1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

আস্থার ঘাটতি দূর করতেই সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফর

ভারতের প্রতি বাংলাদেশের আস্থার একটা ঘাটতি ক্রমশই বাড়ছিল৷ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় এসে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার প্রসারে যেভাবে একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, অন্য তরফে তা হয়নি৷ সেজন্যই সুষমার এ সফর৷

ঐতিহাসিক বন্ধনে আবদ্ধ ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আস্থার ঘাটতি রাতারাতি দেখা দেয়নি৷ এই দশকের একেবারে গোড়ার দিকে ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের মাটি যখন হরকত-উল-জিহাদ সংক্ষেপে হুজি এবং ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ আসাম সংক্ষেপে উলফার ভারত-বিরোধী জঙ্গি তৎপরতার বড় আখড়া হয়ে ওঠে, তখন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দিল্লির ক্রমাগত চাপে কান দেয়নি তৎকালীন বিএনপি সরকার৷ বরং বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়ে জামাতের ভারত-বিরোধিতা ওঠে তুঙ্গে৷ দু'দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময় নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়৷ চলতে থাকে ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের অবাধ অনুপ্রবেশ'৷ সংখ্যাটা দাঁড়ায় প্রায় ১২ লাখের মতো৷ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পড়ে চাপের মুখে, বিশেষ করে আসাম ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি৷ বলা বাহুল্য, ঢাকার ওপর দিল্লির অটুট আস্থায় টান পড়তে থাকে৷

চিত্রপটটা পাল্টে যায় ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর৷ হাসিনা সরকার কড়া হাতে ভারত-বিরোধী জঙ্গি শিবিরগুলি উৎখাত করে৷ ২৫ জন ‘মোস্ট-ওয়ান্টেড' জঙ্গিকে তুলে দেয় ভারতের হাতে৷ জঙ্গিদের সঙ্গে যারা হাত মিলিয়েছিল, হাসিনা রেহাই দেননি তাদেরও৷ যেমন উলফা জঙ্গি নেতা পরেশ বড়ুয়া এবং এ বছরের জানুয়ারি মাসে দু'জন বাংলাদেশি মন্ত্রীসহ ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে বাংলাদেশের আদালত৷ ভারত-বাংলাদেশের ৪,০০০ কিলোমিটার সীমান্তে ফিরে আসে শান্তির আবহ৷ নিয়মিত চলে সীমান্ত বাহিনীর ফ্ল্যাগ মিটিং৷ খোলা হয় সীমান্ত হাট৷

Sushma Swaraj

সুষমা স্বরাজ (ফাইল ফটো)

এত সব হওয়ার পরেও কিন্তু দ্বিপাক্ষিক জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দুটি প্রধান ইস্যু – তিস্তা নদীর জলবণ্টন সমঝোতা এবং ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত ইন্দিরা-মুজিব স্থলসীমা বা ছিটমহল হস্তান্তর চুক্তি মনমোহন সিং-এর ১০ বছরের শাসনকালে দিনের আলো দেখতে পায় না৷ এটা হাসিনা সরকারও মেনে নিতে পারে না৷ শুধু তাই নয়, তথাকথিত ভারত-তোষণ নীতিতে হাসিনা সরকারকে পড়তে হয় বিরোধী দলগুলির সমালোচনার মুখে৷ বাংলাদেশের জনমানসেও পড়ে এর বিরূপ ছায়া৷

মনমোহন সিং-এর সদিচ্ছার হয়ত অভাব ছিল না৷ কিন্তু জোট-ধর্ম পালনে এবং সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে মনমোহন সিং সরকার নীরব থাকতে বাধ্য হয়৷ তখন সেই কাজে বিরোধীতা করতে পিছু পা হয়নি আজকের বিজেপি সরকার৷ ভোটের সময় ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের' ফেরত পাঠানোর জিগির ছিল বিজেপির৷ কিন্তু কথায় আছে, প্রয়োজন বড় বালাই৷ সেটা মাথায় রেখে ক্ষমতা গ্রহণের পর মোদী সরকার তার বিদেশ নীতিতে বাংলাদেশকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চলেছে, যাতে প্রতিবেশী দেশে আর বৈরিতা মাথা না তোলে৷ কারণ বৈরিতা বাড়ার পরিণামে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব মার খাবে৷ আর সেই স্থান দখল করছে এবং করবে চীন৷ উল্লেখ্য, জুন মাসে শেখ হাসিনা বেজিং সফরে গিয়ে চট্টগ্রামে বিশেষ অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ অঞ্চল স্থাপনের সমঝোতা চুক্তিপত্র সই করে এসেছেন৷ এই সবই হচ্ছে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের আস্থার ঘাটতির ফলে৷

ভারত যদিও বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার, কিন্তু দিল্লি তার সবটুকু বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে না লাগানোয় বাংলাদেশে একটা পুঞ্জীভূত ক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ সেটা মোদী সরকারকে দূর করতে হবে৷ তাছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা না বাড়ালে ভারতের ‘পুবে-তাকাও নীতি' হোঁচট খাবে৷ যেহেতু দুটি ইস্যুই পশ্চিমবঙ্গ সংশ্লিষ্ট, তাই যেভাবেই হোক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিতেই হবে৷ তাঁকে যেন-তেন প্রকারেণ রাজি করাতেই হবে৷

তাই তো, ঢাকার বিমান ধরার আগে সুষমা স্বরাজ তাঁর আলোচ্যসূচি নিয়ে মমতার সঙ্গে ফোনে এক দফা কথা বলেছেন৷ মোট কথা, ভারতের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে সুষমা স্বরাজকে যা করতে হবে, তা হলো, তিস্তা ও স্থলসীমা চুক্তির আশু বাস্তবায়ন, বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ব্যবস্থার উদারীকরণ এবং অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের জিগির না তোলা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়