1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মধ্যপ্রাচ্য

আহত ফিলিস্তিনিকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনা

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি আদালত বুধবার সার্জেন্ট ইলোর আজারিয়াকে অভিযুক্ত করেছে৷ আজারিয়া আহত এক ফিলিস্তিনি হামলাকারীকে গুলি করে হত্যার করেছিল৷ প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু অবশ্য তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানান৷

গত বছরের মার্চ মাসের ২৪ তারিখ দখলকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে আব্দুল ফাতাহ আল-শরিফ নামের ২১ বছর বয়সি ঐ ফিলিস্তিনি নাগরিককে হত্যা করা হয়৷ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, শরিফ ও আরেকজন ফিলিস্তিনি নাগরিক ইসরায়েলি এক সেনাকে ছুরি মেরে আহত করার পর, তাদের দু'জনকে গুলি করা হয়৷ এতে দু'জনই আহত হয়ে পড়ে যান৷ সেই অবস্থায় আবারও শরিফের মাথায় গুলি করেন সার্জেন্ট আজারিয়া৷ এতে তার মৃত্যু হয়৷ পুরো ঘটনাটির একটি ভিডিও সেই সময় অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে৷

তিনজন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্যানেল আজারিয়াকে অভিযুক্ত করেন৷ প্যানেলের পক্ষ থেকে রায় ঘোষণা করেন কর্নেল মায়া হেলার৷ তিনি বলেন, যেহেতু ঐ ফিলিস্তিনি কোনো হুমকি ছিলেন না তাই তাকে গুলি করার কোনো কারণ ছিল না৷ ‘‘তিনি (আজারিয়া) মনে করেছেন এই সন্ত্রাসীর (শরিফ) মরা উচিত তাই তিনি গুলি করেছেন'', বলেন কর্নেল হেলার৷ তবে আজারিয়ার পক্ষের আইনজীবীদের দাবি, শরিফের কাছে আত্মঘাতী কিছু থাকতে পারে সেই ভয় থেকে তাকে গুলি করেন আজারিয়া৷

বুধবার আদালতে প্রবেশের সময় আজারিয়া হাসিখুশি ছিলেন৷ কিন্তু রায় ঘোষণার সময় তাকে বিচলিত হতে দেখা গেছে৷ আর তার মা বিচারকের উদ্দেশে চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘‘তোমার নিজেকে নিয়ে লজ্জা পাওয়া উচিত৷''

আজারিয়াকে কতদিনের জন্য কারাগারে থাকতে হবে তা জানা যাবে ১৫ জানুয়ারি৷ তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে৷ তবে শরিফের বাবা ইউসরি আল-শরিফ আজারিয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চেয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘ইসরায়েলের কারাগারে আমাদের সন্তানেরা একই দায়ে যে শাস্তি পেয়ে থাকে তার ক্ষেত্রেও সেটাই হওয়া উচিত৷''

এদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু আজারিয়াকে ক্ষমা করে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷ ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘‘আজকের দিনটি আমাদের সবার জন্য কঠিন ও বেদনাদায়ক – ইলোর ও তার পরিবারের জন্য আরও বেশি৷ আমি ইলোর আজারিয়াকে ক্ষমা করে দেয়া সমর্থন করছি৷'' প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগডোর লিবারমানও একসময় আজারিয়াকে ক্ষমা করে দেয়ার পক্ষে ছিলেন৷ তবে মে মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করা লিবারমান বুধবার রায় ঘোষণার পর বলেন, তিনি রায়ের সঙ্গে একমত না হলেও সেটি মানা উচিত৷ ‘ইসরায়েলি ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট'-এর আমিচাই কোহেন বলেন, ‘‘আপনি যদি চান বিচার ব্যবস্থার প্রতি সবার আস্থা জন্মাক তাহলে আপনাকে এই ধরণের রায় দিতে হবে৷ পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিবেশ দ্বারা আদালত প্রভাবিত হতে পারে না৷''

এর আগে ২০০৪ সালে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা এক ব্রিটিশ নাগরিককে হত্যার দায়ে একজন ইসরায়েলি সেনাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল৷

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

ডায়ানা বুট্টু টুইটারে লিখেছেন, হত্যাকাণ্ডের ভিডিও প্রকাশ হওয়ার কারণেই আজারিয়ার বিরুদ্ধে এই রায় দেয়া হয়েছে৷

একই বক্তব্য আহমেদ শিহাব-আলদিনের৷

তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, ভিডিও প্রকাশের আগেই তদন্ত শুরু করা হয়েছে৷

এদিকে, আজারিয়ার বিরুদ্ধে রায় দেয়া বিচারকদের প্রতি সহিংস হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় দু'জন ইসরায়েলিকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷

জেডএইচ/ডিজি (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন