1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

ইইউ-এর কৃষিনীতির ভালোও আছে, মন্দও আছে

প্রসঙ্গটা এলেই ‘ক্যাপ’ বা কমন এগ্রিকালচারাল পলিসির কথা উঠে পড়ে৷ ১৯৬২ সালের এই নীতি অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিপুল পরিমাণ কৃষি ভরতুকি বিলি করে থাকে৷ ক্যাপের ভালোমন্দ নিয়ে বিতর্ক আজও শেষ হয়নি৷

ক্যাপ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃষিনীতি৷ ইইউ-এর বাজেটের প্রায় ৪০ শতাংশ আজও যায় কৃষি ভরতুকিতে – তাও অনেক কমার পরে, কেননা ১৯৮৪ সালে ইইউ-এর বাজেটের প্রায় ৭০ শতাংশ যেত কৃষি ভরতুকিতে৷

কিসের ভরতুকি? ফসল বা ফল ফলানোর ভরতুকি; পশুপালনের ভরতুকি; কৃষিজাত পণ্য রপ্তানির ভরতুকি৷ আবার কম কীটনাশক ব্যবহারের ভরতুকি; আলে গাছ না লাগানোর ভরতুকি; জমি ফেলে রাখার ভরতুকি; পুকুর না বোজানোর, গাছ বা ঝোপঝাড় বাঁচিয়ে রাখার ভরতুকি; বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ভরতুকি৷

ইউরোপের জনসংখ্যার মাত্র তিন শতাংশ কৃষিজীবী; খাদ্যশিল্পের সঙ্গে মিলে এই কৃষি সেক্টর ইইউ-এর জিডিপি-র মোট ছয় শতাংশ উৎপাদন করে৷ অথচ তারা ইইউ-এর বাজেটের ৩০ শতাংশ বা তার বেশি পেয়ে থাকে৷ মোট জনসংখ্যার এই অকিঞ্চিৎকর অংশটিকে বছরে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ইউরো ভরতুকি দিয়ে থাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷

ক্যাপের ভালো দিক

আবার এও সত্য যে, ক্যাপ ইউরোপকে খাদ্য নিরাপত্তা দিয়েছে৷ কৃষিজীবীদের আয়ের নিরাপত্তা না থাকলে ইউরোপবাসীরা এত কম দামে এই পরিমাণ খাবারদাবার কিনতে পারতেন না৷ ৭৫০ ধরণের স্থানীয়, প্রথাগত খাদ্যদ্রব্য আর প্রায় দু'হাজার বিভিন্ন ধরনের সুরা ও মদ্যকে এভাবে সুরক্ষিত করে রাখা যেত না৷ মার্কিন ফুড ইন্ডাস্ট্রি ইউরোপের বাজার ভাসিয়ে দিতো৷

ইউরোপের ৯০ শতাংশই তো গ্রামাঞ্চল, যেখানে তার ৬০ শতাংশ অধিবাসীর বাস৷ অথচ ইউরোপে কৃষিজীবীদের সংখ্যা প্রতিবছর দুই শতাংশ কমে যাচ্ছে৷ চাষি ছাড়া গ্রাম বাঁচে না, গ্রামীণ সংস্কৃতি বাঁচে না – সে কথা ইউরোপেও সত্য৷ তাই শুধু ইউরোপের খাদ্যসংস্কৃতিই নয়, গোটা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরিবেশকে বাঁচানোর জন্য গ্রামাঞ্চলকে বাঁচিয়ে রাখা, ছোট খামারগুলিকে বাঁচিয়ে রাখা, কৃষিজীবীদের বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন – ক্যাপ বা সাধারণ কৃষিনীতি যা করছে৷

সত্যিই কি তাই? ক্যাপের ভরতুকির ৮০ শতাংশ যায় ২০ শতাংশ বড় খামারগুলির কাছে৷ তাদের মধ্যে যেমন ইংল্যান্ডের রানি এলিজাবেথ পড়েন – যিনি বছরে পাঁচ লাখ ইউরো কৃষি ভরতুকি পান – তেমনই ক্যাম্পিনা কিংবা নেসলে-র মতো ফুড ইন্ডাস্ট্রির জায়েন্টরাও পড়ে৷

বাদবাকি

অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নে চাষবাসের হালখাতা করতে গেলে কী বাদ দিতে হবে আর কী বাকি থাকবে – তাই হলো প্রশ্ন৷ ইউরোপীয় কৃষির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অতি-উৎপাদন, যেহেতু এই উৎপাদন ডিম্যান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই-এর উপর নির্ভর নয়৷ এর ফলে ইউরোপীয় কৃষি ফুলে-ফেঁপে যে অতিকায় আকার ধারণ করেছে, তা-তে তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলি ইউরোপে খাদ্য রপ্তানি করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে৷

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে

প্রশ্ন উঠবে কীটনাশক, আগাছানাশক, পশুপালনে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভূত ব্যবহার নিয়ে৷ প্রশ্ন উঠবে রাসায়নিক সার ও তরল জৈব সারের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে৷ প্রশ্ন উঠবে মাত্রাধিক পশুপালন, ও তার ফলে পানি ও পরিবেশের দূষণ নিয়ে৷ প্রশ্ন উঠবে খাদ্যের অপরিসীম অপচয় নিয়ে৷ ফাস্ট ফুড, শিশুদের মেদবহুলতা৷ খাদ্যে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম ও রাসায়নিক উপাদান যোগ৷ অরগ্যানিক ফুডের ভালোমন্দ, সেখানেও ভেজাল চলছে কিনা!

সব মিলিয়ে ইউরোপীয় কৃষ্টির জীবনমরণ যে কোনো না কোনো ভাবে এই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত, সে উপলব্ধি আজও আছে বলেই সম্ভবত ইউরোপ বেঁচে রয়েছে, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা চলে৷ তাই ক্যাপ বানচাল করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না – অন্তত আপাতত নয়৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়