1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইইউ’এর নতুন সভাপতি দেশ হাঙ্গেরিকে নিয়ে নানা প্রশ্ন

বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওর্বানের জাতীয়তাবাদী-রক্ষণশীল সরকারের সর্বাধুনিক বিধানটি স্বদেশ থেকে শুরু করে ইউরোপীয় সংসদ অবধি সমালোচনা এবং ভ্রুকুঞ্চনের সৃষ্টি করেছে৷

default

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওর্বান

হাঙ্গেরির সর্বাধুনিক মিডিয়া আইনটি বস্তুত সংবাদপত্র এবং বেতারের উপর কড়া সরকারি নিয়ন্ত্রণ চাপাচ্ছে৷ নববর্ষের প্রথম দিনে যেমন হাঙ্গেরি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করে, তেমনই নতুন মিডিয়া আইনটিও কার্যকরি হয়৷ কিন্তু ঐ মিডিয়া আইন আগামীতে একটি সেন্সর প্রথার পথই প্রশস্ত করছে, বলে বিরোধী এবং সমালোচকদের ধারণা৷

ঐ আইন অনুযায়ী মিডিয়ার উপর নজর রাখার একটি সরকারি দপ্তর সৃষ্টি করা হয়েছে, যার কর্মীরা ক্ষমতাসীন দলের সদস্য৷ এই দপ্তরের অভিমতে যদি কোনো রিপোর্ট কি খবর ‘ভ্রান্ত' অথবা ‘রাজনৈতিকভাবে ভারসাম্যবিহীন' হয়, তা'হলে প্রকাশকের ব্যাপক জরিমানা হবার সম্ভাবনা আছে৷ এবং এই অর্থদণ্ড এমনই সমুচ্চ যে, তার ফলে অনেক মিডিয়া সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে৷ এছাড়া এই আইনের বলে সাংবাদিকদের তাদের খবরের উৎস প্রকাশ করতে বাধ্য করা যেতে পারে৷ মিডিয়া কর্তৃপক্ষ বিনা টেন্ডারে টেলিভিশন এবং রেডিও'র ফ্রিকোয়েন্স বিলি করতে পারেন - এ' সব নিয়েই বিরোধীদের চিন্তা৷

Ungarn Pressefreiheit Demonstration

বুদাপেস্টের স্বাধীনতা চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ: সাদা প্ল্যাকার্ডগুলো সংবাদপ্রদানের উপর নিয়ন্ত্রণের প্রতীক

জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র এবং লুক্সেমবুর্গের সরকারবর্গ ইতিমধ্যেই এই আইনের সমালেচনা করেছেন, যেমন করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং অপরাপর গোষ্ঠী৷ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল হাঙ্গেরিকে ইইউ'এর মান ও প্রথা মেনে চলতে বলেছেন৷ ইউরোপীয় সংসদের সামাজিক গণতন্ত্রী এবং উদারপন্থী সদস্যরা এমনকি প্রয়োজনে হাঙ্গেরির সভাপতিত্ব বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছেন৷

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওর্বান বহির্বিশ্বের সমালোচনাকে ‘‘দুঃখজনক'', ‘‘বাস্তব কিছু নয়'', ‘‘ভুল বোঝাবুঝি'' বলে বাতিল করে দিয়েছেন৷ কিন্তু হাঙ্গেরির নতুন মিডিয়া প্রহরীরা ইতিমধ্যেই একটি বেসরকারি বেতারকেন্দ্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে৷ ঐ কেন্দ্র থেকে নাকি গত সেপ্টেম্বর মাসের কোনো এক শনিবার সন্ধ্যায় মার্কিন ব়্যাপ গায়ক আইস-টি'র ‘‘ওয়ার্নিং, ইট'স অন'' গানটি বাজানো হয়েছিল৷ এবং সে গানটি নাকি ‘‘অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিকাশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে''৷ কাজেই সে গান রাত ন'টার আগে বাজানো নীতিবিরুদ্ধ কাজ হয়েছে৷

আইস-টি অবশ্য টুইটারে বলেছে: ‘আমার শুনে খুব ভালো লাগছে৷ সারা দুনিয়া আমার ভয়ে কাঁটা৷ হা-হা-হা৷'

প্রতিবেদন: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সম্পাদনা: হোসাইন আব্দুল হাই