1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইউক্রেনের যাত্রা চলেছে ইউরোপ অভিমুখে

ইউক্রেনের নতুন সংসদে ইউরোপপন্থি দলগুলির সংখ্যাগরিষ্ঠতা স্পষ্ট৷ কিন্তু অতীতের ক্ষমতাশালী তথা হালের পপুলিস্টরাও হাজির রয়েছেন৷ অর্থাৎ সাবেক প্রণালী পুরোপুরি বিদায় না নিলেও, তার সুযোগ এখনও হাতে রয়েছে৷

ইউক্রেনের মানুষ ভোট দিয়েছেন৷ দেশ স্বাধীন হওয়া যাবৎ এটাই ছিল ইউক্রেনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন – কেননা এই প্রথম সংসদে ইউরোপপন্থিদের ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দেশে সংস্কার এনে দেশকে ইউরোপের দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে৷ এবং এই প্রথমবার ‘ভেরখোভনা রাদা', অর্থাৎ ইউক্রেনীয় সংসদে কিছু তরুণ সমাজকর্মী থাকবেন, যাঁরা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের আদর্শে দেশকে বদলে দিতে চান৷

এই তরুণ বিপ্লবীরা রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী তালিকায় ছিলেন এবং অনায়াসে সংসদে আসন সংগ্রহ করেছেন৷

গত শীতে এরাই অপরাপর লক্ষ আন্দোলনকারীর সঙ্গে একযোগে বিক্ষোভ করে দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারী ইয়ানুকোভিচ সরকারের পতন ঘটিয়েছেন৷ এবার এই তরুণ তুর্কিরা সংসদে রাজনৈতিক দায়িত্ব নেবেন৷ তাঁদের দেখাতে হবে যে, তাঁরা রাজনীতির হর্তাকর্তা ও ধনি ব্যবসায়ীদের ঘোঁট ভাঙবার ক্ষমতা রাখেন৷

ইউরোপমুখী

কিয়েভের ‘ময়দানে' যাঁরা বিক্ষোভ করেছিলেন, তাঁরাই এই নির্বাচনে বিজয়ী – এবং তাদের সঙ্গে সেই সব রাজনৈতিক দল, যারা সে'সময় পালাবদলের পালায় তরুণ বিপ্লবীদের সমর্থন করেছিল৷ এদের মধ্যে প্রথমেই আসছে প্রেসিডেন্টের নির্বাচনি জোট ‘‘ব্লক পেত্রো পোরোশেঙ্কো'' এবং অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী আর্সেনি ইয়াৎসেনিয়ুকের ‘‘গণফ্রন্ট''৷ এই দু'টি দলের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা ইউরোপের আদর্শে ইউক্রেনের আধুনিকীকরণের কাজ শুরু করতে পারবে৷

সরকার জোটে অন্যান্য দলকে রাখার কথাও ভাবা যেতে পারে৷ অর্থনীতি এবং সমাজে অংশত প্রয়োজনীয় অথচ অপ্রিয় সংস্কার সাধনের জন্য একটি প্রশস্ত সরকারি জোট সুবিধাজনক৷ বিশেষ করে পশ্চিম ইউক্রেনে শক্তিশালী ‘‘স্বনির্ভরতা'' দল, যারা এই প্রথমবার ইউক্রেন সংসদে আসন নিচ্ছে – এবং ইউলিয়া টিমোশেঙ্কোর ‘‘পিতৃভূমি'' দলকে সঙ্গে নিলে ইউক্রেনের পশ্চিমমুখী যাত্রায় একটা স্থিরতা ও নিশ্চয়তা আসে৷

সাবেক কর্তারা ছাড়বেন না

কাজটা যে খুব সহজ হবে, এমন নয়, কেননা ইউরোপপন্থি শক্তিগুলির ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাদ সাধতে পারে – এছাড়া সংসদে বহু নতুন মুখ থাকা সত্ত্বেও, কিছু কিছু পুরনো মুখও উঁকিঝুঁকি মারছে, যেমন সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচের এককালীন সাঙ্গপাঙ্গরা মিলে একটি ‘‘বিরোধী ব্লক'' গঠন করেছেন৷ যেহেতু ইউক্রেনীয় নির্বাচন প্রণালীতে দলীয় তালিকার সঙ্গে সঙ্গে সরাসরি নির্বাচনেরও ব্যবস্থা আছে, সেহেতু বেশ কিছু বিত্ত – এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি সংসদে আসন ‘কিনে' বসে আছেন৷ পপুলিস্ট দক্ষিণপন্থি শক্তিরাও সংসদের কাজে বিঘ্ন ঘটাবে – যদিও তারা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম আসন পেয়েছে৷

নির্বাচন বৈধতা আনল

শুধু সেই কারণেই এই নির্বাচনকে একটা বিরাট সাফল্য বলা চলে৷ ইউক্রেনে ক্ষমতাবদল এবার বৈধতা পেল৷ রাশিয়া এ'যাবৎ অস্থায়ী সরকারের বৈধতা স্বীকার করেনি এবং ময়দান-এর আন্দোলনকারীদের ফ্যাসিস্ট বলে অভিহিত করে এসেছে – রাশিয়া আর তা করতে পারবে না, কেননা ইউক্রেনীয়রা গত মে মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতোই এবারও প্রধানত গণতান্ত্রিক ও মধ্যমপন্থি শক্তিদেরই ভোট দিয়েছে৷

Deutsche Welle REGIONEN Osteuropa Ukrainisch Bernd Johann

ব্যার্ন্ড ইওহান, ডিডাব্লিউ সম্পাদক

যুদ্ধের কারণে পূর্ব ইউক্রেনের বহু মানুষ ভোট দিতে পারেননি, কিন্তু তা-তেও এ নির্বাচনের বৈধতা অক্ষুণ্ণ থেকে যাচ্ছে: পূর্বের সেই সব এলাকার আসনগুলি খালিই থাকছে৷ কিয়েভ তো নয়, মস্কো সরকারই ক্রাইমিয়া দখল করে এবং ডনবাস এলাকার বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ভাড়াটে সৈন্যদের মদত দিয়ে এই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সে সব এলাকার মানুষদের অংশগ্রহণ অসম্ভব করে তুলেছে৷

এবং এই নির্বাচন ইউক্রেনকে ইউরোপের আরো কাছাকাছি এনে ফেলেছে৷ ইউক্রেনের মানুষ ইউরোপের সঙ্গে সংযোগ কামনা করেন৷ নির্বাচনের ফলাফল তার স্পষ্ট সুযোগ এনে দিয়েছে৷ অপরদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও সাহায্য করতে হবে – এমনকি ইইউ-সদস্যতার সম্ভাবনা দেখিয়ে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন