1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইইউ-র জন্য একক বাহিনী গঠনের প্রস্তাব

ইউক্রেন সংকটকে ঘিরে রাশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের উত্তেজনা বাড়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি একক সামরিক বাহিনী গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লোদ ইয়ুংকার৷

জার্মান পত্রিকা ‘ভেল্ট আম সনটাগ'-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়ুংকার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে আসা হুমকি মোকাবিলা ও ইউরোপীয় মূল্যবোধ রক্ষায় এই বাহিনী কাজ করবে৷ ‘‘ইউরোপীয়দের নিয়ে গঠিত একটি একক বাহিনী রাশিয়ার কাছে এই বার্তা পাঠাবে যে, আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূল্যবোধ রক্ষায় বেশ সক্রিয়'', বলেন লুক্সেমবুর্গের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ুংকার৷

এ ধরনের একটি বাহিনী গঠন করলে ইইউ দেশগুলো আর্থিকভাবেও লাভবান হবে বলে মনে করেন তিনি৷ ইয়ুংকারের মুখপাত্র পরে জানান, এর ফলে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ইউরো বাঁচানো সম্ভব হবে৷

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট মনে করেন, একক বাহিনী গঠনের বিষয়টি ইইউ-র জন্য ভবিষ্যতে একটি একক পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নে সহায়তা করবে৷ তবে সম্ভাব্য ইইউ বাহিনীর ন্যাটোর ভূমিকাকে চ্যালেঞ্জ করা উচিত হবে না, বলেও মন্তব্য করেন তিনি৷

পশ্চিম ইউরোপকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে ১৯৪৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো গঠন করা হয়েছিল৷ বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ২৮৷ এর মধ্যে ২২টি ইইউর সদস্য৷ ইউক্রেন সংকটের গোড়ার দিকে ন্যাটো পূর্ব ইউরোপে থাকা তার সদস্য দেশগুলোতে সেনা সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর মাধ্যমে সম্ভাব্য রুশ হামলা ঠেকানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল৷

EU Merkel bei Juncker

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল লুক্সেমবুর্গের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ুংকার

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ইয়ুংকারের প্রস্তাবকে সমর্থন করলেও বলেছেন শিগগিরই এটা হবে না৷ এটাকে ‘ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা' বলে অভিহিত করেছেন ম্যার্কেল সরকারের মুখপাত্র ক্রিস্টিয়ানে ভির্ৎস৷

তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এই পরিকল্পনার সঙ্গে একমত নন৷ ২০১৩ সালে ইইউ-র এক শীর্ষ সম্মেলনে এ ধরনের পরিকল্পনার কথা উঠলে তখনই এর বিরোধিতা করেছিলেন ক্যামেরন৷ তখন তিনি বলেছিলেন, ‘‘ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা বিষয়ে সহযোগিতা হতে পারে, কিন্তু তাই বলে ইইউ-র নিজের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী থাকা ঠিক নয়৷''

এদিকে বিশ্লেষকরাও একে অবাস্তব ও অজনপ্রিয় পরিকল্পনা বলে অভিহিত করেছেন৷ তাঁদের ধারণা, ইইউ-র অনেক সদস্য ইয়ুংকারের প্রস্তাবে সমর্থন জানাবে না৷ তাঁরা বলছেন, আর্থিক বিষয় বিবেচনা করলে প্রস্তাবটি যৌক্তিক মনে হতে পারে, কিন্তু ২৮টি ভিন্ন দেশের স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যাপারে একমত হওয়া হয়ত সম্ভব নয়৷ জার্মানির ‘ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স'-এর মার্কুস কাইম বলেন, ‘‘আমি এই প্রস্তাবে বেশ কিছু সমস্যা দেখতে পাচ্ছি যেগুলোর সমাধান সম্ভব নয়৷''

ইয়ুংকারের প্রস্তাব নিয়ে জুনে অনুষ্ঠেয় ইইউর পরবর্তী শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে৷

জেডএইচ/ডিজি (এএফপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়