1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

আয়ু জানাবে জিন

আপনি কি অনেক দিন বাঁচবেন? এই প্রশ্ন যদি করা হয়, স্বাভাবিকভাবেই উত্তর আসবে, তা যদি জানতাম৷ এই খেদ ঘুচে যাওয়ার সময় এসেছে৷ দীর্ঘদিনের গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা মোটামুটি সফল হয়েছেন৷

default

পৃথিবীর আলো-হাওয়া কেউ একশ বছর দেখে যেতে পারবে কি না, মোটামুটিভাবে আগাম বলে দিতে পারবেন তাঁরা৷ প্রত্যেক মানুষের জিনই বলে দেবে এই উত্তর৷

আয়ু নির্ধারক জিনের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করেছেন অ্যামেরিকার বোস্টন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা৷ তাদের বহু প্রতীক্ষিত প্রতিবেদন আজই প্রকাশিত হলো বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স জার্নাল' এ৷ এই জিন কীভাবে কাজ করে, তা দেখতে ১৮৯০ থেকে ১৯১০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ১ হাজার ৫৫ ব্যক্তির জিন বিশ্লেষন করেন গবেষকরা৷ পরবর্তী সময়ে জন্ম নেওয়া ১২শ ৬৭ জনের জেনোমের সঙ্গে তাদের জেনোমের একটি তুলনা করা হয়৷ তাতে দেখা যায়, শতায়ুদের সবার জিনগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সমরূপতা আছে৷

বয়সজনিত রোগের জন্য যে জিন দায়ী, তার কার্যকারিতাও কমিয়ে দেয় আয়ু নির্ধারক জিন৷ গবেষক দলের অন্যতম পুরোধা ড. টমাস পার্ল বলছেন, ‘‘এখন যদি কেউ বলেন, বয়স হলেই রোগ-ব্যাধি বাসা বাঁধে শরীরে৷ তা নিয়ে কে বাঁচতে চাইবে৷ আমি বলবো, এটা সত্যি নয়৷ শতায়ুদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আয়ু নির্ধারক জিন কার্যকর থাকলে রোগ-ব্যাধির আশঙ্কা কমে যায়৷''

১৯৯৫ সালে এই গবেষণা শুরু হয়ে শেষ হলো কেবল৷ প্রথমবারে শুধু ককেশীয়দের ওপরই চালানো হয় এই গবেষণা৷ এরপর মঙ্গোলয়েডদের ওপর বিশেষ করে জাপানিদের নিয়ে এই গবেষণা চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে৷ কারণ জাপানেও শতবর্ষী লোকের সংখ্যা অনেক৷ মজার ব্যাপার হলো, যুক্তরাষ্ট্রে শতায়ু মানুষের অধিকাংশই নারী৷ এর হার ৮৫ শতাংশ, বাকি ১৫ শতাংশ পুরুষ৷ এই বিষয়ে গবেষক দলের অন্যতম প্রধান ড. পলা সেবাস্টিয়ানি বলেন, ‘‘এতে বোঝা যায়, বার্ধক্যে রোগ প্রতিরোধে পুরুষদের চেয়ে নারীরা বেশি সক্ষম৷''

তবে ধূমপান, মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান আর অতিভোজন করে জিনের কল্যাণে শতায়ু হওয়ার আশা যদি কেউ করে থাকেন, তবে তাকে হতাশ হতে হবে৷ গবেষকরা বলছেন, জীবনযাপন পদ্ধতি অনেক কিছুই ঠিক করে দেয়৷ তাঁরা বলছেন, যাদের কোনো বদভ্যাস নেই, নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তারা বাঁচেন বেশিদিন৷

আয়ু জেনে নেওয়ার যে পদ্ধতিটি গবেষক দল বের করেছেন, তা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে চান না তাঁরা৷ সেবাস্টিয়ানি বলেন, আমরা তা ওয়েবসাইটে দিয়ে দেবো৷ যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে৷ নিজের জেনটিক কোড যাদের জানা আছে, তারা সাইটে গিয়ে কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে জেনে নিতে পারবেন তাদের সম্ভাব্য আয়ু৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়