৷

মোদের গরব, মোদের আশা

ইএসসি-এর সবচেয়ে কণ্টকিত সমস্যা হল ভাষা সমস্যা৷ ইংরিজিতে না গাইলে গানের কথা কিংবা ভাব অন্যান্য দেশের শ্রোতা-দর্শকদের কাছে বোধগম্য হয় না৷ আবার স্বদেশে প্রত্যাশা থাকে, যে জার্মানির প্রতিনিধিত্ব করছে, সে জার্মানে গাইবে; যে ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করছে, সে ফরাসিতে গাইবে৷ বিশেষ করে ফ্রান্সে এ নিয়ে প্রায়ই বিরোধ বাঁধে৷

Autor: Andreas Brenner, Malmö (Schweden) am 14.05.2013 . Thema: Stimmung in Malmö beim Eurovision Song Contest Stichworte: Denkmal Karl X, Eurovision Song Contest, ESC, Malmö Bildbeschreibung: Denkmanl Karl X im Stadtzentrum von Malmö während des ESC 2013

১৮ মে ইউরোপিয়ান সং কন্টেস্ট বা ইএসসি-এর ৫৮তম সংস্করণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে সুইডেনের মালমোতে

জার্মানদের ভাষা নিয়ে এতটা স্পর্শকাতরতা নেই৷ তারা চায় জিততে৷ তা সে নিকোল জার্মান ভাষায় গেয়েই জিতুন আর লেনা মায়ার-লান্ডরুট ইংরিজিতে গেয়েই জিতুন৷ কিন্তু যে প্রতিযোগিতায় উত্তরের মানুষ উত্তরে নিজেদের প্রতিবেশি দেশগুলিকে; কিংবা বল্কানের মানুষ তাদের প্রতিবেশি দেশগুলিকে চোখ বুজে ভোট দিয়ে থাকে; যেখানে দেশে দেশে ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন অন্য যে কোনো ধরনের সাংগীতিক কি সাংস্কৃতিক বিবেচনার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ: সেই প্রতিযোগিতার (রাজনৈতিক) ফলাফল যে শেষ অবধি কি দাঁড়াবে, তা কে বলতে পারে?

নির্বাচিত প্রতিবেদন