1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

আস্থা গড়ে তুলতে আলোচনা অব্যাহত রাখবে ভারত ও পাকিস্তান

বৃহস্পতিবার নতুন দিল্লিতে ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসী হামলার পর, এই প্রথমবার, পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে একমত হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান৷

default

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব সালমান বশিরের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব সালমান বশিরের সঙ্গে এক বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও বলেন, একে অপরের সঙ্গে আস্থা গড়ে তুলতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে পরমাণু অস্ত্রে সমৃদ্ধ এই দুই প্রতিপক্ষ৷ তবে পরবর্তী পর্যায়ে আরো আলোচনা হবে কিনা - সে বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করেননি ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব৷

এদিকে, বৈঠক প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি বলেন, ‘‘আমি মনে করি, এর ফলে একটা ইতিবাচক প্রক্রিয়া শুরু হলো৷ পাকিস্তান বরাবরই ভারতের সঙ্গে সুস্পর্ক বজায় রাখতে ইচ্ছুক৷ তাই আবারো দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হওয়ায়, তাতে উভয় দেশই লাভবান হবে৷''

Pakistans Aussenminister Shah Mahmood Qureshi

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি

তবে দ্বিপাক্ষিক যে কোন আলোচনার প্রেক্ষাপটে, ভারতের মুম্বই হামলাকে টেনে আনার প্রচেষ্টাকে ‘ন্যায় সঙ্গত নয়' বলে তীব্র নিন্দা জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব সালমান বশির৷ এর উত্তরে ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও বলেন, ‘‘আলোচনায় সন্ত্রাসবাদকেই আমরা সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দিচ্ছি৷ আর একমাত্র তারপরেই অন্যান্য প্রসঙ্গগুলি নিয়ে আলোচনা করতে চাই আমরা৷''

অর্থাৎ, বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকে ভারত প্রাধান্য দিয়েছে সন্ত্রাসের ওপর৷ আর পাকিস্তান জোর দিয়েছে কাশ্মীর ইস্যুতে৷ পাকিস্তানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল বাসিত জানান, ‘সন্ত্রাস একটি আঞ্চলিক উদ্বেগের বিষয়৷ তাই এটি একইসঙ্গে আমাদেরও উদ্বেগ৷ কিন্তু, কাশ্মীর ইস্যু আরও গুরুত্বপূর্ণ৷ এই ইস্যুই যে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ককে সমস্যাবহুল করে তুলেছে৷ তাই এই ইস্যুকে অবহেলা করা যুক্তিসঙ্গত নয়৷'

উল্লেখ্য, মুম্বই-এ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়৷ ২০০৮ সালের ঐ হামলায় অন্তত ১৬৬ জন নিহত হয়েছিল৷ অবশ্য, এ বৈঠকের আগে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও জানান যে, শান্তি প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার পথ খোঁজাই হবে এই আলোচনার প্রধান লক্ষ্য৷

Gespräche Indien Pakistan Proteste

নতুন দিল্লি’তে ভারত-পাকিস্তান শান্তি আলোচনার বিরোধীতা করছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা

সে যাই হোক, বৈঠকের ফলাফল যে মাঝারি ধরণের হবে - তা আগেই ধরে নিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা৷ তাঁদের মতে, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া আলোচনা যদি চালিয়ে যাওয়া যায়, তবেই বৈঠকটি সফল বলে গণ্য হবে৷

স্বাভাবিকভাবেই ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শুধু এই দুটি প্রতিবেশী দেশের জন্যই নয়, আন্তর্জাতিক সমাজের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে৷ আফগানিস্তান ইস্যুতেও পাকিস্তান এবং ভারতের ভূমিকাকে অস্বীকার করতে পারে নি তারা৷ কারণ, আফগানিস্তানের রাজনীতিতে যে কোন পট-পরিবর্তন যে ভারত ও পাকিস্তানের ওপর সুদূরপ্রসারী ফল বয়ে আনবে - তা অনস্বীকার্য৷

প্রতিবেদক : দেবারতি গুহ

সম্পাদনা : আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়