ইউএন ওম্যানের বোর্ডে ইরানের স্থান নেই | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 23.01.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ইউএন ওম্যানের বোর্ডে ইরানের স্থান নেই

জাতিসংঘের মহিলা দপ্তর ইউএন ওম্যান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১০ সালে৷ সংস্থার প্রধান চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাচেলেট৷ সম্প্রতি ইউএন ওম্যানের বোর্ডে এশিয়ার পক্ষ থেকে তিনটি দেশকে বেছে নেওয়া হয়েছে৷

default

নারী অধিকার বা মানবাধিকারের সুরক্ষায় তেমন সুনাম নেই ইরানের

ইরান আশা করছিল বোর্ডে দেশটি একটি সিট পাবে৷ কিন্তু মানবাধিকার রক্ষায় পিছিয়ে পড়ায় ইরানকে কোন সিট দেওয়া হয়নি৷ জাতিসংঘের নতুন দপ্তর ইউ এন ওম্যান৷ দপ্তরের প্রধান চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাচেলেট৷ কোন কোন দেশ এই দপ্তরে এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করবে, তা প্রথমে স্পষ্ট ছিল না৷ কে বা কোন দেশ আসন পাবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়েছিল ৪১টি দেশের মধ্যে৷

প্রতিযোগীদের মধ্যে ইরান এগিয়ে ছিল৷ কিন্তু মানবাধিকার রক্ষায় ইরান বেশ পিছিয়ে থাকায় শেষ পর্যন্ত সেদেশ সমর্থন পায় নি৷ বিশেষ করে নারীদের অধিকার রক্ষায় ইরানে তেমন কিছু করা হচ্ছে না – এই যুক্তি দেখানো হয়৷ গত বছর সাকিনা আশতিয়ানিকে পাথর ছুঁড়ে মারার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ বিভিন্ন দেশ, এমনকি ইরানেও এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে৷ ফলে তা স্থগিত ঘোষণা করা হয়৷ ইরানে মেয়েদের কোন অধিকার নেই, দেশের আইন-কানুন কখনো একজন নারীকে রক্ষায় এগিয়ে আসছে না – ইউএন ওম্যানের অন্যান্য সদস্য দেশ বেশ উচ্চ স্বরেই এই যুক্তি দেখায়৷

ইরানকে কোন পদ দেওয়া হচ্ছে না, তার ফলে অনেকেই হয়তো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে৷ ইউএন ওম্যানের মূল লক্ষ্য হল বিশ্বের প্রতিটি মেয়ের অধিকার নিশ্চিত করা৷ যে কোন ধরণের নির্যাতন এবং পীড়নের হাত থেকে তাদের রক্ষা করা৷ আর ঠিক এ কারণেই এমন কোন দেশকে ইউএন ওম্যান নির্বাচিত করতে চায়নি, যে দেশটি ইতিমধ্যেই বহু ক্ষেত্রে সমালোচনার সম্মুখীন৷ তবে ইরান ছিল সবেচেয়ে আশাবাদী৷

সভাকক্ষে ঘোষনা করা হয়, ‘‘এশিয়ান স্টেট গ্রুপে তিনটি প্রার্থী দেশের নাম বলা হবে........''

প্রার্থী দেশ হিসেবে পূর্ব টিমরও মনোনয়ন জমা দিয়েছিল৷ কিন্তু দেশটি যে সত্যিই সত্যিই বাছাই পর্বে যাবে তা ছিল কল্পনাতীত৷ দেশটি অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে বেশ ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে৷ আর সবচেয়ে বড় কথা হল এশিয়ান স্টেট গ্রুপে ইউএন ওম্যান এমন একটি দেশ চাইছে যে দেশটি একেবারে নতুন, যে দেশটি অন্ততপক্ষে ইরানের মত এত বিতর্কিত নয়৷

ঘোষণায় বলা হয়, ‘‘দেশগুলো হল – পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং পূর্ব টিমর৷''

বোর্ডের বিভিন্ন পদ অঞ্চল অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া হয়েছে৷ এশিয়ার জন্য ছিল ১০টি আসন৷ এবং এই দশটি আসনের জন্য প্রার্থী ছিল মাত্র দশটি দেশ৷ তার মধ্যে ছিল ইরান৷ একারণেই ইরান নিশ্চিত ছিল যে একটি আসন ইরান পাচ্ছেই৷ তবে ইরানকে আসনটি না দিয়ে দেওয়া হয়েছে পূর্ব টিমরকে৷ জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি সুসান রাইস জানান, ‘‘আমরা কোন ধরণের লুকোচুরির মধ্যে দিয়ে যাই নি৷ এমন কোন দেশকে আমরা প্রথম রাউন্ডেই আসন দিতে চায়নি, যে দেশটি সারাক্ষণই সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছে৷ এটা ইউএন ওম্যানের জন্য খুব একটা সুখকর হত না৷ এ কারণেই আমরা অত্যন্ত খুশি যে পূর্ব টিমর এই আসনটি জিতেছে৷ দেশটি সাহসের সঙ্গে প্রার্থী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছে৷''

তবে ইউএন ওম্যানের এই সিদ্ধান্তে অনেকেই খুশি নন৷ বিশেষ করে ইরানের নোবেল বিজয়ী শিরিন এবাদী৷ তিনি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, এমন একটি দেশকে ইউএন ওম্যানের বেছে নেওয়া উচিত ছিল, যে দেশে সত্যিই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, যেখানে নারীদের অধিকার প্রতিনিয়ত মুখ থুবড়ে পড়ছে৷

গত বছরের জুলাই মাসে ইউএন ওম্যান প্রতিষ্ঠা করা হয়৷ সেপ্টেম্বর মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি৷ সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাচেলেট৷ জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন মিশেল বাচেলেটকে এই পদে আসীন করেন৷ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংস্থার বাজেট প্রতি বছর পাঁচশো মিলিয়ন ডলার৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়