1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইউনেস্কো ‘শান্তিবৃক্ষ’ পুরস্কার পেলেন শেখ হাসিনা

নারী ও কন্যাশিশুদের শিক্ষা প্রসারের স্বীকৃতি হিসাবে ইউনেস্কোর ‘পিস ট্রি’ অথবা ‘শান্তিবৃক্ষ’ পুরস্কার পেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ সোমবার ঢাকায় ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা শেখ হাসিনার হাতে এই স্মারক তুলে দেন৷

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘শান্তিবৃক্ষ' স্মারক তুলে দেয়ার সময় হাসিনাকে ‘সাহসী নারী' হিসেবে অভিহিত করেন ইউনেস্কোর মহাপরিচালক৷ তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব মঞ্চের ‘জোরালো এক কণ্ঠ'৷

ইউনেস্কোর এই পুরস্কার বিশ্বের সকল নারী ও শিশুদের উত্‍সর্গ করেছেন শেখ হাসিনা৷ বিশেষ করে বাংলাদেশের কন্যাশিশুদের৷ সাক্ষরতা ও শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘ইউনেস্কো লিটারেসি অ্যাওয়ার্ড ২০১৪' পাওয়া যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, আলজেরিয়া, ইকুয়েডর ও বুর্কিনা ফাসোর বিশিষ্টজনদেরও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী৷

বিশ্বব্যাপী শিক্ষা ও সাক্ষরতায় অসামান্য অবদানের জন্য সাত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করে ইউনেস্কো৷ পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সনদ, স্মারক ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী৷

পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন, বুর্কিনা ফাসোর ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রমোশন অফ নন-ফরমাল এডুকেশন'-এর প্রেসিডেন্ট আনাতোলে টি. নিয়ামেওগো, ইকুয়েডরের শিক্ষামন্ত্রী আগুস্তো এসপিনোসা, আলজেরিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ অ্যালফাবেটাইজেশন-র প্রেসিডেন্ট আয়েশা বার্কি, স্পেনের পারমানেন্ট এডুকেশন সেন্টার পলিগনো সার সেবিলি-র পরিচালক আনা গার্থিয়া রেইনা, এ প্রতিষ্ঠানের উপ-পরিচালক ইসাবেল দিয়েলবার্ত, দক্ষিণ আফ্রিকার মল্টটেনো ইনস্টিটিউট ফর ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিটারেসি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল লিটারেসি ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসেনিনয়া দিকোতলা এবং এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ড্যান এ. ওয়াগনার৷

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘আমি মনে করি, উপযুক্ত শিক্ষাই পারে একটি মেয়েকে সামাজিক, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে৷ যে কোনো ধরনের অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহসও শিক্ষাই দিতে পারে৷ আমরা সে কাজটিই করে যাচ্ছি৷''

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘‘সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন ‘কারিকুলাম' প্রণয়ন করেছে৷ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থেকে শুরু করে জুনিয়র স্কুল, মাধ্যমিক স্কুল ও উচ্চমাধ্যমিকসহ সকল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে৷ এখন ৯২ শতাংশ পাশ করছে৷ পরবর্তীতে কম করে হলেও ৯৮ ভাগ পাশ করবে এটাই আমাদের লক্ষ্য৷'' বাংলাদেশ সরকার ‘নারী ও কন্যাশিশুদের স্বাক্ষরতা ও শিক্ষা: টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি' শীর্ষক ইউনেস্কোর এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে৷

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্নাতক পর্যায়ে নারী শিক্ষাকে উত্‍সাহিত করতে ‘প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা-সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড' গঠন করেছি৷ এই ফান্ডে সরকার এক হাজার কোটি টাকা সিড মানি প্রদান করেছে৷ ইতোমধ্যেই এই ফান্ড থেকে স্নাতক ও সমপর্যায়ের ১ লাখ ২৯ হাজার ৮১০ জন ছাত্রীকে প্রায় ৭৩ কোটি টাকার উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে৷ এতে নারীরা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে৷ ছাত্রদের তালিকাও করা হয়েছে৷ আগামীতে ছাত্রদের উপবৃত্তি দেয়া হবে৷ নারী কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘আমরা মেয়েদের নতুন নতুন পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি৷ সব পেশায়ই মেয়েদের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে৷''

এছাড়া বেকার নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে৷ আত্ম-কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে৷ নারী উদ্যোক্তা সৃজনে জামানতবিহীন ঋণ দেওয়া হচ্ছে৷ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার ক্ষেত্রে নারীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা বরাদ্দ রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী৷

শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘বিশ্বের প্রতিটি শিশু, বিশেষ করে কন্যাশিশুকে শিক্ষাদান আমাদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ৷ আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মেয়েরা স্কুলে যেতে বিভিন্ন প্রতিকূলতার শিকার হয়৷ তাদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়৷ আমরা এর অবসান চাই৷ এটাই হোক আজকের এই সম্মেলনে আমাদের দৃপ্তশপথ৷''

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘বাংলাদেশ এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে৷ এখন প্রতিটি শিশু স্কুলে যেতে পারছে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন