1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

ইইউ-র ভেতরে অবাধ চলাচলের সুযোগ বাস্তবে কেমন?

জার্মানিতে কাজ করা৷ বেলজিয়ামে বাস করা৷ ইটালিতে পড়াশোনা করা৷ এই হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবাধ যাতায়াতের মূলতত্ত্ব৷ কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি কেমন?

ইইউ-এর সদস্য দেশগুলির নাগরিকরা এক দেশ থেকে আরেক দেশে বিনা বাধায় যেতে পারেন, পড়াশোনা করতে পারেন, চাকরি করতে পারেন, বসবাসও করতে পারেন৷ এজন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয় না৷ পরিচিতিপত্রই যথেষ্ট৷

কোনো দেশে বেকারত্ব বেশি, কোনো দেশে কর্মখালি

ইইউভুক্ত কয়েকটি দেশে বেকারত্বের হার অত্যন্ত উঁচু৷ কোনো কোনো দেশে আবার অসংখ্য কর্মখালি পড়ে আছে৷ তাই যারা অন্য দেশে গিয়ে চাকরি করতে চান, তাদের জন্য সব কিছু সহজ করা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা৷

যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় ‘উইন-উইন' পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে৷ অর্থাৎ একদিকে সদস্য রাষ্ট্রগুলির সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, অন্যদিকে চাকরি পেয়ে লাভবান হন বেকাররাও৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুযায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলির নাগরিকদের এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে৷ এমনকি চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সদস্য দেশগুলির নাগরিকরা আরেক সদস্য দেশে থাকতে পারেন, যতদিন পর্যন্ত তাদের সামাজিক ভাতার ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়৷ অতিথি দেশের নাগরিকদের মতই চাকরি ক্ষেত্রে সব রকমের সুযোগ-সুবিধা তাঁরা পান৷

চাকরির বাজারে ভারসাম্য

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা ওইসিডি-র বিশেষজ্ঞ টমাস লিবিক চাকরির বাজারে আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও তার ফলাফল নিয়ে গবেষণা করছেন৷ তাঁর মতে, ‘‘অবাধ যাতায়াতের অধিকার ইউরোপের অভ্যন্তরীণ চাকরির বাজারে ভারসাম্য রক্ষা করে৷''

ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে সব দেশে বেকারত্বের চাপ বেশি, সে সব দেশ থেকে আগ্রহীরা ইইউ-ভুক্ত অন্যান্য দেশে চাকরি করতে পারেন৷ এটা হলো থিওরি৷ কিন্তু বাস্তব অবস্থাটা ভিন্নরকম৷

Thomas Liebig (OECD)

ওইসিডি-র বিশেষজ্ঞ টমাস লিবিক

‘‘ইইউ-এর মাত্র ৫ শতাংশ নাগরিক অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রে কাজ করেন৷'' বলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নাদিয়া হিয়র্শ৷

এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলির মধ্যে বৈষম্যও রয়েছে৷ যেমন অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দুর্বল দেশ বুলগেরিয়া ও রুমেনিয়ার নাগরিকরা ইইউভুক্ত অন্যান্য দেশ চাকরি করতে চাইলে কাজের অনুমতি নিতে হয়৷ অবশ্য ২০১৪ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে এই শেষ বাধাটাও দূর করা হবে৷

বিদেশি বিদ্বেষ চাকরির বাজারেও

বিদেশি বিদ্বেষ চাকরির বাজারেও লক্ষ্য করা যায়৷ কয়েক দশক ধরে ইইউভুক্ত দেশগুলির ভেতরে চাকরির বাজারে সীমানা না থাকলেও নেতিবাচক বদ্ধমূল ধারণাটা কিন্তু রয়েই গেছে৷ বাজার ব্যবস্থাটা যখন এক, তখন তো বলা যায় না, জার্মান ও ড্যানিশরা স্পেন ও গ্রিসের তরুণ ও শিক্ষিত কর্মীদের দখল করে নিচ্ছে৷

ইইউ-র অভ্যন্তরে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াতের সুযোগ সুবিধার ফলে কিছুটা হালকা হয় দুর্বল দেশের কর্মবাজার৷ সেখানকার বেকার ব্যক্তিরা জার্মানি বা নেদারল্যান্ডসে চাকরি নিয়ে গেলে একদিকে যেমন দেশটির ওপর চাপ কমে, অন্যদিকে চাকরি ক্ষেত্রে তাঁরা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারেন৷ পরে স্বদেশে ফিরে এলে সেই অভিজ্ঞতা তাঁরা কাজে লাগাতে পারেন৷

Porträt - Nadja Hirsch

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নাদিয়া হিয়র্শ৷

স্পেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি

সম্প্রতি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে জার্মানির সঙ্গে স্পেনের একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছে৷ এই চুক্তির বলে আগামী চার বছরের মধ্যে ৫,০০০ স্প্যানিশ তরুণ-তরুণী জার্মানিতে প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগ পাবেন৷ বর্তমানে স্পেনে বেকারত্বের হার ৫৬ শতাংশের মত৷ এদিক দিয়ে ইইউ-এর দেশগুলির মধ্যে গ্রিসের পরেই স্পেনের স্থান৷

এ প্রসঙ্গে জার্মান শ্রমমন্ত্রী উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন বলেন, ‘‘জার্মানিতে ৩৩,০০০ শিক্ষানবিশের পদ খালি রয়েছে৷ তাই তরুণ স্প্যানিশদের সাদরে অভ্যর্থনা জানানো হবে এখানে৷''

ভাষা সমস্যা

অবশ্য এক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হলো ভাষা সমস্যা৷ চাকরিদাতা দেশের ভাষায় দখল না থাকলে বিরাট প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয় অন্য দেশ থেকে আসা কর্মজীবীদের৷ তাই সংকটাপন্ন দেশগুলির উচিত বিদেশি ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া৷

ইইউ-এর পার্লামেন্টের নাদিয়া হিয়র্শ মনে করেন, ‘‘এক্ষেত্রে ভাষা সমস্যা ছাড়াও আমলাতান্ত্রিক কিছু জটিলতা রয়েছে৷ যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আসা অভিবাসীদের অবসর বা বেকার ভাতা নেওয়ার প্রশ্ন উঠলে৷ এক্ষেত্রে চাকরিদাতা দেশের ওপরই প্রথমে দায়িত্ব বর্তায়৷ পরে স্বদেশকে নিতে হয় এই দায়িত্ব৷ বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন৷''

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে সহজে যাতায়াতের আইনকানুন শুধু পর্যটক ও চাকরিজীবীদের সুবিধাই করে দেয়নি৷ সম্প্রতি ইইউ থেকে পাশ করা একটি আইনে পোষা জীবজন্তু নিয়েও সীমানা ছাড়িয়ে যাতায়াত করা সহজ হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়